News Bangla 24 BD | ঢেলে সাজানো হচ্ছে বিমান - News Bangla 24 BD
News Head
 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে গাজীপুরে গণমিছিল ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ’ গাজীপুরের শ্রীপুরে আনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অসুস্থ নজরুলসংগীতের বরেণ্য শিল্পী শবনম মুশতারীর পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা টয়লেট করে কিভাবে? বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া সুন্নত নাকি বিদআত? এআই নিয়ে কর্মীদের নতুন তথ্য দিলেন জুকারবার্গ শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ: ডিএসসিসি প্রশাসক জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বিমানকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেজন্য সংস্থাটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যেকের বিষয়ে বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি অনিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সংস্থাটির সব শ্রেণির চাকরি অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। বিমানের সব কাজ নিবিড়ভাবে তদারক করতে টাস্কফোর্স গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। বিমানের এসব উদ্যোগের বিষয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী সায় দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে বলে বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানের সর্বক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহি করতে হলেও কার্যত বিমানের ওপর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সে কারণে টাস্কফোর্স গঠন করা হলে মন্ত্রণালয়ের হাতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ আবার কিছুটা হলেও ফিরে আসবে। এতে বিমানের চেয়ারম্যানসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন। ফলে বিমানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এর আগে বিমানের চেয়ারম্যান এককভাবে বিমানকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব কমে যায়। মন্ত্রণালয়কে বাধ রেখেই চেয়ারম্যান পরিচালনা পর্ষদের সভা ডেকে একক সিদ্ধান্ত নিতেন।

ফলে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বড়দের ম্যানেজ করে খামখেয়ালীভাবে চলতেন। এতে বিমানের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ত। তাই মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠণ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানে আবার শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলৈ মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহবুব জামিলের হাতে বিমানের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পরে তাঁর হাতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ দেয়া হয়। তারপরই মাহবুব জামিল বিমানের জন্য অত্যাধুনিক ১০টি এয়ারক্রাফট কেনার জন্য বোয়িং কম্পানির সাথে চুক্তি করতে পেরেছেন। বিমানের এয়ারক্রাফট কেনার ক্ষেত্রে ওই চুক্তিই একমাত্র চুক্তি যা নিয়ে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হয়নি। বর্তমান সরকারও সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে আনতে বাংলাদেশ বিমানকে অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এতে ওভারটাইম না করে বিল নেওয়া, অফিসে না থেকেও হাজিরা দেওয়া, কথায় কথায় ধর্মঘট ডেকে বিমানবন্দর অচল করে দেয়ার মানসিকতা বন্ধ হয়ে এসব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আসবে।

তাছাড়া বিমানের দৈনন্দিন কাজের অব্যবস্থাপনা দূর করতে এসেনশিয়াল সার্ভিস ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে সোনা চোরাচালানের সাথে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা, সিবিএ নেতারাসহ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেতিবাচক কর্মকা- সবই বন্ধ হবে। এছাড়া বিগত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরী যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনেও বিষয়টি মনুষ্যসৃষ্ট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিই বাংলাদেশ বিমানের অনেক সমস্যা সমাধানের পথ খুলে দিয়েছে। তাই বিমানকে ঢেলে সাজাতে এখন নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও আগেথেকেই বিমানকে এসেনশিয়াল সার্ভিস ঘোষণা বা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এবার প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বিমানের ফ্লাইট রাঙা প্রভাতে দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সবাই নড়েচড়ে বসায় সমস্যা সমাধানের পথ সৃস্টি হয়েছে। এ সময় যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল তাদের প্রতিবেদনের মতামতের আলোকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার দফা সুপারিশ করে। সব সুপারিশই প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। ওসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বিমানের সব কাজ নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে টাস্কফোর্স গঠন, বিমানের সব শ্রেণির চাকরি অত্যাবশ্যকীয় বা এসেনশিয়াল সার্ভিস হিসেবে ঘোষণা করা, বিমানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি এবং বিমানের সংস্কার ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা।

জানা যায়, বিমানকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কোম্পানি করা হয়। সে সময় তৎকালীন সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তখন জনবল প্রায় ৬ হাজার থেকে নামিয়ে ৩ হাজার ৪০০ জনে আনা হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মহাপরিচালক, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এনএসআই, কাস্টমস (শুল্ক, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর), বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তবে এবার সরকার কঠোর হাতে সব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করছেন। এতে বিমানে যেসব অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন তাদের চিহিৃত করা সম্ভব হবে। বিমানে চাকরি করে নানা অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। রাজধানীতে বা বড় শহরগুলোতে অঢেল সম্পত্তি নেই বিমানে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারী পাওয়া মুশকিল। তাছাড়া কর্মকর্তাদের প্রায় সবারই বিদেশে সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে থেকে পড়ালেখা করে। তাদের সম্পদ নিয়ে কখনো তদন্ত হয় না।

তাছাড়া বিভিন্ন ঘটনা ঘটলে সেসব ঘটনার তদন্ত হয় তার প্রতিবেদনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার খুব বেশি উপাদান রাখা হয় না। এবার সবার গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হলে সবার থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মুসাদ্দিক আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, আমি এখনো চিঠিটি পড়িনি। চিঠি পড়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারব। একই বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বিমানে কিছু সংস্কারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন ও এসেনশিয়াল সার্ভিস ঘোষণার বিষয়টিও রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ