পাট শিল্পকে আর অবহেলা করা যাবে না : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাট একটি সোনালী আঁশ। এক সময় পাট রফতানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হতো। এখনও পাট থেকে অনেক পণ্য তৈরি করা হয়। তাই পাট ও পাট শিল্পকে আর অবহেলা করা যাবে না।’
বৃহস্পতিবার (০৯ মার্চ)রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে পাট দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও পাট মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পাটের শাড়ি পড়ে আসেন। এ সময় তার হাতে পাটের ভ্যানিটি ব্যাগও দেখা যায়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এমাজউদ্দিন প্রামাণিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাটের শাড়ি না হলে এক সময় মেয়েদের বিয়ে হতো না। পাটের মক কিছু আমাদের কাজে লাগে। এখন আসবাবপত্রও পাট থেকে তৈরি হচ্ছে। তাই পাটকে অবহেলা করা যায় না।’
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘যেহেতু জাতির পিতা পাটকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তখন পাট রফতানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আসছিল। যদিও তা ব্যবহার হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। এই বৈষম্যটা জাতির পিতা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু পাটের প্রতি স্বাধীনতা বিরোধীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে। যার ফলে বিএনপির সময় আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ২৬ হাজার লোক বেকার হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসে পাটের গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়। ইতোমধ্যে ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে পাটের জন্ম রহস্য বের করা সম্ভব হয়েছে। অতি গোপনীয়তার সঙ্গে আমরা এ গবেষণা করেছিলাম। জন্ম রহস্য আবিষ্কারের ফলে পাটের উৎপাদন ও এর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।’
ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বনামধন্য একজন ব্যাংকের এমডি পদ নিয়ে কত বড় ষড়যন্ত্র করলেন। পদ্মা সেতুর কাজ পর্যন্ত বন্ধ করে দিলেন। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিশ্বব্যাংক সে সময় বলছিলো এই করলে টাকা দেবে, ওই করলে টাকা দেবে। কিন্তু আমি বলেছিলাম, মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে আমরা কোনও টাকা নেবো না। তখন আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলাম যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনও দুর্নীতি হয়নি। কানাডার আদালতে তা প্রমাণ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ ওই সময় আমার ও আমার পরিবারের ওপর দিয়ে যে কত অত্যাচার গেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। দেশের মানুষের মান মর্যাদা আমার ও আমার পরিবারের জন্য ক্ষুন্ন হবে না, অন্তত এটা আমি কথা দিতে পারি।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ব্যাংকের এমডি পদের লোভে যে দেশের এতো বড় সর্বনাশ করতে পারে, তার বিচার দেশবাসী করবে। বয়স হয়েছে এমডি পদ ছেড়ে দেবেন, এটাই নিয়ম।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে পাটকল বন্ধ করতে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ১৯৯৩ সাল থেকে গোল্ডেন হ্যান্ড শেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদায় দেওয়ার চুক্তিও করে। একই সময় বিশ্বব্যাংক ভারতকে পাটকল চালুর জন্য টাকা দেওয়ার চুক্তি করে। বিএনপির সময় বিশ্বব্যাংকের কথা ফেরেশতার মতো ছিলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের পাটকলগুলো একে একে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে দেশের সম্পদের বিকাশ ঘটাতে পাট নিয়ে কাজ শুরু করি। কারণ আমরা জানি প্রাকৃতিক নিয়মে জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে পাটের ভূমিকা আছে। ক্ষমতায় এসে খুলনার খালিশপুরসহ অনেক পাটকল আমরা চালু করেছি।’আজ প্রায় ৩৫ রকম পণ্য পাট থেকে উৎপাদন হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই অবমাননা: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 