নতুন উৎপাত শুরু হয়েছে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নতুন উৎপাত শুরু হয়েছে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ। যেকরেই হোক বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতেই হবে’।‘সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে, যেন কখনোই বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে’।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির ৯৮তম ও ৯৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক।স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির রেক্টর ড. এম আসলাম আলম।প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে রেক্টর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ৯৮তম কোর্সের মোহাম্মদ সোহাগ হাওলাদার ও ৯৯তম কোর্সের মোহাম্মদ নাহিদুল করিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী ভূমিকা পালন করতে হবে। ‘আমরা অভিভাবক, শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে সকলকে সম্পৃক্ত করেই একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবেই এটা গড়ে তুলছি। এ ব্যাপারে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে এবং ভূমিকা রাখতে হবে যেন কখনো বাংলার মাটিতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা আমরা বৃদ্ধি করেছি। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ আছে।’
দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাম। গ্রামের অর্থনীতিটাকে আমরা আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে হবে। গ্রামে দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কর্মসূচি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমরা করে যাচ্ছি। শিক্ষাই হচ্ছে একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে একটি দেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করা যায়।’
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হত্যা, ক্যু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল শুরু হয়। একটি দেশে বারবার সামরিক ক্যু হয়। ১৯ বার সামরিক ক্যু হয়েছে। সামরিক অফিসার, সৈনিক নির্বিচারে তাদের হত্যা করা হয়েছে। প্রতি রাতেই ছিল কারফিউ। এই হত্যা, ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আমাদের দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করে কোনো রকম ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতার পালা বদল।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক দিনে ১৩ জন সচিবের চাকরি খেল। সামরিক বাহিনীর অবস্থা তো আরও খারাপ। প্রায় ১২শ কর্মকর্তাকে সামরিক বাহিনী থেকে বিদায় দিয়ে দিল।’
এমডিজি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০০ সালে আমরা এমডিজি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা সরকারে আসার পর প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আমরা বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছি। এবারে আমরা লক্ষ্য নিয়েছি এসডিজি। এটাও আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের ওপর আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’
দেশ গড়ার বিষয়ে করণীয় কী এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে জ্ঞান আপনারা অর্জন করবেন, সেটাই আপনারা কাজে লাগাতে পারবেন দেশ গড়ার ক্ষেত্রে। এজন্য আমরা প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দিই। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়ে থাকি। আমরা জানি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রশিক্ষণ একান্তভাবে প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি এই প্রশিক্ষণ কোর্স সরকারি দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে এবং আপনারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সক্ষম হবেন।’
তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস। বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ করছি। ঘরে বসে নিজের দেশের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ আমরা করে দিয়েছি। ডিজিটাল সেন্টার বাস্তবায়ন করেছি। কোরবানির গরুও কিন্তু এখন অনলাইনে বিক্রি হয়।’
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে একটা সমস্যা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে। কারণ তারা মনে করে দরিদ্র দেশ পেলেই চাপ দিয়ে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিয়েই নেবে। দুর্নীতির প্রশ্নটা উঠলো, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, আমাকে দুর্নীতি দেখাতে হবে মুখে বললে হবে না। তারা প্রমাণ করতে পারেনি। আমার কথা ছিল নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু করব। তা করছি, বলেন প্রধানমন্ত্রী’

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই অবমাননা: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 