Main Menu

শাহজালালের লাকড়ি তোড়া উৎসবে ভক্তদের ঢল

সিলেটে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে লাকড়ি তোড়া-র উৎসব পালিত হয়েছে। সাত শতাব্দি ধরে হযরত শাহজালাল (রহ) ভক্তরা দিনটি পালন করে আসছেন। প্রতি বছর ২৬ শাওয়াল দিবসটি পালিত হয়।
দিনটি উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকে শাহজালাল (রহ) মাজার অভিমুখে মানুষের ঢল নামে। ঐতিহাসিক এ উৎসবকে ঘিরে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ভক্ত আশেকানরা বিভিন্ন স্থান থেকে সকাল থেকেই মিছিল সহকারে দরগাহ এলাকায় জমায়েত হতে থাকেন। বিচিত্র সাজে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় মাজারকে ঘিরে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের স্রোত এসে এক হয়ে যায় মাজার প্রাঙ্গণে। জোহরের নামাজের পর বেজে ওঠে নাকাড়ার ধ্বনি। সেই সাথে জনসমুদ্র থেকে স্লোগান উঠে, শাহজালাল বাবা কি, জয়। লালে লাল, বাবা শাহজালাল। ৩৬০ আউলিয়া কি জয়।
তারপর সেই জনস্রোত নামে পথে। সবার লক্ষ্য শহরতলীর লাক্কাতুড়া চা বাগানের দিকে। চা বাগান সংলগ্ন একটি টিলা থেকে সংগ্রহ করা হয় জ্বালানি কাঠ ও লাকড়ি। পরে সেই লাকড়ি নিয়ে জনসমুদ্র ফিরে আসে আবার মাজার প্রাঙ্গণে। এভাবেই উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হয় লাকড়ি তোড়া উৎসব।
এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত-আশেকানবৃন্দ এসে যোগ দেন। যোহরের নামাজের পর রওনা দিয়ে আসরের নামাজের আগে ফিরে আসেন সবাই। এ সময়ে কারো পরনে ছিল লাল জামা, কারো মাথায় লালপট্টি। একহাতে লাল ঝাণ্ডা আর অন্যহাতে লম্বা দা। খণ্ড খণ্ড জনস্রোত দুপুরে পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা ও বয়সের ভক্ত আশেকানদের ভিড়ে এ সময় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো দরগাহ এলাকা। সবার সংগৃহীত কাঠ ব্যবহার করা হয় হযরত শাহজালাল (রহ) ওরসের শিরণীতে। আর এই প্রথা চলছে বছরের পর বছর। প্রতি বছরের ন্যায় আরবি বর্ষের শাওয়াল মাসের এ দিনটি শুধু লাকড়ি ভাঙ্গার উৎসব হিসেবেই পালিত হয় না, এর সাথে প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িত।
দিনটির আয়োজন প্রসঙ্গে শাহজালাল (রহ.) দরগাহের মোতাওয়াল্লি জানান, “শাহজালাল ভক্তরা বিগত ৭০০ বছর ধরে পালন করছেন দিবসটি। এবার দিনটির জন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। তাছাড়া নিরাপত্তার দিকেও কঠিন নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভক্ত আশেকানদের সংগ্রহ করা কাঠ ব্যবহার করা হবে শাহজালাল এর ওরসের শিরণীতে। ”
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ৭০০ বছর আগে সিলেট বিজয় দিবসের কয়েক দিন ২৬ শাওয়ালের এই দিনে আগে এক কাঠুরে আসেন হযরত শাহজালাল (রহ.) এর কাছে। কাঠুরে জানান- ঘরে তার বিবাহযোগ্য ৫ মেয়ে রয়েছে। সে কাঠুরে নিচু জাতের হওয়ায় কেউই তার মেয়েদের বিয়ে করতে চাইছে না। এ কথা শুনে শাহজালাল (রহ.) কাঠুরেকে সিলেট বিজয় দিবসে দরগায় আসার কথা বলেন।
পরবর্তী সিলেট বিজয় দিবসে সঙ্গী আউলিয়া,ভক্ত ও আশেকানরা আসলে শাহজালাল (রহ.) সবাইকে নিয়ে লাক্কাতুড়া বাগানে গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করেন। ফিরে এসে তিনি উপস্থিত ভক্তদের কাছে জানতে চান তারা আজ কি কাজ করেছে। উত্তরে সবাই বলেন তারা আজ কাঠুরিয়ার কাজ করেছে। এরপর শাহজালাল সবাইকে কাঠুরের দুঃখের কথা বললে উপস্থিত অনেক ভক্ত কাঠুরের মেয়েদের বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেখান থেকে কাঠুরে তার মেয়েদের জন্য বর পছন্দ করেন। এ ঘটনার পর থেকে সাম্য ও শ্রেণী বৈষম্য বিরোধী দিবস হিসেবেও দিনটি পালন করেন ভক্তরা।






Related News

Comments are Closed