জেলা পরিষদ নির্বাচন বিদ্রোহীদের সামাল দেওয়া কঠিন হবে
জেলা পরিষদ নির্বাচনের আর মাত্র দুইদিন বাকি। ইতোমধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন। তবে এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বড় বাধা হবে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা- এমন ধারণা নির্বাচন বিশ্লেষকদের। তারা বলেছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬১টি জেলায় দলসমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৩৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে নানা ব্যবস্থা নিলেও ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন দল। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিক বৈঠকও করেছেন।
তবে কোনো সমাধান মেলেনি। এমন অবস্থায় বিদ্রোহীদের সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন তারা। একারণে নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কার জন্ম দিয়েছে প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের মধ্যে। পরোক্ষ ভোটের এ নির্বাচনে যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের নেতা-কর্মী প্রার্থী নেই। ইতোমধ্যে ৬১ জেলার মধ্যে ২৫টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু ভোট হবে ৬১ জেলাতেই। কারণ সব জায়গায় সদস্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, পরোক্ষ হলেও ভোটে যে উৎসাহ বা আগ্রহ থাকার কথা, সেটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে ২৫ জেলার চেয়ারম্যান বিনা ভোটে হচ্ছেন। আর সদস্য পদে ৯১৫ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩০৫ জনের মধ্যে ৫১ জনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সব মিলিয়ে ৬১ জেলা পরিষদে তিন পদে ২০৮ জন প্রার্থী বিনাভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অর্থাৎ নির্বাচনী গণ্ডি আরো সংকুচিত হয়ে আসছে। পক্ষান্তরে বিএনপি বা অন্য দল না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য হতাশাজনক বলছেন অনেকে।
এব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তবে এই নির্বাচনে বিএনপিসহ কয়েকটি দল অংশ না নেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত আমাদের দেশে বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ধরনের উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়, এই নির্বাচনে সে ধরনের উৎসাহ উদ্দীপনা না থাকলেও আমরা চাই এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হোক। এব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার কর্মকর্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিলো। তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এই নির্বাচনে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেউ অভিযোগ করুক না করুক নারায়ণগঞ্জের অর্জন ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না কমিশন। এদিকে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা এবং সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলার চেয়ারম্যান পদের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী জানান, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইতোমধ্যে পুলিশকে দিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোট নিজের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি কমিশনের কাছে সুষ্ঠু ভোটের আশা করছেন। ভোট গ্রহণের আর মাত্র দুইদিন বাকি ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় মাঠে নামানো হয়েছে বাহিরগত সন্ত্রাসীদের। কাজে লাগানো হচ্ছে প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশকে। ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি নিজেদের দলীয় কর্মীদের শুধু নির্বাচনী প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে নাশকতার মামলা মোকদ্দমায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াতের মেম্বর-চেয়ারম্যানকেও হুমকির মধ্যে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল। আর কোনো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়নি। সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ ভোটে নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ আইনে জনগণের ভোটের বিধান নেই। পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন জেলায় অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশন (যদি থাকে), উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে। ১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদের সরকার প্রণীত স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়ার বিধান ছিল, পড়ে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে। পাঁচ বছর মেয়াদী জেলা পরিষদগুলোতে বর্তমানে অনির্বাচিত প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। তাদের মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় নির্বাচন করার আগে গত ২৮ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকায় ‘জরুরি বিবেচনায়’ ৫ সেপ্টেম্বর ওই সংশোধিত আইন জারি করা হয়।
আইনে স্থানীয় সরকারের চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এ নির্বাচনে ভোট দেবেন। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ভোটার ইউনিয়ন পরিষদে। দেশে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা সাড়ে চার ৪ হাজার। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গড়ে ১৩ জন করে প্রায় ৬০ হাজারের মত নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন। ৪৮৮টি উপজেলা পরিষদে প্রায় দেড় হাজার, ৩২০টি পৌরসভায় সাড়ে ৫ হাজার এবং ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রায় সাড়ে ৫০০নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই অবমাননা: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 