বুকে ব্যথা হলেই আমরা সাধারণত ধারণা করি ব্যথাটা হৃদপিণ্ড থেকে আসছে এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বুকে ব্যথা শুধুমাত্র হৃদপিণ্ড থেকে নয়- খাদ্যনালী, ফুসফুস, পাকস্থলি এসব থেকেও উৎপন্ন হতে পারে। বুকে ব্যথার ধরন, স্থায়ীকাল, ব্যাপ্তি ভেদে আমরা বুঝতে পারবো এর উৎপত্তি কোথায়।
হৃদরোগজনিত বুকে ব্যথার ধরন:
সাধারণত বুকের মাঝখানে তীব্র ও অধিক্ষণ প্রচণ্ড ব্যথা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ডায়েরিয়া, সর্বোপরি একটা মৃত্যুভয় তৈরি হয়। অনেক সময় বিশ্রাম নিলেও এ ধরনের ব্যথা কমে না। তখন আমরা একে বলি `মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন`। তবে ৩০% ক্ষেত্রে মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন-এর রোগীদের বিশেষ করে বয়স্ক ও ডায়াবেটিকস রোগীদের বুকে ব্যথা অনুভুত হয়না। হৃদরোগজনিত বুকের ব্যথা সাধারণত হাত, ঘাড়, চোয়াল এ ছড়িয়ে পড়ে। উপরের দিকে উঠতে গেলে, ভারী জিনিসপত্র বহন, খাবার পর ভারী ব্যয়াম করলে সাধারণত এ ধরনের ব্যথার উদ্ভব হয়।
খাদ্যনালী সৃষ্ট ব্যথার সাথে হৃদরোগ জনিত বুকে ব্যথার পার্থক্য:
এই দুই ধরনের বুকে ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করাটা বেশ কঠিন। খাদ্যনালি সৃষ্ট ব্যথা সাধারণত পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যায়ামের সাথে তেমন সম্পর্ক নেই। প্রায়ই রোগীর ঘুম ভেঙ্গে যায় এই ব্যথায় এবং বুক জ্বালাপোড়া করে। কতক্ষণ এ ব্যথা থাকবে তার কোন সময়সীমা নেই যেখানে হৃদরোগজনিত ব্যথা সাধারণত ২-১০ মিনিট স্থায়ী হয়।
অন্যান্য কারণ :
ফুসফুসীয় কারণ : নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিয়েক্টসিস, যক্ষ্ম, ফুসফুসের ক্যান্সার,পাল্মোনারী ইনফারকশন, নিঊমথোরাক্স, রিউম্যায়েড আর্থ্রাইটিস।
বক্ষপিঞ্জর সৃষ্ট কারণ : মাংসপেশিতে টান, বুকের হাড় ভাংগন, স্নায়ুতে চাপ ইত্যাদি কারণে। এছাড়া ও যকৃত এ পুঁজ, পিত্তথলি ও পেটের ব্যথায় ও বুকে ব্যথা হতে পারে।
হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে কী করবেন :
প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, এটি হৃদরোগজনিত ব্যথা কি না। এ জন্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অবশ্যই কনসাল্ট করতে হবে। হার্টের কারণে ব্যথা হলে রক্ত সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ যেমন নাইট্রোগ্লিসারিন জিহ্বার নিচে দিলে হার্টে রক্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে বাড়ানো যায়। মনে রাখবেন, হঠাৎ কারও এ সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করা ঠিক হবে না। অনেকে এ অবস্থায় নিজে থেকে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খেয়ে নেন। পেটের সমস্যা থেকে এ ব্যথা হলে অ্যাসপিরিনে হিতে বিপরীত হবে। তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ ডাক্তার বা হাসপাতালে যেতে হবে।
হৃদরোগের চিকিৎসা :
এর চিকিৎসায় প্রথমেই প্রতিরোধের উপায়ের দিকে নজর দিতে হবে। হার্টডিজিজের রোগীদের দীর্ঘসময় এমনকি আজীবন এসপিরিন বা ক্লোপেডিগ্রিল জাতীয় ওষুধ খেতে বলা হয়। এসপিরিনে কারো কারো এসিডিটির সমস্যা দেখা দিলে এন্টিআলসারেন্ট ওষুধ খেতে হয়। এছাড়া হেপারিন জাতীয় ওষুধেরও প্রয়োজন হতে পারে। এ ওষুধ বাংলাদেশের সর্বত্র এমনকি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পাওয়া যায়। এছাড়া অন্যান্য ওষুধের সাহায্যে হৃদরোগের চিকিৎসা করা হয়।
হৃদরোগ চিকিৎসায় একটি বহুল ব্যবহৃত বাক্য আছে, তা হলো টাইম ইজ মাসেল। অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর বা ব্যথা শুরু হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যাওয়া যাবে তত হার্টের মাংসপেশির নেক্রোসিস বা ক্ষয় হওয়া রোধ করা যাবে। বলা হয় ৬-১২ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যেতে হয় ।
ডাঃ শাহ মো. এজাজ উল হক
মেডিকেল অফিসার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে-ইরানের স্পিকার
পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড উদ্বোধন
প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী
টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার
স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল
আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত 