মেয়রের গুলিতেই সাংবাদিক শিমুল নিহত
পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরুর গুলিতেই শাহজাদপুরে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংসদ হাসিবুল রহমান স্বপন।তিনি বলেন, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত পৌর মেয়র হালিমুল হক গুলি ছুড়েছেন।
শনিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহত সাংবাদিক শিমুলের জানাজার আগে এ কথা বলেন তিনি।এসময় পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীর বরাত দিয়ে এমপি স্বপন বলেন, পৌর মেয়র মিরু নিজে তার শটগান দিয়ে বাড়ি থেকে পর পর পাঁচটি গুলি করেন। যার একটি শিমুলের চোখে ও মাথায় বিদ্ধ হয়।
তিনি আরও বলেন, শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন দ্বন্দ্ব বা বিভেদ নেই। মেয়র নিজে ও তার দুই ভাই এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে পৌর শহরে সন্ত্রাস করছিলেন। সাংবাদিক শিমুল পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মেয়রের নিজের শটগানের গুলিতে শিমুল তার বাড়ির সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমরা এ ঘটনার জন্য মেয়রের গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।
এ সময় উপস্থিত সাবেক সাংসদ চয়ন ইসলাম বলেন, শাহজাদপুরে রাজনীতি এতদিন সুস্থ ছিল। মেয়রের কর্মকাণ্ডের কারণেই নিজেও বিতর্কিত হয়েছেন দলকেও বিতর্কিত করতে চাচ্ছেন। দল তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কখনই দায়িত্ব নিবে না। সাবেক ও বর্তমান এ দুই সাংসদ এ সময় জরুরি ভিত্তিতে পৌর মেয়র মিরুর গ্রেফতারসহ তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পৌর মেয়র হালিমুল হক জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামি। নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম গতকাল শুক্রবার শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তাঁর দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের পর পুলিশ পৌর মেয়রের লাইসেন্স করা শটগান জব্দ করে এবং তাঁর ভাইকে আটক করে। পৌর মেয়র ঘটনার পর থেকেই পলাতক। এ ঘটনায় আজ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন ছয়জন।
শনিবার সকালে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল ও তার নানীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার নানী রোকেয়া বেগমও মারা যান শুক্রবার। ছোটবেলায় বাবা হারানো শিমুল নানীর কাছেই বেড়ে ওঠেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুরের পৌর মেয়র হালিমুল হকের ছোট ভাই পিন্টু পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কান্দাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা বিজয় মাহমুদকে (১৮) বেদম মারধর করেন। বিজয় সাংসদ হাসিবুর রহমানের অনুসারী। বিজয়কে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সমর্থনে মহল্লার লোকজন ও আওয়ামী লীগের একাংশ এবং কলেজের ছাত্ররা একজোট হয়ে বেলা তিনটার দিকে মেয়রের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় গুলি ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যাওয়া সাংবাদিক আবদুল হাকিম মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গতকাল ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আবদুল হাকিমের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। হাকিমের খুলিতে একটি গুলি পাওয়া গেছে বলে জানান সিভিল সার্জন শেখ মনজুর রহমান।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই অবমাননা: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 