বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী আশরাফ-মঈনুদ্দীন আজও পলাতক
দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যাকারী দুই খুনি এখনো পালিয়ে আছে। এরা হলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর দুই নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান। দুজনই বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অপরাধীদের দেশে ফেরত আনা হলেও বুদ্ধিজীবী হন্তারক এ দুই জল্লাদকে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। ১৮ বুদ্ধিজীবীর দুই খুনিকে কবে দেশে ফেরত আনা হবে, সংশ্লিষ্টরা কেউ বলতে পারছেন না।
তাদের অনুপস্থিতিতেই এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে এদের অপরাধ সম্পর্কে বলেছিলেন, আশরাফুজ্জামান খান ছিলেন সেই হত্যাকাণ্ডের ‘চিফ এক্সিকিউটর’। আর চৌধুরী মঈনুদ্দীন ছিলেন সেই পরিকল্পনার ‘অপারেশন ইনচার্জ’।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর ধরা পড়া আল-বদর কমান্ডার খালেক মজুমদার বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছিল। তখন সে জানিয়েছিল যে, আল-বদররাই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে; আর চৌধুরী মঈনুদ্দীন বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অপারেশন-ইন-চার্জ হিসেবে ছিলেন।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর আশরাফুজ্জামান খানের বাসা থেকে একটি ডায়েরি পাওয়া যায়। যে ডায়েরিতে ১৯ বুদ্ধিজীবীর নাম ও ঠিকানা লেখা ছিল। এ দুই ঘাতকের বিরুদ্ধে ১৮ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর এদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি। স্বাধীনতার পর পরই তারা বিদেশে পালিয়ে যান। এখনো বিদেশেই আত্মগোপন করে আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে পলাতক আশরাফুজ্জামান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে, আর মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, এদের অবস্থান সম্পর্কে সরকার অবগত। বিদেশে তারা আলিশান জীবনযাপন করছেন। তবে নানা জটিলতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা যাচ্ছে না। তারা বিদেশে অবস্থান করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এ পর্যন্ত মোট ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়। কিন্তু অন্যতম দুই ঘাতককে বিদেশ থেকে না আনতে পারায় তাদের দণ্ড এখনো কার্যকর করা যায়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলাটিকে সূত্র ধরে সংস্থা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ২০১০ সালে তদন্ত শুরু করে। এক বছরের বেশি সময় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশনের কাছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকেও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তাকে। পলাতক দুই খুনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ৪৫ বছর ধরে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সূত্র জানায়, সরকারের কাছে খবর রয়েছে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফুজ্জামান খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যামাইকায়। আর চৌধুরী মাঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। তাদের মধ্যে চৌধুরী মাঈনুদ্দীন একাত্তরে ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশ-এর সাংবাদিক। স্বাধীনতার পর তিনি পাকিস্তান হয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। তিনি লন্ডনের টটেনহ্যাম মসজিদ পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই অবমাননা: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 