নারী ও শিশু নির্যাতনকে লাল কার্ড দেখাল গাজীপুরের ৫ হাজার শিক্ষার্থী-বাণিজ্যমন্ত্রী
গাজীপুর জেলায় নারী নির্যাতন ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সাহসী ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিন কিশোরী ও দুই কিশোরকে সম্মাননা দিয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী লাল কার্ড দেখিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানান দেয়।
রোববার (৩রা ডিসেম্বর, ২০১৭) স্থানীয় পূবাইল আদর্শ কলেজ মাঠে আয়োজিত যুব সমাবেশে এই সম্মাননা প্রদান করানো হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম ও ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কিশোর-কিশোরী ও তরুণ প্রজন্মকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতন ও শক্তিশালী সামাজিক জাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই যুব সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সম্মাননা পাওয়া তিন কিশোরী হচ্ছে শ্রীপুরের সাহিদা আক্তার স্বর্না, গাজীপুর সদরের মুন্নি আক্তার এবং কালিগঞ্জের শাহেরা আক্তার বিথী। কিশোর দুজন কাপাসিয়ার মো. ইয়ামিন প্রধান ও কালিগঞ্জের হাবীবুল্লাহ খান (শোভন)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওই মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন, জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারপার্সন ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী, ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারা খাতুন প্রমুখ।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৮-ও আগে বিয়ে নয় ২০-ও আগে সন্তান নয়। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারিসহ সকল প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকে আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সঠিক আদর্শিক ধারায় ছাত্র ও যুবদের তৈরি হতে হবে এবং নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্চার ভ’মিকা পালন করতে হবে।
জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, বর্তমানে নির্যাতনের একটি বড় কারণ হলো মাদকাসক্ত যার প্রধান টার্গেট যুবরা। মাদক বিষয়ে কোন ছাড় নেই। মাদক ব্যবসায়ী কারো স্বজন হতে পাওে না। ছেলে-মেয়ে সব শিশুকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বড় করতে হবে। সন্তানদের সাথে বাবা-মায়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালর্ভাট হলেও কেবল উন্নয়ন নয়; বরং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নারীর ক্ষমতায়ন। দেখা যায়, ক্ষমতায়নের পথে অন্যতম একটি বড় বাধা হলো নির্যাতন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে উপস্থিত যুব সমাজকে বাল্যবিয়ে না করা এবং বাল্যবিয়ে ও নির্যাতন প্রতিরোধে শপথ করান। সেইসাথে বাল্যবিয়ে নির্যাতন প্রতিরোধে লালকার্ড প্রদর্শন করেন। এছাড়া কালিগঞ্জকে বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতনমুক্ত করার ঘোষণা দেন।
ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমরা সকলের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০৯ এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান করেন।
ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, ব্র্যাক তার সকল কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছে। নারীর পাশাপাশি কিশোর-যুব-পুরুষদের সম্পৃক্ত কওে নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছ্।ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নিরবতার সংস্কতির অবসান ঘটিয়ে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। এজন্য প্রথমে নিজে পরিবর্তন হতে হবে এবং আশেপাশে ঘটে যাওয়া যেকোন নির্যাতনের বিরদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু
ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী
কাঁটাবনের বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে, প্রাণ গেল ২ তরুণের
কওমি মাদ্রাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে: পটিয়ায় এমপি এনাম
সিলেটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ শ্রমমন্ত্রীর
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু 