সাগর কর্মকার:
আজ পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ‘হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়? বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা কবির থাক বা না থাক আজ পহেলা ফাল্গুন।প্রকৃতির দক্ষিণা দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া। কোকিলের কণ্ঠে আজ বসন্তের আগমনী গান। ফুলে ফুলে ভ্রমরও করছে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। সব কিছুই
জানান দিচ্ছে আজ পহেলা ফাল্গুন।
ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের
আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে
প্রকৃতির আজ এতো বর্ণিল সাজ।
বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে
তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সকল
কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, বিভেদ
ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে
এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে
বসন্তের উপস্থিতি। তাই কবির
ভাষায়- ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। কচি পাতায় আলোর
নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লেগেছে রংয়ের দোলা। হৃদয় হয়েছে উচাটন। পাতার আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরহী অন্তর। কবি তাই বলেছেন ‘সে কি আমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে…’। তবে বসন্তের সমীরণ বলছে এ ঋতু সব সময়ই বাঙালির মিলনের বার্তা বহন করে। কারণ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। বসন্তেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। বসন্তেই বাঙালি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে । আবার এ বসন্তেই তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়। আর শহরের নাগরিক জীবনে বসন্তের আগমণবার্তা নিয়ে আসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ ও একুশের বইমেলা।বসন্তকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলায় মেলা, সার্কাসসহ নানা বাঙালি আয়োজনের সমারোহ থাকবে। ভালোবাসার মানুষেরা মন রাঙাবে বাসন্তি রঙ্গেই। এদিনেই অসংখ্য রমনী বাসন্তী রংয়ে নিজেদের রাঙিয়ে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা সহ পুরো নগরী সুশোভিত করে তোলে। বসন্তের পূর্ণতার এ দোলা ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের সর্বত্র এবং সারা পৃথিবীর সকল বাঙালির ঘরে ঘরে। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নুপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন, সব এ বসন্তেই। তাই বসন্ত মানে পূর্ণতা। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের
কলরব। বসন্ত মানে একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রংয়ে, মানুষকে করে আনমনা। বসন্ত তারুণ্যের ঋতু বলেই সবার মনে
বেজে ওঠে, কবির ওই বাণী ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পহেলা ফাল্গুন আনন্দের দিনে’।
এদিকে, দিনটিকে আরো উপভোগ্য করে তুলতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগেরর ৪৫ তম আবর্তন গ্রহণ করেছে বসন্ত বরন উৎসব।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু
ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী
কাঁটাবনের বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে, প্রাণ গেল ২ তরুণের
কওমি মাদ্রাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে: পটিয়ায় এমপি এনাম
সিলেটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ শ্রমমন্ত্রীর
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলের 