Main Menu

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে মসজিদের ইমামসহ নিহত ২

নিউইয়র্ক থেকে এনা: বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউইয়র্কের ওজনপার্কে বন্দুকধারীর গুলিতে মসজিদের ইমামসহ ২ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশী মালিকানাধীন ওজনপার্কের ৭৭ স্ট্রিট এবং গ্যান্ডমোর এভিনিউতে প্রতিষ্ঠিত আল ফোরকান মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরার সময় মসজিদে থেকে মাত্র দুই ব্লক দূরে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হলেন আল ফোরকান মসজিদের ইমাম মাওলানা আলউদ্দিন আখঞ্জি এবং মসজিদের মুসল্লী তারা উদ্দিন। মসজিদের ইমাম মাওলানা আলউদ্দিন আখঞ্জি আল ফোরকান মসজিদেই জোহরের নামাজের ইমামতি করেছিলেন। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মসজিদ সংলগ্ন ৭৯ স্ট্রিট এবং লিবার্টি এভিনিউতে আসার সাথে সাথেই সন্ত্রাসীরা গাড়ি থেকে নেমেই হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি চালায় ইমাম আলাউদ্দিন আখঞ্জি (৫৫) এবং তার সাথে থাকা মুসল্লী তারা উদ্দিনের (৬৫) উপর। সন্ত্রাসীদের একটি গুলি ইমাম আলাউদ্দিন আখঞ্জির মাথার একদিকে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে তারা উদ্দিনের বুকও গুলি বেধ করে চলে যায়। গুলি খেয়েই দুই জন মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন। কে বা কারা পুলিশ কল করলে মুহূর্তের মধ্যেই এ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে ঁেপৗছে। ইমাম আলাউদ্দিন আখঞ্জিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুত আহত অবস্থায় তারাউদ্দিনকে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুরো এলাকা পুলিশ সিলগালা করে দেয়। স্থানীয় পুলিশ প্রিসেক্টের কমান্ডার মিডিয়াকে বলছেন, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। তবে গাড়ি থেকে নেমে যে গুলি করেছে সে স্প্যানিস হতে পারে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও পুলিশ এ ঘটনাকে হেইট ক্রাইম হিসাবে আখ্যায়িত করছেন না। অন্য কোন ঘটনার জের হিসাবেও এ নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। তদন্ত শেষ হলেই তারা স্টেটমেন্ট প্রদান করবেন বলে পুলিশ কমান্ডার এবং ডিটেকটিভ জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় ওজনপার্ক এলাকায় চরম উত্তেজনা এবং ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পুরো বাংলাদেশী কম্যুনিটি। তারা ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ করেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এটাকে হেইট ক্রাইম হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং কেউ কেউ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের জের হিসাবেও ঘটনা ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনায় পুরো নিউইয়র্কে মিডিয়া ব্যাপাকভাবে কাভার করছে। ঘটনার পর থেকে সব মিডিয়া কর্মীরা সেখানে অবস্থান করছেন এবং লাইভ প্রচার – প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তাদের পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইমাম আলাউদ্দিন আখঞ্জি মসজিদ থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে পরিবার- পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অন্যদিকে তারাউদ্দিন বাসাও মসজিদে থেকে মাত্র দুই ব্লক দূরে। ৭৯ স্ট্রিটে তিনি নিহত হন, ৮১ স্ট্রিটেই তার বাসা। ইমাম আখঞ্জির বাসাও ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ১ ব্লক দূরে ১০২ এভিনিউর ৮১ স্ট্রিটে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইমাম আখঞ্জি ৫ বছর আগে ইমিগ্রেন্ট হয়ে আমেরিকায় এসেছিলেন। মাত্র তিন বছর পূর্বে তার ৭ সন্তানের মধ্যে স্ত্রীসহ ৬ সন্তান আমেরিকায় আসেন। মৃত্যুকালে তারাউদ্দিনও স্ত্রী এবং ২ সন্তান রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ইমাম আলাউদ্দিন আখঞ্জির বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জের সোনারুঘাট উপজেলায় এবং তারাউদ্দিনের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বরে।

আরো উল্লেখ্য যে ২০০১ সালে বাংলাদেশী ও স্প্যানিশদের মারামারারি ঘটনার জের ধরেই সাংবাদিক মিজানুর রহমান কাজ থেকে ফেরার পথে এই ওজনপার্কেই ১১ আগস্ট সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। এক বছর পূর্বে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল ইসলাম।






Related News

Comments are Closed