News Bangla 24 BD | হান্নান শাহের মৃত্যুতে বিএনপির ৪দিনের শোক - News Bangla 24 BD
News Head
 সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই-প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে পলাতক আসামীসহ ৩৩ আটক বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হলো হোয়াটসঅ্যাপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহজ ও কার্যকরী কাজ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ আততায়ীর গুলি.অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন আগামী ১৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ ছুটি ঘোষণা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ আজ বুধবার ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক ঈদুল ফিতরের আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা

হান্নান শাহের মৃত্যুতে বিএনপির ৪দিনের শোক


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম হান্নান শাহ-এর মৃত্যুতে চার দিনের শোক প্রকাশ করেছে ​দলটি। একই সঙ্গে খোলা হয়েছে শোক বই।

সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হান্নান শাহ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। হান্নান শাহের ছেলে শাহ রিয়াদুল হান্নানের বরাত দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য জানান। বলেন, আজ মঙ্গলবার ভোরে র‍্যাফেলস হার্ট সেন্টার হাসপাতালের মারা যান বিএনপির এই নেতা। তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

হান্নান শাহের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করবে। প্রতিদিনই রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। আগামী শুক্রবার সারা দেশে দোয়া মাহফিল করা হবে।

এদিকে আজ সকালে নয়াপল্টনে শোক বই খোলা হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ বই খোলা থাকবে। জ্যেষ্ঠ এ নেতার মৃত্যুতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

বিএনপি নেতারা জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর মহাখালী ডিওএইচএস এর বাসা থেকে আদালতে হাজিরা দিতে বের হওয়ার সময় হান্নান শাহ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে কয়েক দিন রাখার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে ১১ সেপ্টেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারও (এনজিওপ্লাস্টি) করা হয়েছিল।

হান্নান শাহ গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ফকির আবদুল মান্নান ১৯৬৫-৬৮ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তার ছোট ভাই শাহ আবু নঈম মোমিনুর রহমান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ছিলেন।

বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অধিকারী আ স ম হান্নান শাহ ১৯৬২ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের বিভিন্ন সেনানিবাসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্রিগেড কমান্ডার, চট্টগ্রামের মিলিটারি একাডেমির কমান্ডেন্ট, যশোর স্কুল অব ইনফ্রেন্টি অ্যান্ড টেকটিক্স এর প্রধান প্রশিক্ষক, পাকিস্তানের কোয়েটার আর্মি কলেজ অব ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিংক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন হান্নান শাহ।

১৯৮১ সালে ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা সদস্যের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাঙ্গুনিয়া থেকে প্রেসিডেন্টের মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসেন হান্নান শাহ।

এইচ এম এরশাদ সরকার হান্নান শাহকে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়। তিনি সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব(এপিডি) ও বিএডিসি‘র চেয়ারম্যানও ছিলেন।
তিনি ১৯৮৩ সালে বিএডিসির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।

রাজনৈতিক জীবনে শুরুতে ১৯৮৩ সালে হান্নান শাহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৯৮৬-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক(ঢাকা বিভাগ) এবং ১৯৯৩-২০০৯ সাল পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

১/১১ এর কঠিন সময়ে খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আ স ম হান্নান শাহ বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দলের সংস্কারপন্থী অংশের ‘কর্মকাণ্ড’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ এর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের সামনে এসে সাহসী কন্ঠে কথা বলে দেশ-বিদেশে দলের নেতা-কর্মীদের দৃষ্টি কাড়েন তিনি।

২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে আ স ম হান্নান শাহ দলীয় সবোর্চ্চ ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ষষ্ঠ কাউন্সিলেও তিনি এই পদে পুনর্নির্বাচিত হন।
দুইবার গাজীপুর-৪ আসন (কাপাসিয়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হান্নান শাহ। খালেদা জিয়ার সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আ স ম হান্নান শাহ কয়েকবার কারাগারে যান। একইভাবে বর্তমান সরকারের আমলেও তাকে কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মিথ্যা মামলা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ