Main Menu

‘স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি রুখতেই জাতীয় চার নেতা হত্যা’

স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে জন্যই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (০৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে জেল হত্যা দিবসের স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫ আগস্টের শহীদ, প্রয়াত জাতীয় চারনেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার পর ২১ বছর এই বাংলাদেশ শোষিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশ ছিল একটা কারাগার। যখন থেকে জিয়া ক্ষমতায় এসেছে, দেশে প্রতি রাতে কারফিউ ছিল। কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিল জিয়া। নির্বাচনকে কালো অধ্যায় করেছিলেন তিনি। হ্যাঁ, না ভোটে কোনো গণতন্ত্র রাখেননি। ‘এরপর বিএনপি এলো, সে আমলে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়ন তো এ জন্যই হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা কথায়ই বিশ্বাস করি- আমরা স্বাধীনতা এনেছি। এই স্বাধীনতাকে আমাদের অর্থবহ করতে হবে। জাতির পিতাকে হত্যা করে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে, হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে হত্যা করে তারা ভেবেছিল আওয়ামী লীগের নাম-নিশানা মুছে দেবে। কিন্তু এদেশের মাটি ও মানুষের কথা বলার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সংগঠনটা চলে।

আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারাই জনগণকে পোড়াবে জনগণই তাদেরকে প্রতিহত করবে। জানুয়ারি থেকে মার্চ সরকার পতনের আন্দোলনের নামে টানা ৯২ দিন বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন বেগম জিয়া বলেছিলেন, সরকার উৎখাত না করে নাকি ঘরে ফিরবেন না-সরকার উৎখাত করতে পারেনি। জনগণই ঠেকিয়েছিল তাদেরকে। যারাই জনগণকে পোড়াবে জনগণই তাদেরকে প্রতিহত করবে। ভবিষ্যতেও তাদেরকে জনগণই ঠেকাবে।’

শেখ হাসিনা দৃঢ় কন্ঠে বলেন, এটা কোন উড়ে এসে জুড়ে বসা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর দল নয়, এই দলের শিকড় বাংলার মাটিতে প্রোথিত। এই দল আওয়ামী লীগকে হাজারো ষড়যন্ত্র করেও কেউ কোনদিন নিশ্চিহ্ন করতে পারে নাই। ইনশাল্লাহ আগামীতেও পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে এবং খালেদা জিয়া নিজেই নির্বাচনে আসে নাই। রাজনীতিতে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত তাদেরকেই (সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল) দিতে হয়।’ ‘অথচ খালেদা জিয়া তার ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিশোধ নিতে গেল জনগণের ওপর। জনগণ কেন ভুলের খেসারত দেবে,’ প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করব, এই স্বাধীনতার ইতিহাস, আমাদের অর্জনের ইতিহাস, গৌরবের ইতিহাস, বিজয়ের ইতিহাস- যে ইতিহাসকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল তা আগামী প্রজন্মের সবাই যেন জানতে পারে। নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারে। সেইভাবেই আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। জাতির পিতা এই দেশ দিয়ে গেছেন আমরা বিশ্ব সভায় এই দেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের পরিচালনায় স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন- আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি এবং মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও সাদেক খান।






Related News

Comments are Closed