আজ কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড়: হতাশ বাস মালিকরা
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মঙ্গলবার ঈদে ট্রেনের পঞ্চম ও শেষ দিনের টিকিট বিক্রি হয়েছে।স্টেশনের কাউন্টারগুলোতে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কেটেছেন যাত্রীরা।অনেকে আবার টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির পঞ্চম দিন কমলাপুর স্টেশনে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে কমলাপুর স্টেশনের তেইশটি কাউন্টারে একযোগে টিকেট বিক্রি শুরু হয়।এদিন দেওয়া হচ্ছে ৩১ আগস্ট ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকেট।এবার কোরবানির ঈদে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ শেষ কর্মদিবস হওয়ায় সেদিনের টিকেটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।অগ্রিম টিকেট নেওয়ার জন্য আগের দিন থেকে লোকজন ভিড় করছেন কমলাপুরে। প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন।এদিন ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিভিন্ন গন্তব্যের ২২ হাজার ৪৯৬টি টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। ৩৫ শতাংশ টিকেট কোটার জন্য রেখে বাকি টিকেট কাউন্টারে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঈদের বিশেষ ট্রেনের ২ হাজার ৬০৬ টি টিকেটও কাউন্টারে পাওয়া যাচ্ছে।
নেত্রকোণার হাওর এক্সপ্রেসের টিকেটের জন্য গতকাল সোমবার সকাল থেকে স্টেশনে আছেন আতিকুর রহমান নঈম। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় কাঙ্খিত টিকেট পেয়েছেন তিনি।সারারাইত কষ্ট করছি। গরমের কারণে ঠান্ডা লাইগা গ্যাছে। কিন্তু এখন তো আনন্দ আর আনন্দ। এত কষ্টের পরে মনে হইতেসে সোনার হরিণ পাইছি। ঈদের আগে টিকেটের জন্য যে যুদ্ধ করা লাগে, টিকেট সোনার হরিণের চেয়ে কম না।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকেটের জন্য এদিন ভিড় ছিল বেশি। রাজশাহীর ধূমকেতু এক্সপ্রেসের টিকেটের জন্য সোমবার সকাল থেকে স্টেশনে অপেক্ষায় থাকার কথা জানালেন ওমর ফারুক। প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে টিকেট পেয়েছেন তিনি।অনেকদিন পর বাড়ি যাব। টিকেট পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে। ট্রেনে ঝুঁকি কম বলে টিকেটের জন্য এতো কষ্ট করি।অন্য বছর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ট্রেনের টিকেট কাউন্টারেও ভিড় কম থাকে।
তবে মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলের কাউন্টারগুলোতেও প্রচন্ড চাপ দেখা যায়। চট্টগ্রামের মহানগর প্রভাতীর টিকেটের জন্য সোমবার থেকে স্টেশনে অপেক্ষায় থাকার কথা জানালেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা উজ্জ্বল বড়ুয়া। সড়কপথের ঝামেলা এড়াতে ঈদের ছুটিতে ট্রেনে বাড়ি যাওয়ার কথা বললেন তিনি।পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা যেতে লাগে ৮-৯ ঘণ্টা। আর জ্যামে পড়লে তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে কষ্ট করে হলেও ট্রেনের টিকেট নিতে এসেছি।প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও যাত্রীদের অভিযোগ ছিল এসি টিকেট নিয়ে।
রাজশাহীর ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকেট চেয়েছিলেন লুৎফর রহমান নামের এক যাত্রী। তবে টিকেট পাননি তিনি।আমি সিরিয়ালের শুরুতেই ছিলাম। আমার সিরিয়াল নম্বর ১৫। কিন্তু দুটি এসি টিকেট চাইলে আমাকে দেওয়া হয়নি। আমরা সকাল থেকে দেখলাম রেলের লোকজন কাউন্টারের ভেতরে গিয়ে টিকেট কিনে নিচ্ছে। তাহলে আমরা টিকেট পাব কেমন করে? কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানালেন, গতবছরের চেয়ে এবার অগ্রিম টিকেট প্রত্যাশীর ভিড় বেশি বলে তাদের মনে হয়েছে। আর ৩১ আগস্টের টিকেটের জন্য এবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছে মঙ্গলবার।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “টিকেট তো নির্ধারিত। তাই সবাইকে প্রত্যাশিত টিকেট দেওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে লোকজন অভিযোগ করে বেশি। আমাদের যা টিকেট আছে, তার বাইরে তো আমরা দিতে পারব না।তারপরও অতিরিক্ত বগি যুক্ত করার মাধ্যমে যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করার কথা জানিয়ে সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, রেলের কারও পক্ষে ভেতরে গিয়ে টিকেট কেনা সম্ভব না।
কমলাপুর রেল স্টেশন ম্যানেজার জানিয়েছেন, টিকিটের স্বল্পতা থাকায় সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়।তিনি আরো জানান, এক সেপ্টেম্বরের টিকিট বুধবার পাওয়া যাবে।এদিকে, কয়েকটি রুটে যাত্রী না থাকায় বেশ হতাশ বাস কাউন্টার কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার ৩১ আগস্টের আগাম টিকিট দেয়া হয়। এ দিনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাই সকাল থেকে কাউন্টারের সামনে উপচে পড়া ভীড় ছিল টিকিট প্রত্যাশীদের। গত চার দিনের তুলনায় অনেক বেশি ভিড় ছিলো।সকালে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুররুহওয়ার পর থেকে বেশ উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেন যাত্রীরা। তবে কিছু যাত্রী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ায় হতাশ প্রকাশ করেন তারা।কেউ কেউ ১৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পেয়েছেন কাঙ্খিত টিকিট।
লাইনে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ করে যাত্রীরা বলেন, অব্যবস্থাপনার কারণে পেছনের লোকেরা আগে টিকিট কেটেছেন।কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, টিকিটের চাহিদা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। এত টিকিট দেয়া সম্ভব নয়। তবে যাত্রার দিন স্ট্যান্ডিং টিকিট দেয়া হবে। এছাড়া, এক সেপ্টম্বরের টিকিট আগামী কাল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-যশোর রুটে বাসের যাত্রীর ভীড় না থাকায় হাতাশ বাস কর্তৃপক্ষ।
আর অগ্রীম টিকিট দিতে শুরু করেছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।ট্রেন টিকেটের ২৫ ভাগ অনলাইন এবং মোবাইলের মাধ্যমে কেনার সুযোগ থাকলেও ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরুর পর ১৮ অগাস্ট থেকে এই টিকেট কিনতে পারছেন না কেউ।অনলাইন ও মোবাইলে টিকেট কিনতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন টিকেট কিনতে আগ্রহীরা। এই ২৫ ভাগ টিকেট কালোবাজারে চলে যাচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন তারা।
তবে এই টিকেটগুলো বাইরে বিক্রির সুযোগ নেই দাবি করে রেলের মহাপরিচালক বলছেন, ঈদের এই সময়ে টিকেট কিনতে চাপ বাড়ায় তাদের সার্ভার হ্যাং করতে পারে।ভুক্তভোগীরা বলছেন, গত ঈদুল ফিতরেও অনলাইন ও মোবাইলে টিকেট কিনতে পারেননি তারা। এবার কোরবানির ঈদের টিকেট গত ১৮ অগাস্ট ছাড়ার পর থেকে একই সমস্যা।প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কেনা যায়।
একই সময়ে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও আগাম টিকেট কেনা যায়।কমলাপুর থেকে বিভিন্ন রুটের ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিভিন্ন গন্তব্যের ২২ হাজার ৪৯৬টি এবং তিনটি বিশেষ ট্রেনের ২ হাজার ৬০৬টি টিকেট দেওয়া হয়েছে। এসব ১৫ ভাগ মোবাইলে আর বাকি ১০ ভাগ অনলাইনে কেনার সুযোগ রয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রেলওয়ের ই-সেবা সাইটে গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুেিটর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কেনার চেষ্টা করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা মো. এনামুল হক।টাকা কেটে রাখলেও কাঙ্খিত টিকেট পাননি তিনি।এনামুল বলেন, একাউন্ট ডেবিট করার এসএমএস ও মেইল কনফার্মেশন সাথে সাথেই আসে। কিন্তু টিকেট কনফার্মেশন লিঙ্ক ওপেন হওয়ার আগেই সাইটটি ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। টিকেটের মূল্য বাবদ ৭৪৫ টাকা ই-সেবাডটসিএনএসবিডি এর অনুকূলে টার্মিনেট দেখাচ্ছে, কিন্তু টিকেট তো পেলাম না।

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলসহ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী পাকিস্তান
আজ সারাদেশে ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সারা দেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু, যেসব শিশু পাবে এই ক্যাপসুল
আকস্মিক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
রামপুরা হত্যা মামলা ডিএমপির সাবেক কমিশনারসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
‘তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগের সাত কর্মীর লাশ’, দাবি গুজব: পুলিশ
ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান 