Main Menu

জাতিসংঘে ট্রাম্প, সুষমার সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে বিশ্বনেতারা সমবেত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মত এই অধিবেশনের বিতর্কে অংশ নিতে সোমবার স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছান। পৌছানোর পর ট্রাম্প এক সৌজন্য সাক্ষাত করেন বিশ্বের ১৯৩টি দেশ থেকে আসা রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি থেমে যান ট্রাম্প এবং কথা বলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের পাশে থাকছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের সভার ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান।

শহীদুল হক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, কীভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা যায় তা যুক্তরাষ্ট্র দেখবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে তাও ট্রাম্প জানতে চান।’

জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভার পাশাপাশি ট্রাম্পের সঙ্গে ওই পার্শ্ববৈঠক হয় শেখ হাসিনার।

হাসিনা-ট্রাম্প আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, মিয়ানমার ইস্যুতে আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। অ্যান্ড উই সি হাউ ইট ক্যান বি রিজলভড’।

এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘জাতিসংঘের সংস্কার: ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধিবেশনে আগত ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা যোগ দেন। এ সভা শেষে ‘যৌন হয়রানি ও অপব্যবহার রোধ’ শীর্ষক এক বৈঠকে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ভারতের অপারেশন ইনসানিয়াত নিয়ে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে কথা হয় শেখ হাসিনার। একইদিন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টবগে এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে তার।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ব্যাপারে পাওয়া দুইটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করেছে। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা প্রায় সব মিশনেই সবসময়ই ভালো ইমেজ এবং বিশ্বাসযোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। শুধু একজন অপরাধীকে সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

‘জাতিসংঘের সংস্কার: ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমলাতন্ত্র ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ পুরোপুরি সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারেনি।’

সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থার প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেখভালের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা জাতিসংঘের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা এমন এক জাতিসংঘ চাই, যেখানে সারা বিশ্বের মানুষের আস্থা থাকবে। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করতে হবে এবং জাতিসংঘের মূল মিশনকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

Share Button





Related News

Comments are Closed