News Bangla 24 BD | বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস আজ - News Bangla 24 BD
News Head
 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে গাজীপুরে গণমিছিল ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ’ গাজীপুরের শ্রীপুরে আনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অসুস্থ নজরুলসংগীতের বরেণ্য শিল্পী শবনম মুশতারীর পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা টয়লেট করে কিভাবে? বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া সুন্নত নাকি বিদআত? এআই নিয়ে কর্মীদের নতুন তথ্য দিলেন জুকারবার্গ শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ: ডিএসসিসি প্রশাসক জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস আজ।হেনরি ডুনান্ট ছিলেন একজন সমাজসেবক, মানব হিতৈষী ও শ্রেষ্ঠ মানব। সেবার জন্যই তিনি পেয়েছিলেন শান্তিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ কোটি কোটি মানব সন্তান বিপন্ন মানবতার সেবায় নিয়োজিত। তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষকে এক পতাকাতলে একই কর্মসূচীতে একত্রিত করেছিলেন। সাম্য মৈত্রির বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন একটি সংগঠনের মাধ্যমে। সেই সংগঠনই হচ্ছে রেডক্রস/ রেড ক্রিসেন্টে সোসাইটি।

১৮৫৯ সালে ইউরোপের দুই বৃহৎ শক্তি ফ্রান্স ও অষ্ট্রিয়ার মধ্যে যুদ্ধে শুধুমাত্র আহতদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০-৪২ হাজার। একদিকে বিজয়ী সৈন্যরা বিজয় উৎসবে মত্ত আর অন্যদিকে ৪০-৪২ হাজার আহত মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণার আর্তনাদ। সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য মানবসেবী ডুনান্টের হৃদয়ে দারুণভাবে রেখাপাত করে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার সকল ব্যবসায়িক কর্মসূচী বাতিল করে আহতদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।

হেনরি ডুনান্ট ও তার চারজন সহকর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন ও সহায়তার আশায় ১৮৬৩ সালে ২৬ অক্টোবর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহবান করেন। মোট ১৬টি দেশের প্রতিনিধি উক্ত সম্মেলনে যোগদান করেন ও ডুনান্টের প্রস্তাব অনুযায়ী রেডক্রস নামে একটি আন্তর্জাতিক সেবামূলক নিরপেক্ষ সংস্থা গঠিত হয়। একই আদর্শে পরিচালিত হচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

১৯৭৩ সালের ৩১ মার্চ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সূচনা হয়, যা একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের স্বীকৃতি পায়। ২ নভেম্বর ১৯৭৩ তারিখে এই সোসাইটি রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের আন্তর্জাতিক সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেড ক্রস (আইসিআরসি) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বাস্তু ও স্বজনহারা মানুষদের সহায়তায় বিশাল আকারের উদ্ধারকাজ শুরু করে। ২০০৬ সালে আবারো বাংলাদেশে ফিরে আসে আইসিআরসি এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকারের সাথে একটি হেডকোয়ার্টার চুক্তি স্বাক্ষর করে এর মিশনকে প্রতিনিধিত্বে রূপান্তরিত করে। তখন থেকে আইসিআরসি নিয়মিত বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দুঃস্থ মানুষদের যেকোন প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সোসাইটির সেক্রেটারিয়েট বড় মগবাজারের বিডিআরসিএস জাতীয় হেডকোয়ার্টারে অবস্থিত। সেক্রেটারিয়েটের দায়িত্বে থাকেন ম্যানেজিং বোর্ডের নির্বাচিত সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি ম্যানেজিং বোর্ডের সেক্রেটারি এক্স-অফিসিও। এছাড়াও সেক্রেটারি জেনারেলের অনুপস্থিতিতে তাঁর কাজ পরিচালনার জন্য ম্যানেজিং বোর্ড একজন ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত করে। সেক্রেটারিয়েট পাঁচটি বিভাগ নিয়ে তৈরি – দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য সেবা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় সার্পোট সেবা এবং হিসাবরক্ষণ।

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মেট্রোপলিটন শহরে একটি করে ইউনিট সহ মোট ৬৮টি ইউনিট নিয়ে তৈরি বিডিআরসিএস।

আইসিআরসি বাংলাদেশে সম্মিলিত ও সংগঠিত সশস্ত্র অত্যাচারে নিপীড়িত মানুষদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করে। বিভিন্ন প্রশাসন, শিক্ষাকেন্দ্র, আইন রক্ষাকারী সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর মাঝে আন্তর্জাতিক মানবিকতা আইন সম্পর্কে জানানোর ও তা প্রণয়ন করার দায়িত্ব পালন করে আইসিআরসি। এছাড়াও এই সংস্থা এর জাতীয় পার্টনার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ক্ষমতা উন্নয়নেও সহযোগিতা করে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ট্রেসিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আইসিআরসি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট নিখোঁজ মানুষদের ফিরিয়ে দেয় তাদের স্বজনদের কাছে এবং বিদেশে আটকে পরা বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজেও সহায়তা করে। এছাড়াও দেশের সবচেয়ে দুঃস্থ ও পঙ্গুদের পুনর্বাসনের কাজও করে থাকে এই সংস্থা।

বিশ্বব্যাপি প্রতিবছর ৮ মে রেড ক্রস/রেড ক্রিসেন্ট দিবস হিসেবে পালিত হয়।বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সকাল ৭টায় জাতীয় ও রেড ক্রিসেন্ট পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ৭টায় বর্ণাঢ্য র্যা লির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচী ১০টায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং সদস্য ও তহবিল সংগ্রহ, ১২টায় হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ, বিকেল ৪টায় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল উপস্থিত থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ