News Bangla 24 BD | ব্যাচেলরদের নিয়ে আবাসন বাণিজ্য - News Bangla 24 BD
News Head
 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে গাজীপুরে গণমিছিল ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ’ গাজীপুরের শ্রীপুরে আনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অসুস্থ নজরুলসংগীতের বরেণ্য শিল্পী শবনম মুশতারীর পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা টয়লেট করে কিভাবে? বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া সুন্নত নাকি বিদআত? এআই নিয়ে কর্মীদের নতুন তথ্য দিলেন জুকারবার্গ শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ: ডিএসসিসি প্রশাসক জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে আবাসন সঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন লাখো ব্যাচেলর। নগরজুড়ে বাড়ি ভাড়ার অসংখ্য নোটিশ ‘টু-লেট’ টানানো থাকলেও সেগুলোতে ঠাঁই পাচ্ছেন না শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ লাখো ব্যাচেলর। অনেক বাড়ির মালিক ব্যাচেলর শুনলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন তাদের। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যাচেলরদের ভাড়া দিয়ে বাড়ির মালিকদের বিপাকে পড়ারও নজির আছে। তাই সব বাড়ির মালিকরাই এখন ব্যাচেলর শুনলেই ভাড়া দিতে চান না।

তাছাড়া জঙ্গি, জেএমবি, হিজবুত তাহরীরসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কারণে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে যথাযথ খোঁজ-খবর না নিয়ে বাড়ি ভাড়া দেওয়া নিষেধের কারণে বাড়ির মালিকরা যেমন শঙ্কিত, তেমনি মহাসঙ্কটে পড়েছেন ব্যাচেলররা। আর এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু বাড়ির মালিক ও কিছু মহিলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলরদের কাছে দেড় থেকে দ্বিগুণ টাকায় ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর এলাকাভেদে যে রুমের ভাড়া ৬-৭ হাজার টাকা ব্যাচেলরদের কাছে সেখানে নেওয়া হচ্ছে ১২-১৫ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়া নিয়ে সরকারিভাবে তেমন নজরদারি না থাকায় রাজধানীর উন্নত এলাকায় ব্যাচেলরদের থেকে তিনগুণ ভাড়া হাঁকিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, রাজধানীসহ সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলর ও বাড়ি মালিকদের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধুষ্যিত এলাকায় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অধিকাংশ মালিকরাই ব্যাচেলরদের বাসাভাড়া দিতে রাজি হন না। কেউ রাজি হলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে বসেন। আবার কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই যখন খুশি তখন চলে যেতে বলেন।

এমতাবস্থায় মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ লাখো ব্যাচেলরের জীবন। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েটসহ সুনামখ্যাত কলেজগুলোতে গ্রাম থেকে আসা ভতিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীরাই আবাসন সঙ্কটে বেশি বিপাকে পড়েন। রাজধানীতে এসে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু না পেয়ে বাড়িওয়ালাদের দারে দারে ঘুরতে থাকেন। এ সুযোগে অনেক অসাধু লোক ফ্যামিলি ভাড়ার দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়ার বিনিময়ে তাদের থাকতে দেন। এক্ষেত্রে অনেকেই বাড়ির মালিক না হয়েও নিজে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে সেই ফ্ল্যাট অনেক বেশি দামে ভাড়া দেন। এতে জীবনের শুরুতেই বিরাট একটি ধাক্কা খায় ব্যাচেলররা। এভাবে অসাধু চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও অর্ধাহারে, অনাহারে অতি কষ্টে জীবন ধারণ করছেন এসব ব্যাচেলরদের অবিভাবকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি বছর যে পরিমাণ ছাত্রছাত্রী এসএসসি ও এইচ এসসি পাস করে রাজধানীতে ভর করছে তার এক চতুর্থাংশের আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে হলগুলোতে। বাকিদের বিভিন্ন ম্যাচ বা ফ্লাট বাড়িতেই থাকতে হয়। আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাচেলর চাকরিজীবিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। আর এতে প্রতি বছরেই আবাসিকে চাপ বাড়ছে লাখ লাখ ব্যাচেলরের। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন অসাধু বাড়ির মালিকসহ একটি চক্র।

এ বিষয়ে সরকারের তেমন কোনো নিয়মনীতি না থাকায় আবাসন সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছেনা। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাচেলরদের আবাসন বিষয়ে পূর্বাচল, উত্তরা ও মীরপুরের সরকারি প্রকল্পে কিছু ফ্ল্যাট বরাদ্ধ রাখার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে অনেকাংশে ব্যাচেলরদের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে বলে জনালেন রাজউকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

রামপুরার বনশ্রী এলাকায় বি ব্লকের ২ নং বাড়িতে এক ফ্লাটে ম্যাচ করে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রকিবুল। তিনি জানান, আমরা ৪ জন দুই রুম নিয়ে থাকি। ব্যাচেলর দেখে আমাদের প্রতিমাসে ভাড়া দিতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। অথচ পাশের অন্যান্য বাসায় একই সাইজের বাসায় ১২-১৪ হাজার টাকায় থাকেন। প্রতি মাসে ঠিকঠাক ভাড়া দিয়ে আসলেও আমাদেরকে ভালচোখে দেখেন না মালিকপক্ষ। মাঝেমধ্যেই আমাদেরকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

এদিকে মিরপুর ১০ নম্বরে থাকেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রনি। তিনি জানান, এখানে ছাত্রদের সঙ্গে ম্যাচে থাকি। তিন রুমের একটি ফ্লাটে মোট ১৬ জন থাকি। প্রতি জনের খাওয়া বাদেই শুধু ভাড়া বাবদ দিতে হয় ২ হাজার টাকা করে। এতে বাড়ির মালিক এক ফ্ল্যাট থেকে পাচ্ছেন ৩২ হাজার টাকা। অথচ ফ্যামিলি ভাড়া হলে এ ফ্লাটের ভাড়া হবে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু বাসা ছেড়ে দিলে কেউ বাসা দেবে না। তাই বাধ্য হয়েই থাকছি।

রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রিন্স থাকেন ফামগেটের ইন্দ্রা রোডের একটি বাড়িতে। বাড়ির ষষ্ঠ তলায় দুই ইউনিটের ৬ রুমে থাকেন ১৮ জন। এখানে আশপাশে একই সাইজের ফ্ল্যাটে ফ্যামিলি ভাড়াটিয়াদের জন্য ইউনিটপ্রতি ১০-১২ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হলেও আমাদের নিতে হচ্ছে ১৮ হাজার টাকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকা। এরপরও আমাদেরকে নানা সময় কটু কথা শুনতে হয়। অনেক সময় বিনা নোটিশে বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

এ বাড়ির মালিকের দু’টি ছেলে আছে। আমরা তো তাদের মতোই কোন বাবা-মায়ের সন্তান। আমরা নিরাপত্তার জন্য ভাড়াটিয়া ফরম পূরণ করে জাতীয় পরিচয় পত্র, ভার্সিটি আইডি কার্ডের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট দিয়েছি। আবার স্থানীয় অবিভাকদের পরিচয় এবং তাদের সঙ্গে মালিকের কথা বলিয়েছি। তবুও আমাদেরকে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি মন ছোট করে থাকতে হচ্ছে। এ সবের পরিবর্তন হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বেশ কয়েকজন মেস ব্যবসায়ীর সন্ধান পাওয়া গেছে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায়। এখানে বেশ কয়েকজন মহিলা বাসা ভাড়া নিয়ে অনেক বেশি টাকায় মেস ভাড়া দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মেসের একজন সদস্য বলেন, ৩ রুমের মেসে আমরা ১৭ জন থাকি। ২ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা আসে। বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাড়িতে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার টাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া আছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বনশ্রী কল্যাণ সমিতির নেতা মাহবুব মুসা জানান, ডিএমপি আমাদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কারো বাসায় কোন জঙ্গি ভাড়া দেয়া হলে সম্পূর্ণ দায়ভার বাড়ি মালিকের নিতে হবে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, এলাকায় কোনো ব্যাচেলরকে বাসা ভাড়া দেয়া যাবে না। তবে ব্যাচেলর চাকরিজীবি হলে সকল নিয়ম মেনে এককভাবে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে হবে। পাশাপাশি কোনো গেষ্ট যাতে না আসে সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

এ প্রসঙ্গে এর আগে ভাড়াটিয়া কল্যাণ পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে ব্যাচেলরদের বাসাভাড়া সম্পর্কে জরুরি ভিত্তিতে নীতিমালা করার জন্য আমরা সরকারের কাছে স্মারক লিপিও দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তবে আমরা থেমে যায়নি। আমাদের কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে আগামীতে সুসংবাদ শুনাতে পারব বলে আশা করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ