News Bangla 24 BD | নারী পুলিশের সাইকেল যাত্রার ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল - News Bangla 24 BD
News Head
 গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে গাজীপুরে গণমিছিল ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ’ গাজীপুরের শ্রীপুরে আনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অসুস্থ নজরুলসংগীতের বরেণ্য শিল্পী শবনম মুশতারীর পাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ট্রেনের ছাদের যাত্রীরা টয়লেট করে কিভাবে? বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া সুন্নত নাকি বিদআত? এআই নিয়ে কর্মীদের নতুন তথ্য দিলেন জুকারবার্গ শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ: ডিএসসিসি প্রশাসক জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নারী পুলিশের সাইকেল যাত্রার ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল


রাজধানীতে দায়িত্ব পালন করা এক নারী পুলিশ সদস্যের সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কনস্টেবল লুৎফা বেগমের সাইকেলে করে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার ওই ছবি সোমবার (১৩ মার্চ) সকালে ফেইসবুকে পোস্ট করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোশতাক আহমেদ।

ছবিটি ফেইসবুকে পোস্ট করে সেখানে মোশতাক আহমেদ লিখেছেন, পু‌লি‌শে প‌রিবর্তন, বি‌স্মিত অ‌ভিভূত আ‌মি!! : আজ সকা‌লে আ‌মি অ‌ফি‌সে আসার সময় মগবাজার মো‌ড়ে দেখলাম একজন নারী কনস্টবল সাই‌কেল চা‌লি‌য়ে অ‌ফি‌সে যা‌চ্ছেন। তার কা‌ধে ব‌্যাগ, মাথায় হেলমেট। আ‌মি গা‌ড়ি টান দি‌য়ে সাম‌নে এ‌সে কথা বললাম। নাম লুৎফা, শিল্পাঞ্চল থানায় দা‌য়িত্ব পালন ক‌রেন। আবাসস্থল থে‌কে কর্মস্থল দূ‌রে থাকায় সাই‌কে‌ল চা‌লি‌য়ে তি‌নি কর্মস্থ‌লে যা‌চ্ছেন। আমার ষোল বছ‌রের চাক‌রি জীব‌নে আ‌মি বাংলা‌দে‌শ পু‌লি‌শে বহু ইতিবাচক প‌রিবর্তন দে‌খে‌ছি। কিন্তু ব্যাগ কা‌ধে হ্যাল‌মেট পরে আমার এক নারী সহকর্মীর কমর্স্থ‌লে গমন স‌ত্যি আমা‌কে ‌বি‌স্মিত অ‌ভিভূত ক‌রে‌ছে। আ‌মি বিশ্বাস ক‌রি লুৎফার এরূপ কর্মস্থ‌লে গমন বাংলা‌দেশ পু‌লি‌শের প‌রিবর্তন ও উন্নয়‌নের এক অবিস্মরনীয় মাইলফলক। তার সহকর্মী হ‌তে পে‌রে আ‌মি গ‌র্বিত। মোস্তাক আহ‌মেদ, ডি‌সি গুলশান, ঢাকা মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লিশ।

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কনস্টেবল লুৎফা জানান, সাইকেল চড়েই অফিস, কোর্টসহ অফিসিয়াল ডিউটিতে যাই, ঢাকায় অনেক যানজট দেখে বেশ কিছুদিন ধরে সাইকেলেই যাতায়াত করছি।”

নিজেকে একজন সাধারণ কৃষকের মেয়ে হিসেবে বর্ণনা করে এ পুলিশ সদস্য জানান তার সংগ্রামী জীবনের কথা।“ছোট বেলা থেকেই সংসারে অনেক অভাব অনটন ছিল, আমি সব সময় ভাবতাম কী করা যায় নিজে থেকে। বেকারত্বকে সবসময় ঘৃণা করে এসেছি, একটা দিনও বেকার থাকতে চাইনি। নবম শ্রেণী থেকেই টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে চালিয়েছি।”

এভাবেই ২০০৪ সালে সিলেটের বোয়ালপুর বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক আর ২০০৬ সালে বালাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করি।

“২০০৭ সালে যখন শুনলাম পুলিশের সার্কুলার দিয়েছে, আমার বাবা-মা কেউ রাজি ছিলেন না। মেয়েরা পুলিশে চাকরি করবে- তা আমাদের এলাকায় কেউ কল্পনাও করতে পারত না।”

শেষ পর্যন্ত বড় ভাই লুৎফাকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যান। পরীক্ষায় টিকেও যায়। ২০০৭ সালে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং কেন্দ্রে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকা মহানগরীতে পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দেয়।

“জীবনে শত বাধা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকিনি। কার সাহায্য কিংবা দয়া চাইনি, হাত পাতিনি কারও কাছে। সবসময় চেষ্টা ছিল নিজে থেকে কিছু একটা করার। পুলিশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন লুৎফা বেগম।

২০০৮ সালের ৪ মার্চ পুলিশে নিয়োগ পাওয়া এই তরুণীর বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ থানায়। এখন তিনি থাকছেন রাজারবাগে, পুলিশ হোস্টেলে। চাকরির পাশাপাশি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ