Main Menu

শেষ জীবন জেলে কাটাতে হবে : ফখরুল

‘বঙ্গবন্ধুকে কূটক্তি করলে যাবতজীবন কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা’-এ আইনের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কথাও বলা যাবে না। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক নেতারা ধরেই নিয়েছি আমাদের শেষ জীবন জেলে কাটাতে হবে। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম কি ভূমিকা রাখবে?

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘আমার দেশ পড়তে চাই, মাহমুদুর রহমানের মুক্তি চাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বর্তমানে জঙ্গিবাদের কথা বলে প্রতিদিনই ১ থেকে ২ জনকে ক্রসফায়ের নামে হত্যা করা হচ্ছে। সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করে বন্দুকযুদ্ধের নামে মেরে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু কোনো সঠিক তদন্ত হচ্ছে। বরং এর ফলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে ভয় দেখানো ও গ্রেফতার বাণিজ্য ব্যাপক হারে হচ্ছে।

আবেগভরা কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, জেলা পর্যায় থেকে এসে ঢাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হকারি ও রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে গেলেই তারা বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেয়। কিন্তু তাদের বলছি, কোন দল কি করলো সেটা দেখার বিষয় এখন নয়। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে আমাদের সকল দ্বন্ধ ভুলে একমত হতে হবে এবং আমাদের একমতের ভিত্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক দলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক পরিসর অনুপস্থিত। কারণ বাইরে গিয়ে কেউ কোন কথা ও প্রতিবাদ করতে পারবে না। আর যে কথা বলবে তাকেই জেলে যেতে হবে।

পল্টন ময়দান ক্ষমতাসীনরা দখল করে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পল্টন ময়দান আগে যেমন ছিল এখন আর তেমন নেই। পল্টন ময়দান এখন স্টেডিয়ামে পরিণত হয়েছে। এই কাজ এইচ এম এরশাদ শুরু করেছিলেন, আর শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে, মুক্ত অঙ্গনে আমরা সভা-সমাবেশ করতাম, সেটাও আর নেই। এছাড়া মানিক মিয়া এভিনিউও আগের মত আর নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৩৫টি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হলো অথচ সাংবাদিকরা কোনো প্রতিবাদও গড়ে তুলতে পারলেন না। এর কারণ হলো বর্তমান প্রতিবাদ করার মত পরিস্থিতি নেই।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজির সভাপতিত্বে সভায় কবি ফরহাদ মাযহার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।






Related News

Comments are Closed