News Bangla 24 BD | 'ঢাকায় নতুন খাল খনন হচ্ছে, পুরোনোগুলোও সংরক্ষণ হবে' - News Bangla 24 BD
News Head
 ‘যারা জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলে, তাদের নিজেদেরই কয়েকবার ক্ষমা চাওয়া উচিত’: সেলিম উদ্দিন টেকসই গাজীপুর গড়তে নাগরিক সম্পৃক্ততায় সিএলসিসি ও ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ড জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস অপপ্রচার ও নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে সাভারে যুবদলের শোডাউন যে দোয়া পড়লে নামাজে ‘মনোযোগ ও ইচ্ছা’ দুটোই বেড়ে যাবে প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সৌদি আরবের কন্যাসন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা জামান কাতারে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল সিলেটে তীব্র সমালোচনায় কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের দ্বিতীয় গান ‘মেঘ’

‘ঢাকায় নতুন খাল খনন হচ্ছে, পুরোনোগুলোও সংরক্ষণ হবে’


রাজধানীতে অপর্যাপ্ত খালের কারণে ভোগান্তির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, পুরোনো খাল সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন খাল খনন করা হচ্ছে। শহরে জলাধারগুলো সংরক্ষণেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার রাজধানীতে ২৭টি দেশের অংশগ্রহণে দুই দিনের ‘ঢাকা পানি সম্মেলন’ এর উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নগরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আমূল পাল্টে দেয়ার কথাও বলেন। তিনি জানান, চার বছরের মধ্যে মাটির নিচ থেকে পানি তুলে সরবরাহ বন্ধ করা হবে। ভূ উপরিস্থ পানিই ব্যবহার করা হবে শতভাগ।

রাজধানীতে পানি নিষ্কাশনে ২৬টি খাল থাকলেও এর মধ্যে ১৩টির কোনো অস্তিত্বই এখন নেই। সরকারি, বেসরকারি স্থাপনা তৈরি করে খালগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেই তৈরি হয় জলজট। সম্প্রতি এই ভোগান্তির পর খালের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় নতুন খাল খনন করা হচ্ছে এবং পুরাতন খাল সংস্কার ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বড় বড় আবাসিক এলাকায় জলাধার তৈরি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, দূষিত পানি নিষ্কাশনেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি তোলা চার বছরের মধ্যে বন্ধ করে দেয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে নিরাপদ পানি ভূ উপরিস্থ পানি থেকে নিশ্চিত করার কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। নাব্যতা হ্রাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে।’

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে সরবরাহ করা পানির বেশিরভাগই মাটির নীচ থেকে তোলা হচ্ছে। এতে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে এই ক্ষতি কিছুটা পূরণ হলেও বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কংক্রিটের কারণে পানির নিচে পানি খুব বেশি যেতে পারে না। ফলে ঢাকায় মাটির নিচে ফাঁপা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতিতে মাটির নিচ থেকে পানি তোলা বন্ধে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী শিল্প বর্জ্যে দূষিত হয়ে যাওয়ায় দূষণ দূরীকরণের পাশাপাশি পদ্মা ও যমুনা নদী থেকে পানি এনে তা রাজধানীতে সরবরাহের কাজ এগিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভূগর্ভস্থ পানির বদলে ভূ উপরস্থ পানি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’

পানি ব্যবস্থাপনার দিক থেকে বাংলাদেশে মূল সমস্যা হিসেবে আর্সেনিক, লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, ভূ উপরিস্থ পানি সংরক্ষণে অপ্রতুলতা, পানি সংরক্ষণ ও শিল্প বর্জ্যসহ নানা কারণে পানি দূষণকে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এসব সমস্যা মোকাবেলা করতে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কার্যকর করে যাচ্ছি।’

পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার ১০০ বছর মেয়াদী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লবণাক্ত পানিপ্রবণ এলাকায় পুকুরের পানি ফিল্টার করে লবণাক্ততামুক্ত করা হয়েছে। সাত হাজার পুকুর খনন ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬০০টি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৩২ হাজার চারশটি জলাধার সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

সারা বিশ্বে ১৬০ কোটি মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে ভূগছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ সাফল্যের সাক্ষর রেখেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে শতকরা ৮৪ শতাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এসেছে ৮৭ শতাংশ মানুষ। শহর এলাকায় শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে শতকরা ৯৯ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাষণ সুবিধার আওতায় এসেছে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কারও সঙ্গে বৈরীতা নয়’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েও নিয়েও নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও আমাদের নজর দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বে এই মুহূর্তে ২.৪ বিলিয়ন মানুষ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ ছাড়া নিরাপদ পানির অভাবে পৃথিবীতে এক মিলিয়ন মানুষ মারা যাচ্ছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে এক হাজার শিশু বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রাণ হারায়। আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি আগেও তুলে ধরেছি।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ