News Bangla 24 BD | টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার - News Bangla 24 BD
News Head

টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার


জাল-জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার এবং একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই টাঙ্গাইল জজ কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী। বার সমিতির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম রফিকুল ইসলাম রতন স্বাক্ষরিত বহিষ্কার সংক্রান্ত পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃত আইনজীবীরা হচ্ছেন- অ্যাডভোকেট এসএম পারভেজ শিমুল, অ্যাডভোকেট শুকুম উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট রাসেল রানা। এছাড়া অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট এসএম পারভেজ শিমুলকে ২১ দিনের জন্য এবং অ্যাডভোকেট শুকুম উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট রাসেল রানাকে ১৫ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা পত্র পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত আইনজীবীদের লিখিতভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

ইস্যুকৃত পত্রে বলা হয়, বিগত ২০২৫ সালের (৪ জুন) বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম পারভেজ শিমুল নাগরপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য নাগরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, পরে তিনি আসামিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মহির উদ্দিনের সহযোগিতায় দু’জন আসামির নাম বাদ দিয়ে আরজির প্রথম পাতায় আটজন আসামির নাম রেখে বাদীর স্বাক্ষর জাল করেন এবং তাতে আদালতের সিলমোহর ব্যবহার করেন। বিষয়টি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে এলে তিনি বার সমিতিকে অবহিত করেন। পরে তদন্ত শেষে বার সমিতি তাকে ২১ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।

অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট রাসেল রানা বিগত ২০২৫ সালের (২১ নভেম্বর) এবং অ্যাডভোকেট শুকুম উদ্দিন ২০২৬ সালের (২ জানুয়ারি) গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের পক্ষে নিজেরা স্বাক্ষর না করে তাদের মহুরী দিয়ে ওকালতনামা ও জামিনের দরখাস্তে স্বাক্ষর করিয়ে আদালতে দাখিল করেন। বিষয়টি বার সমিতির নজরে এলে তাদের শোকজ করা হয়। তবে তাদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় কার্যনির্বাহী পরিষদ তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পত্র প্রাপ্তির দিন থেকেই এই বহিষ্কারের সময় গণনা শুরু হবে।

এদিকে, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান মিয়াকে পত্র প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিগত ১৯৮৩ সালের (২৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতিতে যোগদান করেন। একই সঙ্গে ১৯৮৫ সালের (১৫ অক্টোবর) বাসাইল ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক পদে যোগ দেন এবং বিগত ২০০০ সালের (৬ জুলাই) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। আইন পেশার পাশাপাশি চাকরি করে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন ও বার সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইনজীবীদের এই বহিষ্কারের বিষয়টি অবহিত করতে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, শিশু ধর্ষণ ট্রাইব্যুনাল, স্পেশাল জজ আদালত, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, পারিবারিক আপিল আদালত, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ