ফারুক আহমদ, সিলেট: সিলেটে সুরমা নদীর তীরে ঐতিহাসিক কয়েকটি নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম নগরীর এক সময়ের প্রবেশদ্বার ‘কিন ব্রিজ’। সুরমা তীরের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে কিন ব্রিজ এলাকাকে সিলেট নগরীর বিনোদন ও সৌন্দর্যপিপাসুদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বিকেল হলেই অগণিত দর্শনার্থী ভিড় জমায় সুরমার বাঁধানো ও রেলিংঘেরা তীরে।
সুরমা পারে বেড়াতে আসা লোকজন নদীর পানিতে রুপালি চাঁদের খেলা দেখে। মুগ্ধ হয় ঐতিহ্যবাহী আলী আজমদের ঘড়িঘর, ঐতিহাসিক চাঁদনী ঘাট, শত বছরের পুরনো সারদা হল এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সিলেট সার্কিট হাউসকে এক জায়গায় দেখে। জানা গেছে, ২০০৫ সালে তত্কালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগ বদলে দিয়েছিল কিন ব্রিজসংলগ্ন সুরমা নদীর দু’কূলের চিত্র। সরকারের দুটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে কিন ব্রিজকে কেন্দ্র করে সুরমার দুই পারের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়। উভয় তীরে শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তীরের সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব পায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তারা নদীর দুই তীর মুড়ে দেয় বাহারি টালি দিয়ে। নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয় স্টেইনলেস স্টিলের রেলিং। লাগানো হয় বাগানবাতি। এই প্রকল্পে ব্যয় হয় ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
সুরমার উত্তর পারে ৬০০ ফুট জায়গাজুড়ে তৈরি
করা হয় প্লাজা গার্ডেন। তাতে যুক্ত হয় একটি সুদৃশ্য ফোয়ারা। ফুটপাত ও রাস্তা প্রশস্ত করা হয়। সুরমার দক্ষিণ পারে তীরঘেঁষে ফুটপাত প্লাজা, ড্রেন, মুক্তমঞ্চ, রাস্তা, গেট এবং পার্কিং এরিয়া গড়ে তোলা হয়। নান্দনিকতা বাড়াতে প্লাজা এলাকায় কয়েক ফুট অন্তর লাগানো হয় বনসুপারির গাছ। বসানো হয় ফুলের টব। ব্রিজের নিচের প্রশস্ত এলাকাজুড়ে গাছ লাগিয়ে সবুজের আচ্ছাদন তৈরি করা হয়। তার সঙ্গে ঐতিহ্যের গন্ধমাখা আদি স্থাপনা মিলে সুরমার তীর যেন হয়ে ওঠে সৌন্দর্যপিপাসুদের তীর্থস্থান।
প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় জমায় এখানে। নগরীর অভ্যন্তরে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার একমাত্র জায়গা বলে সেখানে যে কেবল স্থানীয়রাই আসে তা নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা সিলেটে বেড়াতে আসে, তারাও একবারের জন্য হলেও ঢুঁ মারে এখানে।
এদিকে সৌন্দর্যপিপাসুদের তীর্থস্থান সুরমা নদীতে ভাসমান রেস্তোরাঁ ‘সুরমা রিভার ক্রুজ’-এ এলাকায় বেড়াতে আসা মানুষের মধ্যে বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে সুরমা নদীর বুকে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করা রেস্তোরাঁটি সিলেটে প্রথম কোনো ভাসমান রেস্টুরেন্ট। কিন্তু দুঃখজনক হল, ইদানীং কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সুরমা তীরের সৌন্দর্য অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। তাছাড়া সুরমার তীরঘেঁষে চটপটির দোকান আর অবৈধ্য ট্রাক স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় এখন বিমুখ হচ্ছে সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ।
সিলেটের তরুণ সংগীতশিল্পী আহমেদ সাদ রিজবী সকালের খবরকে জানান, সময় পেলেই নির্মল আনন্দ উপভোগের জন্য কিন ব্রিজ এলাকায় ছুটে আসি। চটপটি, ফুচকা, চা খেতে খেতে শিল্প-সাহিত্য নিয়ে নানা আড্ডা চলে। নগরের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে এরই মধ্যে কিন ব্রিজ এলাকাটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই এটির সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে কর্তৃপক্ষের জরুরিভাবে পুনঃসংস্কার কাজ শুরু করা দরকার।
কিন ব্রিজ এলাকায় বেড়াতে আসা শিক্ষক অজয় কুমার রায় বলেন, ‘নদীর দুই তীরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অনেক গাছ লাগানো হয়েছিল; কিন্তু পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছ মরে গেছে এবং বাকিগুলো শীর্ণকায় অবস্থায় রয়েছে।
সিলেট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম জানান, সওজ নদীর তীরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছে; রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনে লোকবলের সঙ্কট রয়েছে। এরপরও যথাসম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি হলে নদী তীরের সৌন্দর্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। সকালের খবর

‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ’
গাজীপুরের শ্রীপুরে আনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর
শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ: ডিএসসিসি প্রশাসক
জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ার আহ্বান এমপি সেলিমুজ্জামানের 