Main Menu

গাজীপুরে টায়ার কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ আরো এক জনের মৃত্যু ,আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের পুবাইলে স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড টায়ার কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরো একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ৬ জনে। গত শনিবার ঘটনাস্থলেই পাঁচজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। রোববার ভোরে অগ্নিদগ্ধ আব্দুল কাদের (৬৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের শরীরের ৯৫ শতাংশই শনিবারের আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। নিহত আব্দুল কাদেরের বাড়ি বরিশালের পাতার হাট উপজেলার কাদিরাবাদে। তার বাবার নাম আইয়ুব আলী মুনসি বলে জানাগেছে। তিনি গাজীপুর মহানগরের পূবাইল কলেজ গেট এলাকার টায়ার ফ্যাক্টরিতে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। এদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি রোববার সকাল থেকে কাজ শুরু করেছেন। সকালে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রোববার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। দমকল কর্মীরা ড্যাম্পিংয়ের কাজ করছিলেন। আশেপাশের লোকজন কারখাটি দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছেন। বয়লারটি বিস্ফোরণের পর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং কারখানার প্রাচীর ভেঙ্গে বয়লারটি পেছনের দিকে সরে গেছে। সামনের দিকের অংশ উড়ে কারখানার চাল ও অন্যান্য অংশ কয়েক শত ফুট দূরে ছিটকে পড়ে এবং গাছে আটকে আছে। বয়লারের সামনের অংশ ছিটকে অন্তত ৪/৫শ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টায়ার কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করার সময় হঠাৎ করেই বয়লারের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন ধরে যায় কারাখানাটিতে। এসময় পথযাত্রী স্কুল শিক্ষিকাসহ দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ৫জন মারা যায়। আহত ও দগ্ধ হয় আরো অন্তত ৮ জন। গুরুতর আহত তিন জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তিন জনের মধ্যে নিহত কাদিরও ছিলেন।
নিহতদের পরিচয় : কারখানার বয়লার বিষ্ফোরণে এ পযর্ন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২১), মাদারীপুর সদরের খামারবাড়ি এলাকার সোবহান তালুকদারের ছেলে আলহাজ (২৩), স্থানীয় বারইবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সিদ্দিকা জেবুন্নেসা (৩০), তিনি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার চানগাঁও গ্রামের দিলোয়ার হোসেনের স্ত্রী, কারখানার নিরাত্তাকর্মী স্থানীয় বসুগাঁও এলাকার আব্দুল মান্নানের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে সেলিম মোল্লা (৪৫), মাদারীপুরের ভাগুরিয়া এলাকার আ. রাজ্জাকের ছেলে কাওসার বিশ্বাস (৩৪) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার সকালে মারা যান কারখানার সুপারভাইজার আব্দুল কাদের (৫৫)।
জেলা প্রশাসক ও তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন : গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনা কবলিত কারখানা পরিদর্শন করেছেন। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাহেনুল ইসলামের নেতৃত্বে কমিটির সদস্য জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান সকালে পরিদর্শনে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় পরিবেশ অধিদফতরের গাজীপুর জেলার উপ-পরিচালক সোনিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম জানান, কারখানাটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলছিল। অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সোনিয়া সুলতানা জানান, ইতোপূর্বে এ কারখানাটিকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। পরে কারখানাটি চালানোর জন্য তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু শর্ত পূরণ করতে বলা হয়। গত ১৯ জানুয়ারি কারখানা পরিদর্শন করতে এসে দেখা গেছে ওইসব শর্তপূরণ হয়নি। পরে তাদের বিরদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় শনিবার বিকেলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন : ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস আরো একটি তদন্ত কমিটি করেছে। জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে ফায়ার সার্ভসের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জেলা সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ আকন্দকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বজলুর রহমান জানান, কারখানাটিতে পুরনো টায়ার পুড়িয়ে রাস্তা কার্পেটিং কাজে ব্যবহৃত পিচ ঢালাইয়ের তেল উৎপাদন করা হয়। বেশ কয়েকবার কারখানাটি বন্ধ করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন ছিল। এ ঘটনার পর কারখানা মালিক ইমান উদ্দিনসহ তার লোকজন পলাতক রয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পূবাইলের স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে টিনসেটের ওই কারখানার চাল ধসে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এ সময় কারখানার পাশ্ববর্তী জয়দেবপুর-পূবাইল সড়কে দিয়ে যাওয়ার সময় অটোরিকশা যাত্রী স্কুল শিক্ষিকাসহ ৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। অগ্নিদগ্ধ হয় গুরত্ব আহত আরো আরো ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোবার ভোরে আব্দুল কাদিও মারা যায়।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.