সাক্ষাৎকার : ‘নাটকের মান কিছুটা বেড়েছে’
দশ বছর বয়সে অভিনেতা হয়েছেন আবুল হায়াত। পরবর্তীতে দেশিয় নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি সাফল্যের সঙ্গেই বিচরণ করেছেন, এখনো করছেন। অভিনয়ের বাইরে পরিচালক হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন
প্রথমে আপনার অভিনয়শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প শুনতে চাই। আপনি প্রকৌশলী ছিলেন। সেই ক্যারিয়ার ছেড়ে কিসের টানে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন?
বেঁচে থাকার জন্য আমাদের যেমন খাবারের দরকার হয়, তেমনি প্রাণের তাগিদেও কিছু কিছু কাজ করে মানুষ। আমিও প্রাণের তাগিদেই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। ২২ বছর বয়সে আমি প্রকৌশলী হয়েছি। আর অভিনেতা হয়েছি ১০ বছর বয়সে। আমার ছেলেবেলাটা কেটেছে চট্টগ্রামের রেলওয়ে কলোনিতে। সেখানে একটি এমপ্লয়ার্স ক্লাব ছিল। বাবা ছিলেন সেই ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি। সেখানে প্রতি মাসে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ হতো। আমি বুঝতে শেখার পর থেকেই নাটক দেখি। সিনিয়রদের অভিনয় দেখে দেখে এক সময় আমারও মনে হতো আমি অভিনয় করি। বন্ধুদের নিয়ে মঞ্চ বানিয়ে আমি ১০ বছর বয়সে ‘টিপু সুলতান’ নাটকে অভিনয় করি। ইউনিভার্সিটিতে এসে তো আমি পুরোপুরি নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম। সে সময় বুয়েটে অনেক নাটক হতো। দেশের বিখ্যাত অভিনয়শিল্পীরা সেখানে কাজ করতেন। ’৬৯ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগ দিলাম। ’৬৯ থেকে ’৭১ আমি বেতার নাটক করেছি। মঞ্চে কাজ শুরুকরেছি ’৭২ সাল থেকে। ‘বাকি ইতিহাস’ শিরোনামের একটি নাটকে কাজ করে তো আপনি ইতিহাস হয়ে আছেন। হ্যাঁ, এটা এদেশে দর্শনীর বিনিময়ে প্রথম মঞ্চ নাটক। এটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন আলী যাকের। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমিই কাজ করেছিলাম। আর সেটাই আমার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এতে অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আমি একটি ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ পেয়েছিলাম। এটাই আমার অভিনয়ের প্রথম স্বীকৃতি। এজন্য এটা আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
আচ্ছা, প্রকৌশলী পেশা ছেড়ে নাটকে আসার পর আপনার কখনও কি মনে হয়েছিল যে, সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল?
এটা আমার কখনও মনে হয়নি বরং আমার মনে হয়েছিল নাটকে পুরোপুরি কাজ করাটা আরও আগেই দরকার ছিল। আর এতে করে হয়তো আরও ভালো ভালো কাজ করা সম্ভব হতো। সে সময় যদি পরিবেশটা আজকের মতো হতো যে, একজন অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেই তার জীবনের যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতে পারছে, তাহলে আমি আরও আগেই নাটকের সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়তাম। ’৯৯ সালে আমি প্রকৌশলী পেশাটা ছেড়ে দিয়েছি।
একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আপনি বা আপনারা যেমন নির্লোভ নির্মোহ ও অধ্যবসায়ী ছিলেন, এই প্রজন্ম তাতে নেই। তারা শিল্পী হওয়ার চেয়ে তারকা হওয়ারই শর্টকাট পথে হাঁটে এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
নতুন প্রজন্মকে আমি সব সময়ই একটি কথা বলি, আর তা হলো তারকা না হয়ে অভিনয়শিল্পী হওয়ার চেষ্টা করো। তারকা হারিয়ে যায় এক সময়। কিন্তু অভিনয়শিল্পীর বিনাশ নেই। একজন সুঅভিনেতার আয়ু তারকার চেয়ে দশগুণ বেশি। ভিজ্যুয়াল মিডিয়াতে কাজ করতে যাওয়ার আগে নিজেকে তৈরি করতে হবে। মঞ্চে শিখে তারপর টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করতে যাওয়া উচিত। এখনকার প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পীরা যারা টিভি নাটক ও সিনেমায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন প্রায় প্রত্যেকেই মঞ্চ থেকে তৈরি হয়ে গেছেন।
আমাদের টিভি নাটকের মান নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে নানা বিভাজনের গল্প শুনি। আপনার মতামত কী?
আমাদের টিভি নাটকের মান আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে আগে যে খারাপ ছিল, তা নয়। আবার এখনকার সব নাটকই যে মানসম্পন্ন এটাও বলা যাবে না। এই সময়ের কিছু নাটক দেখলে যেমন ভালো লাগে, আবার কিছু নাটক বিরক্তিতে ফেলে দেয়। তারপরও এই সময়ের কাজ নিয়ে আমার মতামত হলো এখনকার নাটক অনেক উন্নত। কারণ নাটকের বিষয়ে আগে সরকারের একটি খবরদারি ছিল, এখন সেটা নেই। এখনকার টেকনিক্যাল সাইড, পরিচালক, স্ক্রিপ্ট রাইটার অধিকাংশই মেধাবী। আমার মনে হয়, এখন ভালোই কাজ হচ্ছে।

হাতে মেহেদির টকটকে লাল রঙ থাকতেই শেষ বিদায়
ইরানের আগামী সপ্তাহের মধ্যে কঠোর আঘাত হানা হবে-ডোনাল্ড ট্রাম্প
টাঙ্গাইল সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৬ মেট্রিকটন চাল ট্রাক সহ লুটের চেষ্টা
সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই-প্রধানমন্ত্রী
গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে পলাতক আসামীসহ ৩৩ আটক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ আততায়ীর গুলি.অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন
আগামী ১৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ ছুটি ঘোষণা 