জোড়া লাগা শিশু তোফা ও তহুরাকে আলাদা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই শিশু সুস্থ আছে। তাদের পৃথক করার পর দুটো অপারেশন থিয়েটারে রেখে দুই দলে ভাগ হয়ে কাজ করছেন সার্জনরা। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তোফা–তহুরার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বেলা আড়াইটার দিকে অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তোফা-তহুরা যেভাবে জোড়া লাগানো ছিল, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘পাইগোপেগাস’। শিশু দুটোর অস্ত্রোপচারে বিভিন্ন বিভাগের ১৬ জন সার্জন যুক্ত আছেন।
শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘পাইগোপেগাস’ শিশু আলাদা করার ঘটনা এটিই প্রথম। এর আগে অন্যান্য হাসপাতালে তিন জোড়া শিশুকে অস্ত্রোপচার করে আলাদা করা হয়েছে, তাদের ধরন ছিল আলাদা।
চিকিৎসক রাজিউল হাসান, এস এম শফিকুল আলম, অসীত চন্দ্র সরকার, আশরাফুল হক, আব্দুল হানিফ ও কানিজ হাসিনা সাংবাদিকদের জানান, দুই শিশুর স্পাইনাল কর্ড, মেরুদণ্ড, পায়খানার রাস্তা ও প্রস্রাবের রাস্তা আলাদা করা হয়েছে।
গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন ইউনিয়নের কৃষক রাজু মিয়া ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগমের যমজ সন্তানের জন্ম হয় জোড়া লাগানো শরীর নিয়ে।
তোফা আর তহুরার পিঠের দিক থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত মেরুদণ্ডের হাড় সংযুক্ত ছিল। মাথা-হাত-পা আলাদা হলেও তাদের মলদ্বার ছিল একটি।
জন্মের আট দিনের মাথায় শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের মলদ্বার আলাদা করা হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা নিরীক্ষা ও প্রস্তুতির পর মঙ্গলবার সকালে তোফা ও তহুরাকে আলাদা করার অস্ত্রোপচার শুরু করেন চিকিৎসকরা।
সকালে অস্ত্রোপচার শুরুর পর হাসপাতালের পরিচালক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ঝুঁকি থাকলেও আমরা আশাবাদী। বাচ্চা দুটির মধ্যে তোফা বেশি সক্রিয়, আর তহুরা একটু কম সক্রিয়। আশা করছি অস্ত্রোপচারের পর তারা সুস্থ হয়ে উঠবে।”
বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ত্রিশজন চিকিৎসক দুটি দলে ভাগ হয়ে দীর্ঘ এই অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। অচেতন করাসহ প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শেষে একদল চিকিৎসক শিশু দুটির দেহ আলাদা করার কাজ শুরু করেন।
দুপুরে অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে শিশু সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আশরাফুল হক কাজল সাংবাদিকদের বলেন, তোফা ও তহুরার স্পাইনাল কর্ড ও মেরুদণ্ড আলাদা করতে পেরেছেন তারা।
“এ পর্যন্ত যতটুকু সম্পন্ন হয়েছে, তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিশু দুটি ভালো আছে।” দুই শিশুকে আলাদা করার পর দুপুরে চিকিৎসকদের অন্য দলটি শুরু করেন দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ।
এই অস্ত্রোপচারকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন সংবাদমাধ্যম কর্মীরা। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন দুপুরে অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে এত বড় অপারেশনের কথা ভাবাও যেত না।
“আপনারা বেশি করে প্রচার করুন। আমাদের চিকিৎসকরা কত বড় অপারেশন করতে পারে, আপনারা দেখান।”
দুই শিশুর বাবা মো. রাজু বলেন, তার বিশ্বাস তাদের দুই শিশু তাদের কাছে ফিরে আসবে। “আমিতো গরিব মানুষ। ক্ষেতে কাজ করি। কারো কোনো ক্ষতি করি না। খোদাও আমাগো দেখবে।”
অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন দুই শিশুর নানা শহীদুল ইসলাম ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী ভাই শাহাদাত। শহীদুল সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “আমার নাতিনদের জন্য দোয়া করবেন। দেশবাসীকে দোয়া করতে বলবেন।”
আলাদা হল জোড়া শিশু তোফা-তহুরা

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস
কাতারে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল সিলেটে
শহীদ মিনারে সংস্কৃতিজনদের শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত মুস্তাফা মনোয়ার
চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল
ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে প্রান্তিক কৃষক প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে ভোজ্যতেলসহ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী পাকিস্তান 