Main Menu

যুদ্ধাপরাধ: সাখাওয়াতের ফাঁসি, সাতজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় সাবেক সাংসদ সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদলত। অন্য সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে রায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে চারজন, দ্বিতীয় অভিযোগে আটজন, তৃতীয় অভিযোগে চারজন, চতুর্থ অভিযোগে পাঁচজন এবং পঞ্চম অভিযোগে ছয়জন আসামি ছিলেন।

রায়ে দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে আদালত বলেছে, সরকার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করতে পারবে।

আর মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস, মো. ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আব্দুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও মো. আব্দুল খালেককে দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

এছাড়া প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম অভিযোগে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আসামিদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাখাওয়াত ও বিল্লাল হোসেন রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি ছয়জনকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার চলে।

তাদের সঙ্গে মো. লুৎফর মোড়ল নামের আরেকজন এ মামলার আসামি ছিলেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বর্তমানে জাতীয় পার্টিতে থাকা সাখাওয়াত এক সময় ছিলেন জামায়াত নেতা। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। মাওলানা সাখাওয়াত নামে বেশি পরিচিত।

এই রায়ে ‘সন্তুষ্ট নন’ জানিয়ে সাখাওয়াতের আইনজীবী বলেছেন, তারা আপিল করবেন। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, এ রায়ে জাতি স্বস্তি পেল।

নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাবেন ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত আসামিরা। তবে পলাতকদের এ সুযোগ নিতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ২৫টি মামলার ৪৪ আসামির মধ্যে মোট ২৭ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হল।






Related News

Comments are Closed