Main Menu

তরুন প্রজন্ম ও সেলফি

সাগর কর্মকার জাবি প্রতিনিধি,

বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের অধিকাংশের কাছেই মোবাইল ফোন আছে। আর স্মার্ট ফোনের দামও এখন হাতের নাগালে। ফলে দেখা যাচ্ছে মানুষে মানুষে সামাজিক যোগাযোগ কমে গেলেও অনলাইন যোগাযোগটা বাড়ছে। ডিজিটাল ক্যামেরা, স্মার্টফোনে বিভিন্ন ভঙ্গিমায়, নানা ঢঙে সেলফি তুলে তা ফেসবুক, টুইটারে শেয়ার করে অন্যের মতামত পাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।

এখন তো সেলফি ছাড়া পৃথিবীর কোনোও কথা কল্পনাও করতে পারেন না অনেকে।ঘরে, বাইরে, রিকশায়, গাড়িতে, জলে, বাথরুমে,স্থলে অন্তরীক্ষে সেলফি তুলছেন মানুষ। অবস্থা এমন যে ভবিষ্যতে যেখানে সেখানে সেলফি তুলবেন না’ টাইপ সাইনবোর্ড দেখলেও কেউ অবাক হবেন না (উল্টো হয়তো অনেকেই সেই
সাইনবোর্ডের সামনেই সেলফি তুলবেন)।ছবিটি ভালো আসেনি, এজন্য মনখারাপের কোনো মানে হয় না।বিভিন্ন এডিটিং অ্যাপের সাহায্যে ছবিতে চোখের লাল ভাব দূর করুন ও কালার টোন বদলে দেখুন ছবিটাই বদলে গেছে।
নিজের প্রতিকৃতিকে ইংরেজিতে সেলফি বলে। কিন্তু ‌’সেলফি’
শব্দটা অনেক আগেই ছিনতাই করে নিয়ে গেছে স্মার্টফোন। গত বছর অক্সফোর্ড অভিধানের বর্ষসেরা শব্দ ছিল সেলফি। অক্সফোর্ড অভিধানে ‘সেলফি’ মানে বলা হয়েছে, একটি আলোকচিত্র যা নিজেরই তোলা নিজের প্রতিকৃতি, সাধারণত স্মার্টফোন বা ওয়েব ক্যামে ধারণ করা এবং তা যে কোনো সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করা হয়। অক্সফোর্ড অভিধানের বলা হয়েছে, ২০০২ সালে একটি অনলাইন ফোরাম প্রথম সেলফি শব্দটি ব্যবহার করেছিল। সেই শব্দটিই এখন দেশ কাল পেরিয়ে ফিরছে লোকে মুখে মুখে।

সেলফি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে নিজের মানসিক অবস্থা জানাতে নিজের তোলা ছবি আপলোড করে আমরা যাঁদের কোনোদিন দেখিনি তাঁদের কাছে প্রশংসা কুড়িয়ে মানসিক শান্তি পাই।কোন ছবি আপনি ফেসবুক বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন, কোনটি করবেন না, কোন ছবিটি আপনার
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির সঙ্গে বেমানান, সেসব বিষয়
বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
ইউরোপ আমেরিকার বারে বসে সেলফি তুলে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করার মধ্যে হয়তো কোনো অপরাধ
নেই। কিন্তু বাংলাদেশের যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো, তাতে আপনি বারে বসে কিংবা মদের গ্লাস হাতে সেলফি তুলে তা পোস্ট করবেন কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। অনেকে
প্রিয়জনের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে তোলা ছবি পোস্টকরে। কখনো কখনো সেসব ছবি আপত্তিকরও মনে হতে পারে। ফলে ছবি পোস্ট করার আগে বিবেচনায় রাখা দরকার,
ছবিটি অন্যের বিরক্তির কারণ হবে কি না। কেননা নিজের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তাতে যে মন্তব্য বা লাইক আসে তার ওপর ভিত্তি করে নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা ঠিক নয়। নিজের আত্মবিশ্বাস ও অতি- আত্মবিশ্বাসের মধ্যে সীমারেখা থাকতে হবে। অনেকে ঘন ঘন সেলফি পোস্ট করে আবার অযাচিতভাবে অন্য বন্ধুদের ট্যাগ করে। এটিও কখনো কখনো অন্যের বিরক্তির কারণ হতে পারে।

এভাবে অন্যকে খুশি বা বিরক্ত করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছি না। এ ছাড়াও সেলফি পোস্ট করার উদ্দেশ্য থাকে বেশি করে মন্তব্য ও লাইক পাওয়া। কিন্তু ছবি পোস্ট করার পর আশানুরূপ সাড়া না পেলে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।ভার্চুয়াল জগতে বন্ধু তৈরি করে এই প্রজন্ম নিজেকে একাকী করে তুলছে।

Share Button





Related News

Comments are Closed