হে নূতন, দেখা দিক আরবার, জন্মেরও প্রথম শুভক্ষণ। তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন সূর্যের মতন…..উদয় দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে। মোর চিত্ত-মাঝে, চির নূতনেরে দিল ডাক, পঁচিশে বৈশাখ, হে নূতন…।
আজ ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মজয়ন্তী। ১৮৬১ সালের আজকের দিনে কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের নোবেলজয়ী এই কবি। তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মা সারদা দেবী।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক বাঙালির মননে ও সৃজনে জ্যোতির্ময় এক প্রতীক। বাঙালির প্রাণের মানুষ কবিগুরু প্রায় একক প্রচেষ্টায় বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন। বিশ্বসাহিত্য আসরে তিনি মাতৃভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে বাংলা ও বাঙালিকে অনন্য এক মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। এ কারণে বাঙালির প্রাণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে রয়েছেন চিরভাস্বর। হবেনই বা না কেন? কোথায় নেই কবিগুরুর পদচারনা? একই সঙ্গে কবি, সংগীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ দেশ ও জাতিকে উজাড় করে দিয়েছেন। গানে, কবিতায়, নাটক-উপন্যাস ও গল্পে তিনি বাংলা এবং বাঙালিকে বাঙ্ময় করে বর্ণিল রঙে রাঙিয়ে গেছেন।
বাংলা সাহিত্যের রেনেসাঁ-পরবর্তী সময়ে আধুনিক যুগের সূচনা তার হাতে। তার কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক আজো সমানভাবে সমাদৃত ও বহুল পঠিত। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এদিকে বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন কবির জন্মদিনে আয়োজন করছে নানা অনুষ্ঠান। কবির জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। আজ ৮ মে রোববার বিকাল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি সচিব আক্তারী মমতাজ। এবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘একুশ শতকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাসঙ্গিকতা।’ এ বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য দেবেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা।
ঢাকা ছাড়াও কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসর এবং খুলনার দক্ষিণ ডিহি ও পিঠাভোগে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় কবির জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে। এ উপলক্ষে রবীন্দমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। যেসব জেলায় জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে না, সেসব জেলার জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সহযোগিতায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি বিভিন্ন চ্যানেল।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই অবমাননা: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 