Main Menu

সালমান শাহের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সালমান শাহ (জন্ম: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১- মৃত্যু: ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬)বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৬ সালের এ দিন তিনি অকালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার মৃত্যুর এখনো কোনো কুলকিনারা হয়নি। প্রতিপক্ষ ও নিন্দুকরা তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও তার পরিবার ও ভক্তদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে থেকে কেয়ামত’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে তার চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে। প্রথম ছবির মাধ্যমেই সালমান তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর সুদর্শন চেহারা দিয়ে সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। স্বল্প সময়ের অভিনয় জীবনে সালমান শাহ ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত প্রতিটি ছবিই ব্যবসা সফল হয়েছে।

১৯৯৩ সালে সালমান শাহের প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায়। তার স্মরণে এ ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা আমাকে হিন্দি ছবি কেয়ামত সে কেয়ামত তক ছবিটি রিমেক করার প্রস্তাব দেয়। প্রথমে এ ছবির জন্য মৌসুমীকে চূড়ান্ত করি। এরপর ছবিটির জন্য আমি নতুন মুখ খুঁজতে থাকি। এরই মধ্যে নায়ক আলমগীরের সাবেক স্ত্রী খোশনুর ইমন নামের এক ছেলের খোঁজ দেন। তাকে দেখে আমার পছন্দ হয়। তারপর ওর নাম বদলে সালমান শাহ করে দেই। এ ছবিতে ও চমৎকার অভিনয় করে। ছবিটি সুপার-ডুপার হিট হয়। সালমানের স্মৃতি আমার চোখের সামনে এখনও জ্বলজ্বল করছে। সে আমার হৃদয়ে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে।’

চিত্রনায়ক ওমর সানী বলেন, ‘সালমান শাহ সত্যিকারের একজন অভিনেতা ছিল। পাশাপাশি ভীষণ ফ্যাশন সচেতনও। তার ফ্যাশনের স্টাইল বলিউড অভিনেতারাও পরবর্তীতে অনুসরণ করেছেন। তাছাড়া সালমান খুবই সরল মনের অধিকারী ছিল। তার এ গুণগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে সালমানের নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এছাড়া তারা ‘দেন মোহর’ ও ‘অন্তরে অন্তরে’ ছবিতেও মৌসুমী জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন। এ প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘সালমান শাহ খুবই বন্ধুত্বপরায়ণ ছিলেন। তাছাড়া কাজের ক্ষেত্রে তাকে সবসময় নিষ্ঠাবান থাকতে দেখেছি। সালমান শাহ মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সফল ছবি উপহার দিয়েছেন। তার মৃত্যুর পর দুই দশক কেটে গেছে। কিন্তু তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং দিন যতোই যাচ্ছে, তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা আরো বাড়ছে।’

তার প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন স্বরূপ চিত্রনায়ক শাকিব খান বলেন, ‘আমি সালমান শাহের একনিষ্ঠ ভক্ত। তার ছবি মুক্তি পেলেই দেখতে যেতাম। একবার এফডিসিতেও তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার যাওয়ার আগেই তিনি বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তাই তাকে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমি তার গেটআপ ফলো করেছি। তার মতো স্টাইলিশ হওয়ার চেষ্টা করেছি। এখনো তাকে অনুসরণ করে পথ চলছি। তাছাড়া সময় পেলেই এখনো আমি সালমান শাহের ছবি দেখি। তিনি কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে আছেন। তার জায়গা অন্য কেউ নিতে পারবে না।’

সালমান শাহ ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নানার বাড়ি সিলেটে দাড়িয়া পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বিটিভিতে শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে- ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নাই’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’ প্রভৃতি। এসব ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী, শাবনূর, শাবনাজ, বৃষ্টি, শাহনাজ প্রমুখ। এছাড়াও তিনি আটটি টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন। এগুলো হচ্ছে- ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফিরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘পাথর সময়’, ‘ইতিকথা’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ (টেলিছবি)।






Related News

Comments are Closed