Main Menu

আনন্দের যাত্রায় পথে পথে ভোগান্তি

আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের টানা ৬ দিনের ছুটি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে শহর ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল আযহা পালিত হবে আগামী মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর)। সেই হিসেবে ঈদের বাকী আর মাত্র তিন দিন। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে অফিস শেষে নিশ্চিত ভোগান্তি জেনেও নাড়ীর টানে ঈদে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে আপনজনের সান্নিধ্য পেতে রাজধানী ছাড়ছে ৬০ লক্ষাধিক মানুষ। সড়ক, নৌ ও রেলপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব মানুষদের যাতায়াত করতে হবে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও সিটিজেন রাইটস্্ মুভমেন্টের তথ্যানুযায়ী নৌ পথে ২৫ লাখ, সড়ক পথে ২০ লাখ, রেল পথে ৪ লাখ, বিমান পথে ২ লাখ এবং বিভিন্ন পন্থায় ৯ লক্ষাধিক সহ মোট ৬০ লক্ষাধিক মানুষ এবার ঈদে যাতায়াত করবে। গতকাল টার্মিনালগুলো ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছে। টিকেট না পেলে বাড়ি যেতে নিশ্চিত ভোগান্তি জেনেও স্বজনদের সাথে ঈদ করতে বাড়ি ছুটছে ঘরমুখো মানুষ। তার উপর গাড়ির সিডিউলে ঘাপলাতো রয়েছেই। ৯টার গাড়ি কয়টায় ছাড়বে তা যেন কেউই সঠিক বলতে পারছে না। তবুও কোন সমস্যাই যেন ঘরমুখো মানুষকে রুখতে পারবে না। ঈদে যে কোন উপায়ে বাড়ি পৌছতেই হবে।

বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটছে মানুষ। ঈদ উপলক্ষে আগামী রোববার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ফলে টানা ছয় দিন ছুটি পেলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শেষ কর্মদিবসে ভোর থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন, বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটে ছিলো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে সড়কপথে মানুষের এই যাত্রা কতটা নির্বিঘ্নে হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সড়ক ও মহাসড়কের অনেক স্থানেই দেখা গেছে তীব্র যানজট।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের অচলাবস্থাঃ
কাটছেনা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের অচলাবস্থা। ২টি ঘাট বন্ধ থাকায় যানজটে আটকে আছেন কয়েকশ’ যানবাহন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখী হাজারো মানুষ। পাটুরিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটগুলো বন্ধ থাকায় পুরো দমে ফেরি চলাচল করতে পারছেনা। আর এ ঘাট সংকটের পাশাপাশি নদীতে স্রোতের কারণে ফেরি নোঙ্গর করতেও সময় লাগছে দ্বিগুণ। গত বুধবার ৩নম্বর ফেরি ঘাটটি চালু করার চেষ্টা করা হলেও, পরে তীব্র স্রোতের কারণে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এতে ১৮টি ফেরির মধ্যে ১৪টি ফেরি দিয়ে চলছে পারাপার। পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটের দু’পাড়ে আটকে রয়েছেন আট শতাধিক যানবাহন। এদিকে পদ্মার পানি না কমা পর্যন্ত ঘাট সংকট সমাধান সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি ঈদুল আজহা উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঈদ স্পেসাল সার্ভিস শুরু করছে। রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার পাঁচটি জাহাজ নিয়ে ১৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ এই সেবা চলবে।

মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট : যানবাহনের অত্যাধিক চাপ থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সহ দেশের প্রায় সকল মহাসড়কেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট মো. কামরুজ্জামান রাজ জানান, আসন্ন ঈদের কারণে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যানবাহনের অত্যাধিক চাপে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গরু ও মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের পাকুল্যা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আকবর বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশের প্রায় এক হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। যানজট নিরসনে কমিউনিটি পুলিশের ১ হাজার ২০০ সদস্য ভোর থেকে কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চন্দ্রা মোড়ে গিয়ে ঢাকা বিভাগীয় পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নুরুজ্জামান বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশকে রাস্তায় থাকতে বলা হয়েছে। এই দুই মহাসড়কে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পুলিশ সদস্য ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। যানজটে দীর্ঘ সময়ে আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। আবার কেউ কেউ বলছেন প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার কাছে এই দুর্ভোগ কিছুই না।






Related News

Comments are Closed