News Bangla 24 BD | রেজাল্ট খারাপ মানেই কম মেধাবী নয় - News Bangla 24 BD
News Head
 ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে-ইরানের স্পিকার পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড উদ্বোধন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

সাগর কর্মকার:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই মনটা ধুকধুক করে কাঁপে। দেশে অসংখ্য ছেলেমেয়ে ভালো ফলাফল করবে। তারা হাসবে। উচ্ছ্বসিত হবে। অথচ খুশি হওয়ার বদলে, মনে ভয় কাজ করে।  কেউ ফলাফল খারাপ করে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। লোক লজ্জার ভয়ে কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে পালায়। এগুলো শুনতে খুব কষ্ট হয়। শুধুমাত্র একটি পরীক্ষায় খারাপ করে একজন মানুষ তার জীবনকে তুচ্ছ মনে করে, এর চেয়ে হতাশার কিছু আর নেই। আমাদের পরিবারগুলো বুঝতে চায় না, পরীক্ষার ফলাফলই জীবনের শেষ কথা নয়। একজন মানুষ এতই বড়, এতই সম্ভাবনাময়ী যে, শুধু একটি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়ে তাকে বিচার করা যায় না। এটা অন্যায়। এটা নির্মম। অবশ্য খুব কম অভিভাবকই বুঝতে পারেন যে, পরীক্ষায় ভালো করতে না পারলেই সন্তান খারাপ বা কম মেধাবী হয়ে যায় না। যারা এটা বোঝে তাদের মনে অনেক সময় সান্ত্বনা জাগে এজন্য যে, এবার না হয় ও খারাপ করেছে, আগামীতে নিশ্চয় আশানুরূপ ফল করবে। অনেক সময় টাকার জোরে অনেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে চায়। অথচ তাদের বুঝা উচিত, টাকা দিয়ে বাঘ-সিংহের চোখ মিললেও জ্ঞান মিলে না।
আমার যেদিন ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্ট হলো সেদিন বাসার সবার খুব মন খারাপ। আমি পাস করেছি কিন্তু ভালো করতে পারিনি। মায়ের  চাহিদা ছিল ব্যাপক। সে
চাহিদার চাপ সামলানো ছিল খুব কষ্টকর।
পরিবারের বোঝা উচিত, একজন মানুষ পরীক্ষায় খারাপ করলেই তার জীবন ধ্বংস হয়ে যায় না। ইতিহাসে বহু গুণীজন পরীক্ষায় খারাপ করেও বড় হয়েছেন। তা ছাড়া একটি-দুটি পরীক্ষায় খারাপ করলেই যে জীবন বিনাশ হয়ে যাবে, সেটা ভুল ধারণা। পৃথিবীর অসংখ্য ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় খারাপ করে। তারা আবার ঘুরে দাঁড়ায়। শিক্ষাজীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর এই চিত্র খুবই সাধারণ। আমার শিক্ষাজীবনে বহু চড়াই-উতরাই গেছে। উত্থান-পতন গেছে। কখনো খারাপ করেছি, কখনো ভালো করেছি। কিন্তু থেমে থাকিনি কখনো। আমার অনেক বন্ধু, যারা আমার চেয়ে অনেক ভালো করেছে একসময়, তাদের অনেকেই ঝরে গেছেন। আমার চেয়ে খারাপ ফলাফল করে অনেক বন্ধু বহুদূর এগিয়ে গেছেন। আমার  দুই বন্ধু ক্লাস ফাইভে এবং এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি

পেয়েছিলেন। পড়ার টেবিলে বসলেই, মা  তাদের উদাহরণ টানতেন। অথচ কী দুর্ভাগ্য যে, তাদের একজন এসএসসি পাশের পরই ঝরে যায়। অন্যজন কোনো  বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি।পরীক্ষার ফল খারাপ হলেই যে তাদের সবাই খারাপ শিক্ষার্থী, এমন ভাবা ঠিক নয়। অনেক সময় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে প্রচুর পড়ালেখা করেও নানা কারণে ভালো রেজাল্ট করতে পারে না। আবার অনেকে অল্প পরিশ্রম করেও পরীক্ষায় অধিক নম্বর পায়। রেজাল্ট ভাল হলে সবাই তার প্রশংসা করে। আর রেজাল্ট খারাপ হলে সবার কাছ থেকে পাওয়া যায় তার উল্টোটা। ছেলেমেয়েদের ওপর প্রত্যাশার চাপ না দিয়ে তাদের সম্ভাবনাকে বের করার চেষ্টা করুন। সন্তানের পাশে থাকুন সাহস দিন। কেউ হয়তো স্কুল-কলেজের গতানুগতিক পরীক্ষায় ভালো করে না কিন্তু সে ছবি আঁকায় ভালো। গানে কিংবা নাচে ভালো। লেখালেখিতে ভালো। ভালো  খেলে কেউ হয়তো আজ পরীক্ষায় খারাপ করেছে কিন্তু দুই বছর পর হঠাৎ করে অনেক ভালো করা শুরু করবে। এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃতি আমাদের এভাবেই গড়েছে। পরীক্ষায় যারা ভালো করেছ তাদের অভিনন্দন। জীবনযুদ্ধে তোমাদের যেতে হবে আরও বহুদূর। সে জন্য প্রস্তুত হও। যারা খারাপ করেছ কিংবা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারনি, তাদের বলব— শক্ত হও। মন খারাপ না করে নতুন করে প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে যাও। যে তুমি আজ কাঁদছ, সে তুমিই আগামী পাঁচ-দশ বছর পর দেখবে বহুদূর চলে গেছ। আজ যে বন্ধু তোমার চেয়ে ভালো করেছে, তার চেয়ে হয়তো তুমি একদিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তখন নিজের কাছেই

বিস্ময় মনে হবে।  জীবনে আজ যা পাওনি, কাল তা পাবে। তবে সে পর্যন্ত ধৈর্য ধারণের শক্তি থাকতে হবে। ক্রমাগত চেষ্টা করে যেতে হবে। ধৈর্য অনেক বড় এক সম্পদ। আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তা ও চেষ্টা থাকলে মানুষ দূর থেকে দূরে চলে যায়। পরীক্ষার ফলাফল আর জীবনের সফলতার মধ্যে অনেক ফারাক থাকে।

সফলতার পেছনে সবাই ছুটে বেড়ায়। সফলতার সংজ্ঞা বলতে আসলে কী বোঝায়। অনেকেই ভালো রেজাল্টকে সফলতার মূলমন্ত্র বলে ধরে নেয়। কিন্তু বাস্তবে কী তাই। ভালো রেজাল্ট নিয়ে আপনি হয়তো যে অফিসে জয়েন্ট করলেন সেখানে সেই ব্যাকবেঞ্চার ছেলেটা বস হয়ে বসে আছেন। যে ছেলেটা ক্লাসের কারো সঙ্গে মিশতে পারতো না সেই হয়তো এখন সবাইকে মোটিভেশন দিয়ে বেড়ায়। বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও ধনী মানুষ সম্পর্কে জানতে গেলেই দেখা যায়, তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেননি, অনেকেই ভালো ফলাফল করা ছাত্র ছিলেন না। তাহলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় বড় কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশেও এমন অনেক সফল ব্যক্তি রয়েছেন যারা একাডেমিক ভালো না হলেও সফলতার শিখরে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিটা আসল নয়, কে কতটা জানে সেটাই আসল। জ্ঞানের পরিমাপ রেজাল্ট দিয়ে হয় না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ