Main Menu

টঙ্গীতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের আত্মসমর্পণ

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী : গাজীপুর ও টঙ্গীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান স্বপন (৩২) বৃহস্পতিবার দুপুরে মেট্রোপলিটনের টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার ভুলকারচর গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক টঙ্গী পৌর সভার পরিছন্নতাকর্মী মৃত আব্বাস আলীর স্ত্রী রাশিদা বেগমের কোলে ১৯৮৮ সালে জন্ম হয় স্বপনের। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে বড় ছেলে স্বপন। শিশুকালে পিতার কর্মস্থলের সুবাধে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় বসবাস স্বপন ও তার পরিবারের। মেজো ভাই আলমগীর প্রাইভেটকার চালক, ছোট ভাই রাজ স্থানীয় একটি স্কুলের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র। দু-বোন বিবাহিত। সংসার জীবনে স্ত্রী ফুকুলি ও ১ ছেলে ৭ম শ্রেনীর ছাত্র রুমন (১৩) এর পিতা।
কতিথ আছে ৯০ দশকে টঙ্গীর এই মাজার বস্তি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আখড়া ছিলো। ২০০০ সালের পরপরই লেখাপড়া না করে ওই এলাকার মাদক সেবনকারীদের সঙ্গ নিয়ে স্বপন মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে সে। ২০১০ পরপরই মাদকের টাকা যোগাড় করতেই ওই এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং র‌্যাবের বন্দুক যুদ্ধে নিহত বাচ্চুর সেলসম্যান হিসেবে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। গত প্রায় ৩ বছর পূর্বে বাচ্চু বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি স্বপনকে। স্বপনের একক আধিপত্তে মাজার বস্তি এলাকায় শুরু হয় হিরোইন, ইয়াবা, গাজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা। বাচ্চু নিহতের পর আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরে আসে সে। পরবর্তীতে আইন শৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় সে আরো কোনঠাসা হয়ে পড়ে। পরিবার-পরিজন ছেড়ে পালিয়ে থাকা এই জীবনকে তার কাছে অভিশপ্ত মনে হচ্ছিল। তাই সে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে ধরা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মা ও এলাকার (হাজী মাজার বস্তির) মুরব্বীদের সাথে নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে সাক্ষাত করে এবং মাদক কারবার ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আগ্রহ প্রকাশ করে। স্বেচ্ছায় সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ৫৭ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিল মো. গিয়াস উদ্দিন সরকারে মাধ্যমে আত্মসমর্পণের আবেদন জানান। সে অনুযায়ী গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তার আবেদন গ্রহন করেন এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় টঙ্গী বাজারস্থ হোন্ডা রোডের মাথায় ৫৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় প্রাঙ্গনে কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন সরকারের উপস্থিতে এবং বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে মাহবুবুর রহমান স্বপন স্ব-শরীওে টঙ্গী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আশরাফুল ইসলাম, টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহ আলম, অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে বরন করে উপরোক্ত কর্মকর্তাদ্বয়।
পুলিশ জানায়, ২৩টি মামলায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয় বিজ্ঞ আদালত থেকে। পরোয়ানার আদেশপত্র টঙ্গী পশ্চিম থানায় এলে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। ইতিপূর্বে সে ৪ বার জেল খেটেছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করায় জিএমপি পুলিশের স্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
এসময় স্বপন বলেন, আমি অনুতপ্ত। আমার মতো মাদক সেবন বা ক্রয়-বিক্রয়ে কেউ যেনো জড়িয়ে না পড়ে। মাদক সেবন বা ক্রয়-বিক্রয়ে মানুষ সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়ে। কেউ তাদের মূল্যায়ণ করে না। আমি সুস্থ জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার নিয়ে কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন সরকারের সহযোগীতায় আত্বসমর্পণ করেছি।
এ প্রসঙ্গে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, স্বপন গাজীপুরের টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতেন। সেখানেই তিনি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলেও তার বিরুদ্ধে পৃথক ২৩ গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হবে।
টঙ্গী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো.আশরাফুল ইসলাম বলেন, আসামি স্বপন এখন অনুতপ্ত। আমাদের কাছে কথা দিয়েছে সে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চায়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং স্বেচ্ছায় সুস্থ জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগের আলোকে আমরা চেষ্টা করবো তাকে সর্বাত্বক সহযোগীতা করতে।






Related News

Comments are Closed