Main Menu

বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোরআনের কোথাও মানুষ হত্যা করে জান্নাতী হওয়ার কথা উল্লেখ নেই দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি বলেছেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষের মাঝে শ’খানেক বিপথগামী পবিত্র কোরআনের অপব্যাখ্যায় নেমেছে। তারা মানুষ হত্যা করে ‘ওকে’ করতে চাইছে জান্নাতের টিকেট। শুধু ইসলাম ধর্ম নয় বিশ্বে বিদ্যমান কোন ধর্মেই মানুষ হত্যার সমর্থন নেই। এখন যারা জঙ্গিবাদে মানুষ হত্যা করছে তারা আবার নিজেদের মুসলমান বলে দাবি করে। এতে সারা বিশ্বে আজ শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারীদের দেখা হচ্ছে সন্দেহের চোখে। যা লজ্জাজনক। এটা মনে রাখা উচিত জঙ্গিবাদ জান্নাতে নয়, জাহান্নামে যাওয়ার পথ। তাই বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান হবে না।

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নব-নির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুক্রবার (৫আগস্ট) বেলা ১১টায় শহরের বাহারছরা গোলচত্তরস্ত কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আরো বলেন, প্রথম থেকে আমরা বলে এসেছি দেশে আইএস নেই। জঙ্গিবাদে জড়িত এপর্যন্ত যারা ধরা পড়েছে তারা সবাই আমাদেরই কারো না কারো সন্তান। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা পাকিস্তানের দোসর হয়ে কাজ করেছিলেন তাদের প্রেতাত্মারা এখন শিক্ষত ছেলেদের কৌশলে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য চলমান যুদ্ধপরাধীদের বিচারকার্য প্রতিহত করা। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা। কিন্তু প্রতিবেশীসহ বিশ্বের নানা দেশ জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

বিশ্বনেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদসহ সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদে উস্কানিদাতা, অর্থদাতা সবাইকে সনাক্ত করা হচ্ছে। এদের শেখড় নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী। সরকারের এ কাজে একাত্মতা ঘোষণা করেছে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থীসহ সকল পেশার মানুষ। এভাবে সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের যেকোন প্রকল্প শুরুর আগেই নিন্দুকেরা নেগেটিভ মন্তব্য করে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির চেষ্টা চালায় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, সম্প্রতি এমআরপি প্রদানের আগে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল সময় মতো এটি দেয়া সম্ভব হবে না। এবং এমআরপি না পাওয়ার কারণে অনেক প্রবাসীকে দেশে ফিরে আসতে হবে। কিন্তু এমআরপির সময়মতো সরবরাহ সম্ভব হওয়ায় একজন প্রবাসীকেও দেশে ফেরত আসতে হয়নি। বরংঞ্চ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এখন ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করার চিন্তা করছে সরকার। ইতোমধ্যে হয়রানি রোধে অনলাইন আবেদন চালু করা হয়েছে এবং এভাবে এ সেবা আরো দ্রুততর করার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান।

পাসপোর্ট পাওয়া নাগরিক অধিকার, এটি সবার হাতে পৌছে দেয়া আমাদের অঙ্গীকার এ কথা উল্লেখ করে ডিজি বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লাখ মানুষকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সরবরাহ করা হয়েছে। পাসপোর্ট সরবারাহ দিয়ে এ পর্যন্ত সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা ও বিশ্বের ৬৫ দেশে স্বতন্ত্রভাবে পাসপোর্ট সরবরাহ অফিস কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ হাজি মুহাম্মদ ইলিয়াছ, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, টেকনাফ-উখিয়া আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদি বক্তব্য রাখেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথসহ রাজনৈতিক, পেশাজীবি, আইনপ্রয়োগকারি সংস্থা ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে মন্ত্রী কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নব-নির্মিত ভবনের ফলক উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অধীনে বিগত ২০০৯ সালের জুন মাসে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রা শুরু করে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলার বিদেশ গমনেচ্ছুকদের জন্য হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে কাযর্ক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এটি ‘মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও ভিসা প্রকল্প’ ভুক্ত করা হয়। শুরু থেকেই কক্সবাজারের পাসপোর্ট প্রাপ্তির চাহিদা ছিল। ক্রমে বাড়তে থাকা এ চাহিদা মেঠাতে ধার করা ভবনে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। রাজস্ব আয় বাড়তে থাকায় তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয় নিজস্ব ভবনের।

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক আবু নাঈম মাসুদ জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অধীনে বিগত ২০০৯ সালের জুন মাসে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রা শুরু করে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলার বিদেশ গমনেচ্ছুকদের জন্য হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে কাযর্ক্রম শুরু হয়। রাজস্ব আয় বাড়ায় ২০১২ সালের জানুয়ারীতে ১৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অনুমোদন দেয় মন্ত্রনালয়।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাহারছরা গোলচত্তর মাঠের উত্তর পাশে তিন তলা বিশিষ্ট (প্রায় ৯ হাজার ৯৩৭ বর্গ ফুট) পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে বহিরগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত বিভাগ। গত ২০১৫ সালে শুরু হওয়া নির্মাণ কাজ চলতি বছর মার্চ মাসে পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার আগেই গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এ ভবনে পাসপোর্ট কার্যক্রমে সেবা শুরু হয়।






Related News

Comments are Closed