Main Menu

চলতি বছরেই খালেদার সাজা!

যে কোন মামলায় চলতি বছরই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিএনপি। আর শাস্তি হলেই আগামী সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন তিনি। সরকার পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি দুর্নীতির মামলাসহ ২৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই মামলাগুলো নিষ্পত্তির দিকে এগুচ্ছে। তবে সহজে খালেদা জিয়া হার মানবেন না বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা দাবি করেছেন। আইনীভাবেই সরকারের সঙ্গে মোকাবেলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এজন্য তিনি আইনজীবীদের বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার বিশ্বাস- রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা মামলাগুলো শেষ পর্যন্ত টিকবে না। সংশ্লিষ্ট একধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মামলাগুলো তড়িঘড়ি শেষ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তারেক রহমানকে এক মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপারসনের মামলাগুলোও দ্রুত গতিতে শেষ করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এ পরিকল্পনা কখনই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। সিনিয়র নেতাদের অযোগ্য করে নির্বাচন দিলে তাতে বিএনপি অংশ নেবে কিনাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এখনই এ নিয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি।

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করার জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলায় পরোয়ানা, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ বছর কারাদ-, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা এই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। খালেদা জিয়া সহ দলীয় নেতাকর্মীদের সকল রাজনৈতিক মামলা আইন দিয়েই মোকাবেলা করা হবে।

বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে সরকার জাল গুটিয়ে আনছে। আর শাস্তি হলেই আগামী নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন তিনি। তবে সহজে হার মানবেন না খালেদা জিয়া। আইনিভাবেই সরকারের সঙ্গে মোকাবেলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এজন্য তিনি আইনজীবীদের বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার বিশ্বাস- রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা মামলাগুলো শেষ পর্যন্ত টিকবে না। মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর রাজনীতিতে পুরোদমে ব্যস্ত হতে চান তিনি। সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রচলিত আইনে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিচার হলে খালেদা জিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। কিন্তু আমরা অশুভ শক্তির ইঙ্গিত পাচ্ছি। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে সরকার যে একদলীয় বাকশাল কায়েমের নীলনকশা করে যাচ্ছে, তা কখনই বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। মামলা মোকাবেলা করার জন্য যা যা করা দরকার খালেদা জিয়া তাই করবেন। এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বিএনপি চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশে বলেছেন, মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হলে এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। যেদিন তাকে সাজা দেয়া হবে সেদিন থেকেই সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠবে।

দলটির সিনিয়র নেতারা জানান, বিষয়ে মনোবল শক্ত করে বেশ নড়েচড়েও বসেছেন খালেদা জিয়া। কমিটি গঠনের কাজ কিছুদিনের জন্য স্থগিত রেখে মামলা নিষ্পত্তির কৌশল নিয়েই তিনি বেশি ভাবছেন তিনি। মামলা নিয়ে সরকারের অস্থিরতা ও তোড়জোড়কে নিজের এবং দলের জনপ্রিয়তা হিসেবেই দেখছেন তিনি। ভাবছেন, মামলা নিয়ে সরকারের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। দলের সিনিয়র নেতাদের অভিমান ভাঙিয়ে মামলার বিষয়ে নিয়মিত তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তার গ্রেপ্তার নিয়ে অযথা চিন্তা না করার জন্যও পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি সব আইনি লড়াইয়ের পরেও তার সাজা হলে, তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত বলেও তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যন তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে দলীয়ভাবে তার মামলা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন সিনিয়র আইজীবীকে সম্প্রতি তার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন খালেদা জিয়া। তাদের সঙ্গে মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতির খবর নেয়াসহ কীভাবে এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সে বিষয়েও আলোচনা করেন। তা ছাড়া কোন আইনজীবী কোন মামলা লড়বেন, কীভাবে কোন পথে এগোবেন এমনকি দলীয় নেতাদের মামলার নিষ্পত্তির বিষয়েও করণীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বিএনপিপন্থী আইনজীবী সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারপ্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক। এরপর রায়। যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাও উঠছে মহানগর দায়রা জজ আদালতে। গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া মামলাও চলছে সমানতালে। রায়ে ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কা থাকলেও মোটেও বিচলিত নন খালেদা জিয়া। হাল ছাড়তে নারাজ তার আইনজীবীরাও।

সূত্র মতে, আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মামলার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত। একই প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক নেতা। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো বিশেষ গতি পেয়েছে। পাশাপাশি দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদেরও চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতাদের এভাবে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় বিএনপির সর্বত্রই আতঙ্ক এবং হতাশা কাজ করছে।

এদিকে অপর এক সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার কাছে খবর রয়েছে তাকে ও তার ছেলে তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এরই অংশ হিসেবে তারেককে ইতোমধ্যেই একটি মামলায় দেয়া হয়েছে কারাদ-। এর ফলে তারেক রহমানের সংসদসহ সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকটাই ‘অনিশ্চিত’। আর এভাবেই দলটির সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনের অযোগ্য করে সরকার নির্বাচনের পথে এগুবে। এটা করতে যত বেশি দেরি হবে সরকার নির্বাচন করতে তত সময় নিবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের নানা হিসাব নিকাশ কষছে এখন থেকেই। নির্বাচনী আয়োজন নিজেদের অনুকূলে এনে ক্ষমতার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আরেকটি নির্বাচন করতে চায় তারা। তবে এর আগে যে কোনো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে বলে সূত্র জানায়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, সরকার রাজনৈতিকভাবে ম্যাডামকে হয়রানি করছে। এই কারণে একের পর এক মামলা সচল করছে। সেই সঙ্গে দুটি ট্রাষ্ট্রের মামলা ট্রাষ্ট আইনে করার নিয়ম থাকলেও অনিয়ম করেই দুদক আইনে মামলা করা হয়েছে। এই অবস্থায় সরকার তাকে যে কোন ভাবে শাস্তি দিতে চাইছে। সেটা দেওয়ার জন্য নানা কৌশল করছে।

তবে সরকারের এই চাপে তিনি মোটেই চিন্তিত নন। তার স্বাভাবিক কাজ কর্মে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। বার বার আদালতে যেতে হচ্ছে এটা তার নিরাপত্তা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেক সময় সমস্যা তৈরি করছে। এই অবস্থায় তিনি বিষয়টি মেনে নিয়েই আইনীভাবে এই সব মামলা মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খালেদা জিয়া ন্যায় বিচার পাবেন কিনা এটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, তারপরও মামলায় লড়তে হবে। সেই হিসাবেই খালেদা জিয়াকে নির্দোশ প্রমানে আইনজীবীরা কাজ করে যাচ্ছি।






Related News

Comments are Closed