গাজীপুর- ২ (টঙ্গী-জয়দেবপুর) আ. লীগের একক প্রার্থী রাসেল, বিএনপিতে একাধিক
গাজীপুর-২ আসন আওয়ামী লীগকে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ নামে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা পাঁচবার শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার ও তাঁর ছেলে আলহাজ্ব মো. জাহিদ আহসান রাসেল সংসদ সদস্য থাকায় আওয়ামী লীগ এখানে অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসংঘটিত। ক্ষমতাসীন দলটির বর্তমান সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি একক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে দাবি করছে দলের নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে রয়েছে টানা অনিশ্চয়তা। এ দৌড়ে সাবেক সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার এগিয়ে থাকলেও বিষয়টি ঝুলে আছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মনোনয়ন পাওয়ায়। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানায়, বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নে এগিয়ে আছেন। আবার স্বাস্থ্যগত কারণে দলীয় সিদ্ধান্তে মান্নান মেয়র নির্বাচন না করে সংসদে প্রার্থী হতে পারেন এমন কথাও বলে যাচ্ছেন দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।
এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্প্রতি দলে যোগ দেওয়া সাবেক স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া। অন্য দলগুলো এ আসনে নির্বাচনেও প্রার্থী হতে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুর ও টঙ্গী থানার ৩৫টি ওয়ার্ড এবং গাজীপুর সদর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গাজীপুর-২ সংসদীয় আসন। এটি জাতীয় সংসদের ১৯৫তম নির্বাচনী এলাকা। এ আসনের ভোটারসংখ্যা ৭লাখ ৭১ হাজার ১৭৯। ১৯৯১ সালে বিএনপি এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন-পরবর্তী সব কটি নির্বাচনে আসনটিতে জয়ী হয়ে আসছে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ও তার ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল বা আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ : ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসনে বিজয়ী হন জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আহসানউল্লাহ মাস্টার। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ৭ মে তিনি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও রাসেল বিজয়ী হন। তিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
আহসানউল্লাহ মাস্টার সংসদ সদস্য থাকাকালে এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেন। তিনি ছিলেন গরিব দুঃখী অসহায় সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল। বাবার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে উপনির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সে সময় বিরোধী দলে থাকায় তেমন উন্নয়নকাজ করতে পারেননি জাহিদ আহসান রাসেল। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলে তিনি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন। এলাকায় শুরু করেন ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে তাঁর হাত ধরে গাজীপুর শহরে ৫০০ শয্যার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, টঙ্গীতে ২৫০ শয্যার শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার হাসপাতাল ও শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম, বোর্ডবাজারে নার্সিং কলেজ, পুবাইলে ১০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসক সহকারীদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, পিটিআইতে আধুনিক শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার অডিটরিয়ামসহ বহু প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। এ ছাড়াও তার উন্নয়নের হাত থেকে গাজীপুর-২ আসনে এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই যেন তিনি একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ কনেনি। তাছাড়াও মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উপসনালয় ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বোর্ড বাজার এলাকার ৫টি গ্রামে বিদ্যুৎহীন থাকলেও তিনি সাব স্টেশন তৈরি ওই ৫টি গ্রামে বিদ্যুৎতায়নসহ প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করেছেন। ইজতেমা ময়দানের ব্যাপক উন্নয়ন, এলাকার প্রতিটি স্কুল-কলেজে বহুতল ভবনসহ সড়ক ও সেতু নির্মাণ করে তিনি বদলে দিয়েছেন গাজীপুর-২ আসনের চেহারা। তাঁর নেতৃত্বে এখন আওয়ামী লীগও আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। এসব কারণে একরকম অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে উঠেছেন জাহিদ আহসান রাসেল। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ওয়াজউদ্দীন মিয়াসহ দলের অনেক নেতাকর্মী জানায়, জাহিদ আহসান রাসেলের সবচেয়ে বড় গুণ বাবার মতোই তিনি সৎ নির্বিক ও আদর্শবান। অন্যায়কারীদের প্রশ্রয় দেন না। সব সময় এলাকায় থাকেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রয়োজনে সহজে তাঁকে কাছে পান। মানুষের বিপদ আপদ শুনলে তৃর্ণমূল বাড়ি বাড়ি ও ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাহিদ আহসান রাসেলই হলেন গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। এ আসনে জাহিদ আহসান রাসেল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন একরকম প্রায় নিশ্চিত।
বিএনপি : এরশাদের শাসনামলে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তিনি সমর্থন দেন এম এ মান্নানকে। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন এম এ মান্নান। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওই সময় তিনি নতুন নতুন স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ এলাকার প্রভূত উন্নয়ন করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পান হাসান উদ্দিন সরকার। টঙ্গীর প্রভাবশালী সরকার পরিবারের সদস্য হাসান সরকার একাধিকবার টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। এরশাদের শাসনামলে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিক্ষুব্ধ এম এ মান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় হন।
এছাড়াও গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের কার্যনির্বাহী সভাপতি আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন সরকার, তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে ব্যাপক গণসংযোগসহ নেতাকর্মীদের সুখ, দুঃখে তাদের পাশে থেকে নিরলশভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে গাজীপুরে বিএনপি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন। ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার। তাঁর বিজয়ের মাধ্যমে আসনটি বিএনপির হতছাড়া হয়। তারপর থেকে আর আসনটি দখলে নিতে পারেনি বিএনপি। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও একাদশ নির্বাচনে আসনটি উদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে দলটি।
নেতাকর্মীরা জানায়, ব্যাপক সমর্থন থাকার পরও শুধু অধ্যাপক মান্নান ও হাসান সরকারের বিরোধের জেরে দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ায় বিগত নির্বাচনগুলোতে বিজয়ী হতে পারেনি বিএনপি। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে দুজনের বিরোধ মিটে যায়। এক হয়ে নির্বাচনে কাজ করায় অধ্যাপক এম এ মান্নান মেয়র পদে বিজয়ী হন। তখনই ফয়সালা হয়েছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মান্নান মেয়র ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার সংসদ নির্বাচন করবেন।
মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন মান্নান। তাঁর বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা দেয় পুলিশ। তাঁকে একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ আছে। জেলে থাকা অবস্থায় তাঁকে দুই দফা বরখাস্ত করা হয়। আইনি লড়াইয়ে মুক্তি এবং পদ ফিরে পেয়ে আবারও মেয়রের চেয়ারে বসেন তিনি। এখন সিটি করপোরেশন ও সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় আবারও আলোচনায় এসেছে মনোনয়নের বিষয়টি। এম এ মান্নান ও আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকারের মধ্যে একজন মেয়র ও অন্যজন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও জেল-জুলুমের শিকার হওয়ায় অধ্যাপক এম এ মান্নানের প্রতি মানুষের এক ধরনের বিশেষ সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে আবারও মনোনয়ন দেওয়া হলে তাঁর বিজয় সহজ হতে পারে বলে ধারণা বিএনপি নেতাকর্মীদের। তবে সব কিছু নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর। এ আসনে বিএনপির হয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক প্রচার নেই কোনো প্রার্থীর। তবে ভেতরে ভেতরে সাংগঠনিক কার্যক্রম গোছাচ্ছেন দুজনই।
জাতীয় পার্টি : হাসান উদ্দিন সরকার বিএনপিতে চলে গেলে এলোমেলো হয়ে যায় গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির কার্যক্রম। পরে হাল ধরেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে দলীয় কার্যক্রম। কিন্তু সাবেক স্বাস্থ্যসচিব এম নিয়াজ উদ্দিন মিয়া গত বছর জাতীয়পার্টিতে যোগ দেওয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে জাতীয় পার্টি। বর্তমানে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০নং ওয়ার্ড পুবাইল এলাকার বাসিন্দা নিয়াজ উদ্দিন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। এলাকায় সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
জাতীয় শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন সিকদার জানান , এম নিয়াজ উদ্দিনের জাতীয়পার্টিতে যোগদানে দল আগের চেয়ে ব্যাপক গতিশীল হয়েছে। মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আর পছন্দ করে না। রংপুর সিটি ও গাইবান্ধার উপনির্বাচন তার প্রমাণ। গাজীপুর-২ আসনে আগামী নির্বাচনে মানুষ জাতীয় পার্টিকেই ভোট দিবে।
আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও মনোনয়ন প্রসঙ্গে নিয়াজ উদ্দিন বলেন, তিনি এ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন।

টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার
স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল
আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ
বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন
পপ তারকা টেইলর সুইফটই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গায়িকা
পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু 