News Bangla 24 BD | ঢাকার সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কে দিল্লি বেইজিং - News Bangla 24 BD
News Head
 সিরিয়ার রাজধানীর ক্যাফেতে বিস্ফোরণ, নিহত ৪ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের সম্মান ও মূল্যায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু খামেনির শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরান, শরিক হচ্ছে ৩০টিরও বেশি দেশ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ২৪৭৮৪ জন নজরুল বর্ষ উদ্‌যাপন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাদকবিরোধী অভিযানে দুজনের কারাদণ্ড পরকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন ৩ উপায়ে শিল্পী সমিতি নির্বাচন মেয়ের জন্য ভোট চাইতে এসে কাঁদলেন অভিনেত্রী আনোয়ারা অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার দাবি

ঢাকার সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কে দিল্লি বেইজিং


চলমান বিশ্বে পারস্পরিক প্রভাব বলয়ের প্রতিযোগিতায় ভারত ও চীন অবতীর্ণ হলেও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি গুরত্বপূর্র্ণ অবস্থানে দাঁড়িয়ে দুটি দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে সমানতালে। নিজ দেশের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এককভাবে প্রো-ইন্ডিয়ান বা প্রো-চায়না কোনোটাই হচ্ছেন না। আবার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেসব চুক্তি, সমঝোতা, যোগাযোগ বৃদ্ধি, শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে পেশাজীবী পর্যন্ত সফর যা প্রয়োজন তার সবই করছেন। বিশেষ করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির এ মূলনীতি সামনে রেখেই এগিয়ে চলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান আমার সংবাদকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্ততঃপক্ষে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কূটনীতিতে একটা ভারসাম্য আনতে চাইছেন। বিশেষ করে চীন এবং ভারতের ক্ষেত্রে। কারণ আগামী বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময়টাতে প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের উন্নয়নের প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশী আর চীনের রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি। তাই উন্নয়নের জন্য দুটি দেশকেই বাংলাদেশের দরকার। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শতভাগ প্রো-ভারতীয় বা শতভাগ প্রো-চীনা হতে চাইছেন না। কিন্তু উন্নয়নের জন্য ভারত ও চীনের সঙ্গে সমতালে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন।

এদিকে গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সফরকালে একক দেশ হিসেবে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। একই বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন ক্রয় করে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সামরিক সরঞ্জামও সরবরাহ করে চীন? এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীন। বাংলাদেশের সঙ্গে চীন প্রতিরক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বেইজিং সফর করেন। এরপর গত বছরের মাঝামাঝিতে ঢাকা সফর করেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যাং ওয়ানকুয়ান। গত আট বছরের মধ্যে এটাই ছিল প্রথম কোনো চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঢাকা সফর। এছাড়া শি জিনপিংয়ের অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

আগামী মে মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় এক অঞ্চল, এক পথবিষয়ক সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প, সড়ক ও সেতু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সামনে যোগাযোগ ও সমুদ্র অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দুদেশ আলোচনায় বসবে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানাতে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে চীনের প্রতিনিধির। সে ক্ষেত্রে সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাদানকারী প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালের ৬-৭ জুন ঢাকা সফর করেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭-১০ এপ্রিল দিল্লি সফর করেছেন। নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় স্থল সীমান্ত চুক্তিসহ দুই দেশের মধ্যে মোট ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

আর শেখ হাসিনার এবারের দিল্লি সফরে দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত সরকার ঋণ দেবে আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া দুদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর ভারত এখন অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর থেকে বেইজিং ঢাকার কাছে পাঁচটি মেরিটাইম পেট্রোল ভেসেল, দুটি করভেট, ৪৪টি ট্যাঙ্ক, ১৬টি জেট ফাইটার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে। চীন থেকে মিং ক্লাস সাবমেরিনও কিনেছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা চীন থেকে বরাবরই উচ্চতর পেশাদারিত্বের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ চীন থেকে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। এ সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় চীন।

অন্যদিকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আগে থেকেই ছিল। এর আওতায় দুই দেশের সেনাবাহিনী যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে সফর বিনিময় হয়েছে। এ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে এবার ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আর অনেক আগেই চীনের সঙ্গে এ ধরনের প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। এভাবেই দিল্লি ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সমানতালে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে ঢাকা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ