২৫ বছরে ১ হাজার ১৩৯ পুলিশ সদস্য নিহত
দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধানের সময় গত ২৫ বছরে ১ হাজার ১৩৯ পুলিশ সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন। আর গত ২০১৬ সালেই নিহত হয়েছেন ১২৮ জন পুলিশ সদস্য। বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের কনভেনশন হলে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ নামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান খাঁন এমপি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যরা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য আত্মাহূতি দিয়েছেন। দেশ ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের কারণেই তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা দেশের গর্ব, পুলিশবাহিনীর গর্ব। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে গতকাল দেশব্যাপী সব পুলিশ ইউনিটে এই প্রথমবারের মতো ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায়, রেঞ্জ ও জেলাপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল, পুলিশ
স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে সম্মাননা প্রদান করা। বুধবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে নির্মিত অস্থায়ী পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় একটি চৌকস পুলিশ দল সশস্ত্র সালাম প্রদান করে, বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে সেখানে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর গত ২০১৬ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করে। পুলিশবাহিনী আছে বলেই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে। কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যরা দেশের জন্য, জনগণের জন্য আত্মাহূতি দিয়েছেন। দেশ ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের কারণেই তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা দেশের গর্ব, পুলিশবাহিনীর গর্ব। তিনি আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশ পুলিশকে যুগোপযোগী এবং আরও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পুলিশ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা এবং সক্ষমতা বাড়াতে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। সম্মাননা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরী।
আইজিপি বলেন, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রতি বছর অনেক পুলিশ সদস্য নিহত হন। দায়িত্ব পালনকালে তারা আত্মত্যাগের যে মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা পুলিশবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের। তাদের কাছে আমরা ঋণী। তাদের অবদানকে স্মরণ করার মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এখন থেকে প্রতিবছর ১ মার্চ দেশব্যাপী সকল পুলিশ ইউনিটে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হবে। এসময় তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের খোঁজখবর রাখা, পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গকে প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অথবা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কল্যাণ শাখায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।
অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে যেসব পুলিশ সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন তাদের স্মরণেই ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি মঞ্চ থেকে দর্শক সারিতে গিয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের হাতে স্বীকৃতি স্মারক ও উপহার তুলে দেন। এসময় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপিকে তাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের গ্র্রেপ্তারসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধানকালে ২০১৬ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় ১২৮ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আর গত ২৫ বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৩৯ জন পুলিশ সদস্য। পুলিশ কর্মকর্তাগণ জানান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের কৃতিত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানকে স্মরণ করা হয়। বাংলাদেশেও অনুরূপ দিবস পালনের জন্য পলিসি গ্রুপে সিদ্ধান্ত হয়।
এখন থেকে প্রতি বছর ১ মার্চ কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যেদের স্মরণে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হবে। সম্মাননা অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোখলেসুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এপিবিএনর অতিরিক্ত আইজিপি সিদ্দিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই অবমাননা: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা
বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী
জলাশয় থাকবে উন্মুক্ত, জোরদার হচ্ছে নদী-খাল খনন কর্মসূচি : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী 