News Bangla 24 BD | জঙ্গিদের বিস্ফোরকের কাঁচামাল সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা - News Bangla 24 BD
News Head
 সবুজায়নের অঙ্গীকারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রয়টার্সের অনুসন্ধান রাশিয়াকে গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন আপনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত কি না, জানিয়ে দেবে এই ১৪ লক্ষণ সরকারি দল-বিরোধী দল একসঙ্গে উন্নয়নে কাজ করবে: ডিএনসিসি প্রশাসক অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণমন্ত্রী ৪ বছর পর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে মোসাদ্দেক, ৩ বছর পর ইয়াসির স্কুলছাত্রকে গুলির ঘটনায় ২৫ মামলার আসামি গ্রেপ্তার বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রাজশাহীতে আরডিএ পার্ক ও রেস্ট হাউজ উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী গাজীপুরে সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশী প্রতারক রুবেল গ্রেপ্তার, মালামাল উদ্ধার

জঙ্গিদের বিস্ফোরকের কাঁচামাল সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা


কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খালা বাহিনীর একের পর এক জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে বিপুল পরিমাণ সুইসাইডাল ভেস্ট, বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করছে। এসব বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও বোমা তৈরির কাঁচামালের রসদ দেশের বিস্ফোরক আমদানীকারকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে। আর এসব বিস্ফোরকের কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধে একাধিক গোয়েন্দা মাঠে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মতে জঙ্গি গ্রেফতার, আস্তানার সন্ধান ও উগ্রপন্থি সংগঠনে সদস্য রিক্রুট বন্ধের পাশাপাশি যে কোনো উপায়ে বোমা তৈরির উপকরণ সরবরাহকারীদের শনাক্তে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। দেশের জঙ্গি আস্তানাগুলোতে অভিযানের পর পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিপুলসংখ্যক বোমা ও বিস্ফোরক। জঙ্গিদের হাতে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির কাঁচামাল? আর কারা এসব বিস্ফোরকের জোগান দিচ্ছে তাও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে বেড়িয়ে আসছে। আর এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাগণ।

ইতিমধ্যেই দেশে বিস্ফোরকের কাঁচামাল (কেমিক্যাল) আমদানীকারক সন্দেহভাজন ১৫ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর এই সব কেমিক্যাল আমদানীকারকদের তালিকা ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। আর এই কেমিক্যাল আমদানিকারকগণ বাংলাদেশের জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত ও তাদের সহযোগিদের বোমার কাঁচামাল সরবরাহ করছে বলে গোয়েন্দার ধারণা করছে। আর বৈধ কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও যাতে কেউ ভুল তথ্য দিয়ে কোনো ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য কিনতে না পারে, সে ব্যাপারেও সতর্ক সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, দেশের কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা বিস্ফোরক তৈরীতে জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয় নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। আর নব্য জেএমবির হয়ে যারা সাম্প্রতিক সময়ে বোমা তৈরিকরে আসছিল তাদের মধ্যে দুজন সিলেট ও সীতাকুন্ডের অভিযানে মারা গেছে। আরও ২-৩ জনকে গোয়েন্দারা খোঁজ করছে বলে জানা গেছে। বোমা তেরির কাঁচামালের সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরকের আলামত পরীক্ষা করে দেখা যায়, দেশিয় উপাদান ব্যবহার করেই জঙ্গিরা বোমা তৈরি করছে। আর অধিকাংশ সরঞ্জাম চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করেছে জঙ্গির। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সারাদেশে ছয় শতাধিক কেমিক্যাল ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবসায়ী রয়েছেন।

এসব ব্যবসায়ীদের কয়েক মাস পরপরই চিঠি দেওয়া হয়, যাতে বেধ জিনিসপত্র বিক্রির আগেও ক্রেতার ব্যাপারে নানাভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। হয়তো জঙ্গিরা অনেক সময় সীমান্ত এলাকা থেকে কোনো না কোনোভাবে বোমা বা বিস্ফোরক তৈরির উপাদান সংগ্রহ করে। তবে কোনো ঘটনার পরপরই কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের দিকে সন্দেহের আঙ্গুল তোলা হয়, যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাঠে কাজ করেন এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, জেএমবির সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ বোমা বিশেষজ্ঞ সোহেল মাহফুজ। গত ২০১৩ সালের পর থেকে সে নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছে। সোহেল নব্য জেএমবির বেশ কয়েকজনকে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নুরুল ইসলাম মারজানের ভগ্নিগতি সাগর, মোশাররফ ওরফে সোহেল রানা ও শোয়েব।

এছাড়া, সিলেটের নাসিরপুর ও সীতাকুন্ডের আস্তানা নব্য জেএমবি তাদের বোমা তেরির ‘সেফ হোম’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। আর সোহেল মাহফুজের সঙ্গে সিলেটে নিহত মোশাররফের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এজন্য দিনাজপুরের মোশাররফ জঙ্গি সংগঠনে ছদ্মনাম হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেল মাহফুজের নামের প্রথম অংশটি নেয়। আর দেশীয় প্রযুক্তিতে সীতাকু- ও মৌলভীবাজারে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জেএমবির আস্তানায় পাঠানো হতো বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন। রাজধানীর বিমানবন্দর গোলচত্বরে বিস্ফোরণ ও র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলায় ব্যবহৃত বোমা ওই দুই আস্তানায় তৈরি করা হয়েছে বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন।

অপর এক সূত্র জানায়, গত ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিসানে হামলার আগে নব্য জেএমবি পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে ডেটনেটর এনে হাতবোমা তৈরি করত। আর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ৭৮৭টি ডেটোনেটরসহ নব্য জেএমবির আবু তাহের, মিজানুর রহমান, সেলিম মিয়া ও তৌফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের জানিয়েছে, জেএমবির বড় মিজান ও ছোট মিজানের নির্দেশে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিপুলসংখ্যক ডেটোনেটর ঢাকায় নিয়ে আসে। এসব ডেটোনেটর দিয়েই ঢাকায় জঙ্গিরা গ্রেনেড তৈরি করে। আর ওই সব গ্রেনেডই গুলশান হলি আর্টিসানে হামলায় ব্যবহার করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সম্প্রতি জঙ্গিদের ব্যবহৃত বোমার আলামত পরীক্ষায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘটনায় তারা বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে দেশীয় প্রযুক্তিতে বোমা তৈরি করছে। তবে বোমা তৈরির ক্ষৈত্রে তারা নতুন কিছু বিষয় সংযোজন করে। অধিকাংশ বোমার সঙ্গে টাইমার যুক্ত করছে। আগের তুলনায় বড় আকৃতির বোমা বানাচ্ছে। একে জঙ্গিরা নাম দিয়েছে ‘ফ্যামিলি সাইজ’ বোমা। এসবের একেকটির ওজন প্রায় দুই কেজি। দেশীয় প্রযুক্তিতে তারা তেরি করছে সুইসাইডাল ভেস্ট। প্রতিটি আস্তানায় প্রায় ৩-৪টি ফ্যামিলি সাইজ বোমা রাখা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ