বিজয় দিবসের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
সাগর কর্মকার:
আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস, বীরের জাতি হিসেবে বাঙালির আত্মপ্রকাশের দিন, পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে বাংলাদেশ নাম প্রতিষ্ঠার মাইলফলকের দিন।১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি সরকার এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের বিজয়ের এই দিনকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। ওই বছর থেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। গোটা জাতি আজ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গৌরবময় ৪৯তম বিজয় দিবস উদযাপন করছে।
জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার সাথে স্মরণ করবে সেইসব শহীদদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। স্মরণ করবে সেইসব বীর সেনানীদের যারা শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য প্রাণের মায়া ত্যাগ করে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। যেসব নরনারীর সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সম্মান জানানো হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট স্বাধীনতার দুটো অর্থ করে ছিলেন। প্রথমত, ক্ষুধা থেকে মুক্তি দ্বিতীয়ত, ভীতি থেকে মুক্তি। স্বাধীনতার প্রায় ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের জনগণ কি সেই মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করছে? একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বড় দিক হলো সব নাগরিকের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এখানে খাদ্যের সুষম বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য যদি স্বাধীনতার একটি পূর্বশর্ত হয় তাহলে এখন সহজে বলা যায়, বাংলাদেশের মানুষ কতটা খাদ্য নিরাপত্তা তথা খদ্যের স্বাধীনতা ভোগ করছে। বিজয় বাংলাদেশের মানুষের জন্য জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য শর্ত কি পূরণ করতে পেরেছে?
স্বাধীনতার দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে- ভীতিমুক্ত পরিবেশ। বাংলাদেশ প্রায় ২০০ বছর ব্রিটিশদের দখলে ছিল। ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশ ব্রিটিশদের দখলমুক্ত হয়। আরো ২৩ বছর পাকিস্তানের দখলে থাকে বাংলাদেশ। এই উভয় দখলদারদের আমলে বাংলাদেশ ভীতিমুক্ত ছিল না। রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন, জেল-জুলুম অব্যাহত ছিল। স্বাধীনতার অর্থ যদি হয়- ভীতি মুক্ত পরিবেশ তা হলে আমরা কি সেই ভীতি মুক্ত পরিবেশে বসবাস করছি?
১৯৭১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক শাসনে বর্ণনা দেখে আমরা বুঝতে পরব যে, বিজয়ের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি আমাদের কতটা পূর্ণ হয়েছে আর কতটা পূর্ণ হয়নি।একাত্তরের স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চাইলে প্রেরণা নিতে হবে সেই একাত্তরের ডিসেম্বরের চেতনা থেকে এবং বাহাত্তরে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিনটি থেকে। তা হলেই ১৬ ডিসেম্বর উদ্যাপন হবে সার্থক। এই দিনটিতে সরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হোক; কিন্তু বেশি যা দরকার তা হলো, একাত্তর-বাহাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের চেতনার আলোকে নিজেদের আলোকিত করা।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ইরানের আগামী সপ্তাহের মধ্যে কঠোর আঘাত হানা হবে-ডোনাল্ড ট্রাম্প
টাঙ্গাইল সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৬ মেট্রিকটন চাল ট্রাক সহ লুটের চেষ্টা
সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই-প্রধানমন্ত্রী
গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে পলাতক আসামীসহ ৩৩ আটক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ আততায়ীর গুলি.অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন
আগামী ১৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ ছুটি ঘোষণা
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ 