News Bangla 24 BD | দেশে নির্মিত যুদ্ধজাহাজ সংযোজনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: রাষ্ট্রপতি - News Bangla 24 BD
News Head
 সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি ঢাকা কেয়ার স্কুলের ৩১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত বগুড়ায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা, সেনাসহ হতাহত ১০ চূড়ান্ত হলো নকআউটের ৩২ দল, বিশ্বকাপ থেকে যাদের বিদায় সারা দেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু, যেসব শিশু পাবে এই ক্যাপসুল ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ অভিযান রাজশাহীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক আকস্মিক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

দেশে নির্মিত যুদ্ধজাহাজ সংযোজনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: রাষ্ট্রপতি


রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশে নির্মিত সর্ববৃহৎ যুদ্ধ জাহাজ ও সাবমেরিন টাগ নৌবাহিনীতে সংযোজনের ফলে এ বাহিনী আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অগ্রযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে খুলনাস্থ নৌঘাঁটি বানৌজা তিতুমীরের নেভাল বার্থে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘দুর্গম ও নিশান এবং সাবমেরিন টাগ হালদা ও পশুর’ আনুষ্ঠানিক কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের এ মাসেই নৌবাহিনীর জন্য সংগৃহীত ‘পদ্মা ও পলাশ’ নামে দুটি যুদ্ধ জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফ্লিটের যাত্রা শুরু করে। ‘অপারেশন জ্যাকপট’ এর মাধ্যমে সমুদ্রপথে হানাদার বাহিনীর রসদ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে পশুর নদীর অভিযান শুরু হয়। এরফলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে সে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।
কমিশনিংয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী নৌসদস্য বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহীদ ফরিদ, শহীদ মহিবুল্লাহ ও শহীদ আকতারউদ্দিনসহ সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৌবাহিনীর জোয়ানদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জাতির পিতা একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনের জন্য তার রূপকল্প বাস্তবায়নে ছিলেন বদ্ধপরিকর। সে কারণে শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ত্বরিৎ উন্নয়নে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ করেন। একইভাবে বর্তমান সরকার নৌবাহিনীকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ একটি মর্যাদাশীল নৌবাহিনীতে পরিণত এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন অবদানের জন্য সুপরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে নৌবাহিনীর গুরুত্ব অনুধাবন করে ৬দফা দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে নৌবাহিনীর সদর দফতর প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে তিনি নৌবাহিনীকে ‘নেভাল এনসাইন’ প্রদানের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সেই মহান নেতার দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আজ আমরা নিজস্ব শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।
সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি কার্যকর ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতার পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নৌবহরে দুটি আধুনিক সাবমেরিন ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, এয়ারক্রাফট ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শক্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়ে একটি নব অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
এছাড়া গণচীনে আরো দুটি করভেট নির্মাণের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডকে ফ্রিগেট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে খুলনা শিপইয়ার্ডসহ অন্যান্য শিপইয়ার্ডে দেশিয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণের মাধ্যমে এখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পটুয়াখালীর রাবনাবাদ এলাকায় ও ঢাকার খিলক্ষেতে পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি এবং চট্টগ্রামের পেকুয়ায় একটি সাবমেরিন ঘাঁটির নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে প্রথম ধাপ ছিল নৌবাহিনীর জন্য আকাশ সীমানা উন্মোচন। বর্তমান সরকারের আমলে দুটি হেলিকপ্টার, দুটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট নিয়ে গঠিত হয় নেভাল এভিয়েশন। নেভাল এভিয়েশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে বিভন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অত্যাধুনিক সমর ক্ষমতাসম্পন্ন আরোও দুটি হেলিকপ্টার এবং মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট শিগগিরই নেভাল এভিয়েশনে যুক্ত হবে। এ সকল এয়ারক্রাফট সংযোজনের ফলে নৌবাহিনী স্বল্প সময়ে বিশাল সমুদ্র এলাকায় টহল এবং পর্যক্ষেণে সক্ষমতা অর্জন করবে। যা সমুদ্রসীমা এবং সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ