Main Menu

গাজীপুরে স্কুলছাত্র হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি

গাজীপুর প্রাতনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্কুলছাত্র গিয়াস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ২০ বছর পর তিন আসামিকে ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ফজলে এলাহী ভুঁইয়া বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় এসময় দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে একই আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— কাপাসিয়া উপজেলার শালদৈ এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে আতাউর রহমান আতা, হাসিম উদ্দিনের ছেলে আলম হোসেন ও কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. ইউসুফ। সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে আদালত ২৮ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে।

গাজীপুর জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মকবুল হোসেন জানান, গত ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার সালদৈ এলাকার মো. আব্দুল বাতেন বেপারীর ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিনকে (১৫) উক্ত আসামিরা অপরহণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল বাতেন বেপারী বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে দাবিকৃত মুক্তিপণ না পেয়ে আসামিরা গিয়াস উদ্দিনকে মেরে গুম করে রাখে। পরে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইউসুফকে গ্রেফতার করা হলে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তিন মাস পর কাপাসিয়ার মাধুলি বিল থেকে গিয়াস উদ্দিনের বস্তা বন্দি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘ শুনানীর পর ২০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত ওই তিন আসামির প্রত্যেককে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৩৮৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, ৩৬৫ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০১ ধারায় ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। এ মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় একই এলাকার জজ মিয়া ও তার স্ত্রী সমেজা খাতুন ওরফে বিলকিসকে খালাস প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পর আসামিদের স্বজনরা আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, রায় ঘোষণার সময় আতাউর ও আলম কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও ইউসুফ পলাতক রয়েছে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি জজ মিয়া ও তার স্ত্রী সমেজা খাতুন বিলকিসকে আদালত খালাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।






Related News

Comments are Closed