Main Menu

রক্তরোগ হিমোফিলিয়া’র লক্ষণ ও প্রতিকার

 কাজী মোসাদ্দেক হোসেন:
হিমোফিলিয়া একটি বংশগত বা জেনেটিক রোগ। তবে শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে কারো বংশে এ রোগের ইতিহাস নাও থাকতে পারে। হিমোফিলিয়াকে এক্স লিঙ্কড ডিজিজ বলে। মেয়েদের বেলায় এক্স+এক্স ক্রোমোজম আর ছেলেদের একটি মাত্র এক্স ক্রোমোজম ও একটি ওয়াই ক্রোমোজম থাকে বিধায় ছেলেরাই এই রোগে ভুগে থাকে। এটা মহান সৃষ্টিকর্তার মানুষ সৃষ্টির এক নিগূঢ় রহস্য।
হিমোফিলিয়া একটি জন্মগত রক্তরোগ যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার বিশেষ উপাদান থাকে না। ফলে শরীরের কোনো অংশে আঘাত পেলে আর রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে পারে না। বিশেষ করে দেহের ভেতরে জয়েন্ট, যেমন হাঁটু, কনুই, ইত্যাদির ভিতরে রক্তক্ষরণ হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
ছেলে বাচ্চার বয়স সাধারণত এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই এরোগ ধরা পড়ে। সামান্য কাটা-ছেঁড়ায় রক্ত বন্ধ হতে চায় না। সামান্য আঘাতে চামড়ার নিচে রক্ত জমে কালচে দাগ পড়ে। পায়খানা-প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, দুর্বলতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণই এ রোগের প্রধান লক্ষণ। অনেক সময় বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাড়ি কাটাস্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। শিশু যখন হামাগুড়ি দিতে শেখে, তখন অস্থিসন্ধিতে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণ হয়ে হাঁটু, কনুই, পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়। খৎনা করার পর অথবা দাঁত ফেলার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়া। মাংসপেশিতে যেমন উরু, নিতম্ব, তলপেটের মাংসপেশিতে রক্তক্ষরণ ও ব্যথা হওয়া। সামান্য আঘাতে অথবা আঘাত ছাড়াও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। হিমোফিলিয়া রোগীদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে বড় বড় অস্থিসন্ধিতে যেমন : হাঁটু, কনুই, পায়ের গোড়ালিতে রক্তক্ষরণ হয়। এতে জয়েন্ট ফুলে যায় এবং প্রচন্ড ব্যথা হয়। সঠিক চিকিৎসা না করালে একই জয়েন্ট বা গাঁট বারবার আক্রান্ত হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট জয়েন্টের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
হিমোফিলিয়া রোগের স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই । শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার যে উপাদানটির ঘাটতি আছে তা ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োজনমতো গ্রহণ করতে হয়। তা না পাওয়া গেলে রোগীকে সরাসরি রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
যেসব খেলাধুলায় ব্যথা পাওয়ার আশঙ্কা থাকে যেমন : ক্রিকেট, হকি, ফুটবলজাতীয় খেলা পরিহার করা। হালকা ব্যায়াম করা (যেমন : সাঁতার কাটা, হাঁটা ইত্যাদি)। ব্যথা নিরাময়ের জন্য অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ গ্রহণ না করা। তবে প্যারাসিটামল, আইব্রোফেন ও টোরাডল-জাতীয় ওষুধ গ্রহণ নিরাপদ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনক্রমেই ওষুধ গ্রহন করা যাবে না। জয়েন্টে বা মাংসপেশিতে রক্তক্ষরণ হলে ঘরে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। যেমন : আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে পাঁচ মিনিট বরফ দিয়ে চেপে ধরতে হবে । তারপর পাঁচ থেকে ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে পুনরায় পাঁচ থেকে ১০ মিনিট বরফের সেক দিতে হবে। রক্তক্ষরণ বেশি হলে ফ্যাক্টর ইনজেকশন দিতে হবে। হিমোফিলিয়া রোগীদের মাংসপেশিতে কোনো ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। হিমোফিলিয়া রোগির সমিতির সদস্যভূক্ত হয়ে পরিচিতি কার্ড সাথে রাখা এবং কর্মজীবনে নিরাপদ পেশা বেছে নিতে হবে।
তথ্যসূত্র : ডা: মো: সালাহ উদ্দিন শাহ, সহযোগি অধ্যাপক, হেমোটলোজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় ও চেয়ারম্যান, ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশন।

Share Button





Related News

Comments are Closed