News Bangla 24 BD | মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক এখন ভিক্ষুক ! এ লজ্জা কার ? - News Bangla 24 BD
News Head
 ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে-ইরানের স্পিকার পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড উদ্বোধন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাক এখন ভিক্ষুক ! এ লজ্জা কার ?


ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
১৯৭১ থেকে ২০১৬। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। সেদিনকার সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালী এখন ১৭ কোটি ছুই ছুই। উন্নয়ন আর উৎপাদনে বদলে গেছে বাংলাদেশ। সব কিছুতে আধুনিকতার ছাপ। কিন্তু পাল্টায়নি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের ভাগ্য। বাংলা জয় করা এই মুক্তিযোদ্ধা অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

বয়সের ভারে কাজ করতে না পারায় তার পেশা এখন ভিক্ষা। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়ায় ভাগ্যে জোটেনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ী মাগুরা সদর উপজেলা নিজনান্দুয়ালি গ্রামে। তিনি যুদ্ধ করেছেন শৈলকুপা অঞ্চলে। জীবিকার তাগিদে ভিক্ষা করেন ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামে। সম্প্রতি ভিক্ষা করতে দেখা গেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর বাজারে।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতের বনগাঁ কাঠাল বাগান এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী মন্টুর নেতৃত্বে শৈলকুপার আলফাপুর, কুমিরাদহ, আবাইপুর, এ বাগনী এলাকায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার সামনে অনেক সহযোদ্ধান মৃত্যু দেখেছেন। দেখেছেন অনেক রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা সাজতে।

অথচ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর পুর্তি হলেও আজও তার স্বীকৃতি মেলেনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তার পরিচয় পত্র দিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী। শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী তার সনদপত্র দিয়েছেন। মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের ১২৫ নং তালিকায় তার নাম থাকলেও স্বীকৃতি পাননি তিনি।

সরকারী সহযোগিতার জন্য তিনি বার বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিলেও তার কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তো দূরের কথা, বয়স্ক ভাতাও জোটেনি তার কঁপালে। অসুস্থ্য আব্দুর রাজ্জাক একদিন ভিক্ষায় বের হতে না পারলে অভুক্তই থাকতে হয় সারাদিন। চিকিৎসার অভাবে প্রায়ই রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।

রাজ্জাক সম্পর্কে শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী মন্টু বলেন, আব্দুর রাজ্জাক আমার নেতৃত্বে বেশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার স্বীকৃতি মেলেনি। আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ী পার্শবর্তী জেলায় হওয়ার কারণে আমি তার জন্য কিছুই করতে পারছি না।

এ ব্যাপারে মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নবুয়াত হোসেন মোল্লা বলেন, আব্দুর রাজ্জাককে সেভাবে আমি চিনি না। তিনি হয়তো অন্য এলাকায় যুদ্ধ করেছেন। মাগুরা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড হয়তো তার বিষয়ে জানতে পারেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ