Main Menu

মির্জাপুরে বংশীনদীর হারানো রুপ ফিরে পেয়ে খুশি জেলেরা

 টানা বৃষ্টি পানিতে নতুন সাজে সেজেছে বংশী নদী। এ যেন কালের ছলে বংশী চিরচেনা রুপ বদলে ফিরে পেয়েছে হারানো যৌবন। বর্ষার পরিষ্কার পানিতে বংশীনদী টলটল করছে। এতে প্রাণ ফিওে পেয়েছে বংশী। গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর বর্ষাকাল এলেই বংশী নদীর চিরচেনা রুপ পাল্টে যায়। নদীর পানিও ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠায় মানুষের কাছে চাহিদাও বাড়ে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নৌকার দিয়ে যাতায়াতও বেরে যায় ঠিক তেমনি বেরেযায় জেলেদের মাছ ধরা। অথচ বছরের অন্য সময় এ পানিতে কেউ পা রাখতেও চায় না। কারণ সদর উপজেলার মিল কারখানার বর্জ্য, গার্মেন্টসের পচাসুতা, ডাইয়িংয়ের বিষাক্ত রং ও ময়লা আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে মিশে নদীকে বিষাক্ত কওে তোলে। ফলে বংশী নদীর পানি হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। প্রয়োজনীয় কাজে মানুষ নদী দিয়ে যাতায়াত করলে নাক চেপে ধওে যেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এবারের বিপুল বর্ষণ, নদীতে পানি বৃদ্ধি, এসব মিলে এ মুহূর্তে বংশীনদীর দূষণের পরিমাণ কম। কারখানার বর্জ্য, ডাইয়িংয়ের বিষাক্ত রং, কারখানার দূষণ রুখতে পারলে নদীর পানির আরো উন্নতি হবে। সারা বছর কলকারখানার বর্জ্যের পানি শোষণ করে বিষাক্ত জলাধারে পরিণত হয়। তবে বর্ষাকাল এলে বংশী নদীর তার পূর্বের রুপ অর্থাৎ পরিপূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। পরিষ্কার পানিতে থইথই করে নদী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন মিল কারখানা সুয়ারেজ দিয়ে বর্জ্য পানি বংশী নদীতে প্রবেশ করছে। সদরের বিভিন্ন টেক্সটাইল মিল কারখানাগুলোর, ওয়াস ও ডাইয়িংয়ের বিষাক্ত রং নদীতে মিশলেও বর্ষার কারণে ময়লা পানি তেমন চোখে পড়ছে না। বছরের পুরো সময় বংশী নদীর পানির রং থাকে কালো ও দুর্গন্ধময়। পানির বিষাক্ত গন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়ে আশপাশের মানুষ। জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। (২৫অক্টোবর) রোববার বিকেলে ভাওয়াল মির্জাপুর সেতুর দুই পাশ ঘেঁষে নদীর বেড়িবাঁধে বসে অনেককে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। সবাই যেন মুগ্ধ চোখে বংশী নদীর পূর্ণ যৌবন অবলোকন করছেন। নদীর পরিষ্কার পানি আর কচুরিপনা ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা করছে। ঘুরতে আসা আরিফুল হোসেন বলেন, নদীর পানি দেখার জন্য মাঝে মাঝে এখানে আড্ডা দিতে আসি। (২৫অক্টোবর) রোববার কাজ না থাকায় বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে আসলাম। এখন নদীর পানিতে গন্ধ নেই এজন্য আরো বেশি ভালো লাগছে। আরিফুল হোসেনের মতো অনেকেই এসেছেন বংশী নদীর এই সুন্দর দৃশ্য দেখতে। সবুজ আন্দোলনের নেতা নজরুল হোসেন বলেন, নদীর দু’পাড় ঘিরে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য ছোট ছোট কল কারখানা, গার্মেন্টস গড়ে উঠেছে এগুলো বর্জ্য ও রং নদীর পানিতে মিশে দূূষিত করে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে হবে। যেন পরিবেশ দূষণ না হয়। দিন দিন কলকারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বাড়ছে সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি গড়তে না পারলে দূষণ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব না।






Related News

Comments are Closed