News Bangla 24 BD | খালেদাকে রাজপথে দেখতে চান নেতাকর্মীরা - News Bangla 24 BD
News Head
 খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ার আহ্বান এমপি সেলিমুজ্জামানের গাজীপুরে জিয়াউর রহমান গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট জামালপুরকে হারিয়ে ফাইনালে বিকেএসপি নতুন এআই টুল নিয়ে এলো টিকটক ৬ মাসে ১০০ শয্যা হচ্ছে সব ৫০ শয্যার হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আয়াতুল্লাহ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিচ্ছেন যেসব বিশ্বনেতা টঙ্গীতে চাঁদাবাজি মামলায় আরও ৩ জন গ্রেপ্তার রাজনীতি করলে অভিনয় ছেড়ে দেওয়া উচিত : অভিনেতা আবুল হায়াত হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা

খালেদাকে রাজপথে দেখতে চান নেতাকর্মীরা


আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের দাবিতে প্রতিটি আন্দোলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজপথে দেখতে চাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপির বড়-ছোটো সব ধরনের নেতাকর্মীই রাজপথে নামতে গ্রেপ্তারের ভয় করছেন। অনেকের মনে আছে গুমের ভয়ও। তারা ভাবছেন ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মী বছরের পর বছর নিখোঁজ আছেন। তাদের অবস্থাও তেমন হতে পারে যদি আন্দোলন করতে মাঠে নামেন। তাই ভয়ে চুপসে গেছেন তারা।

এ অবস্থায় যদি খালেদা জিয়া আন্দোলনে রাজপথে নামেন তাহলে নেত্রীর প্রতি দরদ এবং পদ ঠিক রাখতে হলেও অনেক নেতাকর্মী রাস্তায় নামবেন। তখন আপনি আপানি আন্দোলন গতি পাবে এবং কাক্সিক্ষত সহায়ক সরকারের দাবিও পূরণ হতে পারে। এ মুহূর্তে তারা খালেদাকে রাজপথে নামানো ও সহায়ক সরকারের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। কুমিল্লার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কুর জয়ের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নিয়ে আপাতত গুরুত্ব কম দিচ্ছেন তারা। নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি অংশ লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তারা জানেন তারেক রহমান দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হবেন।

কিন্তু এ গ্রেপ্তারকে তারা পজিটিভ হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা তারেক জেলে থাকলে তখন সহায়ক সরকারের দাবির পাশাপাশি তার মুক্তির দাবিও জোরালো হবে। এর কারণ বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলে অসংখ্য কর্মী তারেকের ভক্ত। প্রিয় নেতা জেলে থাকলে ডর-ভয়ের তোয়াক্কা না করে মাথাচাড়া দিয়ে জেগেও উঠতে পারে এসব কর্মী। তবে তারা বলছেন, বর্তমানে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো খুবই দুর্বল। তাই এ বছর আন্দোলন ডেকে তেমন ফল পাওয়া যাবে না। তাই ২০১৮ সালের শুরুতে তারেক দেশে ফিরলে ভালো হবে এবং তখন সহায়ক সরকারে দাবিতেও মাঠে নামতে হবে। এর আগে দলের সাংগঠনিক ভিত সবল করা প্রয়োজন।

নেতাকর্মীরা মনে করছেন ২০১৫ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অবরোধ ডেকে খালেদা জিয়া দলীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাবন্দী থেকে ভুল করেছিলেন। তার থেকে যদি অবরোধ না ডেকে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি বা সমাবেশের মতো আন্দোলনের ডাক দিতেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে রাজপথে নেতৃত্ব দিতেন তাহলে আন্দোলন সফল হতেও পারত। সামনের আন্দোলনের ব্যাপারেও তাদের একই মত। বিগত অবরোধের মতো সহিংসতা না করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বা অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে রাজপথে খালেদার উপস্থিতির পক্ষে তারা।

নেতাকর্মীরা বলেন, একাদশ নির্বাচনের বাকি দেড় বছরের একটু বেশি। সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন এবং দল গোছানো দুটোর জন্য এই সময় খুব বেশি নয়। দুটো একসঙ্গে চালানো ঠিক হবে না। এবছর দল গোছানো এবং আগামী বছর সহায়ক সরকারের আন্দোলন করা উচিত বলে মনে করছেন এসব নেতাকর্মী। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশন নিয়ে এখন মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। সহায়ক সরকার পেয়ে গেলে নির্বাচন কমিশন এমনিতেই নিরপেক্ষ হয়ে যাবে। তাছাড়া বিএনপির শেষ ভরসা নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তো রয়েছেনই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি মনে করি সহায়ক সরকারের দাবিতে আগামী আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজে থেকেই সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তারপরও যদি নেত্রী (খালেদা জিয়া) রাজপথে কর্মীদের সঙ্গে থেকে নেতৃত্ব দেন তাহলে অবশ্যই আন্দোলনের ফল ভালো হবে। একই অভিমত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলামের। তিনি বলেন, নেত্রী রাজপথে থাকলে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা হয়ে উঠবে। জেল-জুলুম বা মামলা-হামলার ভয় ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ