Main Menu

সিরিজ জয়ের সাথে ওয়ানডেতে শততম জয় পেল টাইগাররা

শততম জয়ের সাক্ষী হতে গত বুধবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিরপুরের গ্যালারিতে এসেছিলেন প্রায় ২০ হাজার টাইগার সমর্থক। কিন্তু সমর্থকদের হতাশ করে টাইগাররা ম্যাচ হেরে যায় দুই উইকেটে। তবে শনিবার আর হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়নি লাল-সবুজ জার্সিধারী সমর্থকদের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই দারুণ প্রভাব বিস্তার করে ক্রিকেট খেলেছে টাইগাররা। আর তাতেই ধরা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের শততম জয়টি।

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ২৭৯ রান জড়ো করে টাইগাররা। ২৮০ রানের চ্যালেঞ্জটাও অনেক বড়। বিশাল এই চ্যালেঞ্জ পাড়ি দেয়া আপাতত আফগানিস্তানের পক্ষে দুঃসাধ্য। যদিও যোদ্ধা জাতি তারা। শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চায়।

কিন্তু ইনিংসের শুরুতেই বড় ধাক্কাটি খেয়ে গেলো আফগানরা। বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদকে সরাসরি বোল্ড করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরালেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আফগান ইনিংসে আঘাতটি হানলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার করা গুড লেন্থের বলটি জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে যান শাহজাদ। কিন্তু ব্যাট আর প্যাডের মাঝে রাখেন বিশাল একটি গ্যাপ। সুতরাং, বলটি ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানলো স্টাম্পে।

আফগানদের দলীয় ৫ রানে পড়লো প্রথম উইকেট। শাহজাদ ৭ বল খেলে ফেরেন শূন্য রানে। এরপর অবশ্য নওরোজ মোঙ্গল আর রহমত শাহ মিলে বিপর্যয় কাটানোর ইঙ্গিত দিযে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করেন। দু’জন মিলে গড়ে ফেলেন ৪৭ রানের জুটিও।

এরপরই আট বছর পর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া মোশাররফ হোসেন রুবেলের ঘূর্ণি ফাঁদ। নওরোজ মোঙ্গলকে ফেলেন লেগবিফোরের ফাঁদে। এরপর তার বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাট তুলে দেন হাশমতুল্লাহ শহিদি। ৫২ রানে বসিয়ে রেখেই দুই উইকেট তুলে নেন রুবেল

হাশমতুল্লাহর আউটের পর আফগান অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই হলেন দুর্ভাগ্যের শিকার। ১৭তম ওভারে রহমত শাহের সঙ্গে একটি দ্রুত রান তুলতে গিয়ে সাকিব আল হাসানের সরাসরি থ্রোতে হলেন রানআউট।

এরপর অবশ্য রহমত শাহ আর সামিউল্লাহ সেনওয়ারি মিলে গড়েন ২৮ রানের জুটি। বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করছিল যখন আফগানরা, তখন তাসকিন আহমেদকে আক্রমণে নিয়ে আসেন মাশরাফি। জুটিটা ভাঙেন তাসকিনই।

তার একটি বাউন্সারে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগান সেনওয়ারি। বল গিয়ে জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের হাতে। বাংলাদেশের জন্য বিপদ হয়ে দেখা দিচ্ছিলেন রহমত শাহ। অবশেষে তাকেও ফেরালেন তাসকিন। তার বলে খেলতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দেন রহমত শাহ। ক্যাচটি তালুবন্দী করেন অতিরিক্ত ফিল্ডার নাসির হোসেন। ৭৩ বলে ৩৬ রান করে আউট হন রহমত শাহ।

আফগানদের অন্যতম ভরসার প্রতীক মোহাম্মদ নবীকে রিটার্ন ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠালেন মোশাররফ রুবেল। ১০ বলে মাত্র ৩ রান করেন নবি।

১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে জিতেছিল। প্রথম জয়টি এসেছিল আকরাম খানের নেতৃত্বে। এরপর একটু একটু করে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। কখনো আমিনুল ইসলাম বুলবুল কখনো বা খালেদ মাহমুদ সুজন কিংবা হাবিবুল বাশার সুমনের হাত ধরে।

আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ পাওয়ার পরই বাংলাদেশের ক্রিকেট আমূল বদলে যায়। ওই সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বে খেলা ক্রিকেটাররা। বড় বড় দলগুলোর বিপক্ষে হারতে হারতে টাইগাররা শিখেছিল কীভাবে নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা করতে হয়।

২০০৬-০৭ সালে সাকিব-মুশফিক-তামিমরা যখন দলভুক্ত হলেন। চিত্রনাট্য বদলের শুরু সেখানেই। এরপরই একটু একটু করে এগিয়ে, বর্তমানে মাশরাফির নেতৃত্বে টাইগাররা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দল হয়ে উঠছে। শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ৩১৫তম ম্যাচে এসে ২১তম সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটে শততম জয় এলো টাইগারদের একটু অপেক্ষায় রেখে।

১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল। এরপর এই সংস্করণে নিজেদের প্রথম জয় এসেছিল ১৯৯৮ সালে। আকরাম খানের নেতৃত্বে নিজেদের ২৩তম ম্যাচে ভারতের হায়দরাবাদে কেনিয়াকে পরাজিত করেছিল আকরাম বাহিনী। ওটাই ছিল প্রথম জয়। এরপর পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। এই কয় বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ৩১৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে। ৩১৪টি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৯৯টি ম্যাচ। গত রবিবার আফগানদরে বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে আসে ৯৯তম জয়টি।

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে জিতেছে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ২৯টি ম্যাচ। পরের অবস্থানে সাকিব আল হাসান ২৩টি, তৃতীয় অবস্থানে মাশরাফি বিন মর্তুজা ২১টি, মুশফিকুর রহিম ১১টি, মোহাম্মদ আশরাফুল ৮টি, খালেদ মাহমুদ ৪টি, আমিনুল ইসলাম ২টি এবং আকরাম খান ১টি ম্যাচে জয়ী অধিনায়ক।

এরমাঝে নিজেদের ২৫তম জয়টি এসেছিল ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওইদিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরেই জয়ের আনন্দে মাতেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। জয়ের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছিল ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট; বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। ৭৫তম জয় আসে ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর; ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মিরপুরে।






Related News

Comments are Closed