News Bangla 24 BD | রাজধানীতে হেফাজেতের স্মরণ কালের বিক্ষোভ - News Bangla 24 BD
News Head
 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে গাজীপুরে গণমিছিল ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ’ গাজীপুরের শ্রীপুরে আনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অসুস্থ নজরুলসংগীতের বরেণ্য শিল্পী শবনম মুশতারীর পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা টয়লেট করে কিভাবে? বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া সুন্নত নাকি বিদআত? এআই নিয়ে কর্মীদের নতুন তথ্য দিলেন জুকারবার্গ শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ: ডিএসসিসি প্রশাসক জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে হেফাজেতের স্মরণ কালের বিক্ষোভ


মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সরকার ও সেনাবাহিনী সম্প্রতি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর অব্যাহত হত্যা নির্যাতনসহ চূড়ান্ত বর্বরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে (২৫ নভেম্বর) শুক্রবার বাদ জুম্মা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম স্পট থেকে রাজধানীতে স্মরণ কালের বৃহত বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলাম।
আরাকানে মায়ানমার সেনা+বৌদ্ধভিক্ষু+রক্তপিপাসু রাখাইন ও মগদের হাতে ইতিহাসের নির্মম নিধনযজ্ঞের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপত্তা বিধান এবং কোনোক্রমে জানবাঁচিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়জানের দাবীতে হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত কর্মসূচী পালিত হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী সহ আরো অনেকস্থানে৷ আবার কোথাও স্থানীয় তৌহিদী জনতার ব্যানারেও প্রতিবাদ মিছিল সমাবেশ হয়েছে৷ রাজনৈতিকভাবে জমিয়ত এবং খেলাফত মজলিস বিভিন্ন জেলায় প্রোগ্রাম করেছে৷ প্রেসক্লাবের সামনে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরব৷ তবে ঢাকার প্রোগ্রামের দিকে নজর ছিলো সবার৷ থাকার কথাও৷ কারণ রাজধানীর আওয়াজটা সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পায় এবং পেয়েছেও৷ দীর্ঘ সাড়ে তিনবছর পর পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটি এসেছে৷ আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেবকে সভাপতি রেখে বাংলার সিংহপুরুষ মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহঃ এর সন্তান তারুণ্যের প্রতীক মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীকে সেক্রেটারী করে কমিটি হয়েছে মাসতিনেক পূর্বে৷ নতুন সেক্রেটারির নেতৃত্বে অতি অল্পসময়ের প্রস্তুতি এবং প্রচারণায় তৌহিদী জনতার স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে যে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে তাতে নতুন করে আশা করা যায় যে, ওলামায়ে কেরাম একসাথে ময়দানে নেমে এলে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে, নেতৃত্বও সংহত হবে৷ এবং অনেকেই বলছেন, ২০১৩ এর লংমার্চের পূর্বে পল্টনে প্রচার মিছিলের সাড়ে তিনবছর পর পল্টনে সর্ববৃহত মিছিলটি আজই হয়েছে৷ আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব হুইলচেয়ারে বসে আছেন, আর মিছিলের সূচনা থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী হুইলচেয়ার টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, এই দৃশ্যটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অভিভূত করেছে৷
আজকের বিশাল উপস্থিতি এটাও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বারো-চৌদ্দ হালির চেয়ে দেশ-বিদেশ, পাবলিক-সরকার, মিডিয়া কিংবা পর্যবেক্ষক সবার কাছেই হেফাজতে ইসলামের আহবান এবং ঘোষণার গুরুত্ব অনেক বেশী৷ আজকের প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিপর্যস্ত রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ, মায়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি এবং যারা পালিয়ে বাংলাদেশ উপকূলে আসতে পেরেছে তাদেরকে আশ্রয়দানের দাবী তুলে ধরা ছিলো মূখ্য উদ্দেশ্য৷ অবশ্যই হেফাজতের মতো প্রভাবশালী এবং আলোচিত সংগঠনের মাধ্যমেই সেটা ভালোভাবে করা সম্ভব ছিলো৷ আজকের মিছিলেই যেনো দায়িত্ব শেষ না হয়৷ বরং কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় করে ঢাকা মহানগর হেফাজত নেতৃবৃন্দ অতিদ্রুত পরবর্তী কর্মসূচী হাতে নিবেন এমনটাই সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশা৷

এদিকে,মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনায় কোন বিবেকবান মানুষ চুপ থাকতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামী্র নেতারা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের মুসলমানদের জিহাদ করা ফরজ হয়ে গেছে বলেও ফতোয়া দিয়েছেন তারা।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পরপর বায়তুল মোকারামের উত্তর গেটে দেখানো বিক্ষোভে এসব কথা বলেন হেফাজতের নেতারা।

পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আগে থেকেই ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। তবে বিক্ষোভ হলেও কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

গত অক্টোবরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একটি সন্ত্রাসী হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক প্রাণহানি, ছয়শরও বেশি আটকের পাশাপাশি এক হাজার ২৫০টি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।
বাংলাদেশে আসতে দিন, টাকা দেব আমরা
হেফাজতের বিক্ষোভে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়। নূর হোসেন কাশেমী বলেন, ‘অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দেওয়া হোক। তাদের জন্য সরকারের চিন্তা করতে হবে না, বিশ্বের মুসলমানরা তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবে। আমাদের দেশের সমস্ত মুসলমান তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবে।’

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হেফাজতের এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দিন। না হলে জনগণ যখন ফুঁসে উঠলে তার দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সরকার ও সেনাবাহিনী সম্প্রতি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর অব্যাহত হত্যা নির্যাতনসহ চূড়ান্ত বর্বরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৬ ওয়ার্ডের দৃষ্টি সমাজ কল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার মানিকপীড় রোডে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্য রাখেন- দৃষ্টি সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. বেলাল উদ্দিন।
সংগঠনের সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশিক আহমদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ, সংগঠনের সহ সভাপতি আসাদ আহমদ, সেবুল আহমদ সাগর, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাহেল আহমদ, অর্থ সম্পাদক রুমেল আহমদ, ক্রীড়া সম্পাদক মিরন আহমদ, ত্রাণ ও দূযোর্গ সম্পাদক মোঃ আল আমিন খান, রাকিব আহমদ, আহমেদ হান্নান, এডভোকেট ফরহাদ, রুমেল আহমদ, এমরান, ফরহাদ, আনসার, সালমান আহমদ, সালেহ আহমদ, সুহেল আহমদ, আরিফ আহমদ, শাকিল আহমদ, পিয়াস, জনি, নাবিল, তাবিব, ইশা, মিশু, ফরহাদ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মায়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-সন্ত্রাসীরা যুগযুগ ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বর্তমানেও এর মাত্রা সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামের পর গ্রাম, হাজার হাজার বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের শিশু-মহিলা, বৃদ্ধ-অসুস্থসহ সকলকে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। নারীদের ধর্ষনের পর হত্যা করে যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হচ্ছে। শিশুদের হত্যা ও নির্যাতনের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এত সব কিছুর পরও জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের নিরবতা বিশ্ববাসীকে হতাশ করেছে। নেতৃবৃন্দ প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা-নির্যাতনের তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হত্যা নির্যাতন বন্ধ করে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার জন্য জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ওআইসির প্রতি আহবান জানান। এ সময় বক্তারা সু’চির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার, মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও মিয়ানমারে সামরিক হস্তক্ষেপের আহবান জানান।
জিহাদের ফতোয়া

হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস বলেন, ‘মুফতির কাজ হচ্ছে ফতোয়া দেওয়া। আমার ফতোয়া হচ্ছে, মুসলিম রোহিঙ্গাদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে তাতে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের মুসলমাদের জিহাদ করা ফরজ হয়ে গেছে। মিয়ানমারে যা চলছে তা কোনো বিবেকবান মানুষ সহ্য করতে পারে না।’
বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করে হেফাজতের এ নেতা বলেন, ‘ভারত যদি আমাদের আশ্রয় না দিত তবে কোনো দিন দেশ স্বাধীন হতো না। অবিলম্বে বাংলাদেশের বর্ডার নির‌্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য খুলে দেয়া হোক।’
কারাগার বানলে টাকা দেবে হেফাজত
রোহিঙ্গাদের রাখতে প্রয়োজনে কারাগার বানানোর দাবি জানিয়ে হেফাজতের এই নেতা বলেন, ‘জেলখানায় তাদের বন্দি করুন। তবুও সীমান্ত খুলে দেওয়া হোক বাংলাদেশের। জেলখানা বানানোর টাকা প্রয়োজনে হেফাজতে ইসলামী বহন করবে।’ তাদের যার যা কিছু আছে সব রোহিঙ্গাদের লিখে দেয়া হবে বলেও জানান হেফাজতের এই নেতা।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে বের হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে দৈনিক বাংলা মোড় ঘুরে আবার বায়তুল মোকারম উত্তর গেটে এসে শেষ হয়। এরপর মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য দোয়া করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ