১৩ জেলার মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ
যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, ধরলা, ঘাঘটসহ ৮ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এতে দেশের ১৩ জেলার ৪৫টি উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধাসহ বন্যার্ত ৯ জেলায় খাবার, সুপেয় পানি ও ওষুধের জন্য হাহাকার চলছে। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় ৩ থেকে ৫ দিনেও কেউ ত্রাণের দেখা পাননি। যেখানে পৌঁছেছে, সেখানেও চাহিদার তুলনায় পরিমাণ অপ্রতুল। সামান্য পরিমাণে ত্রাণের চাল পেলেও তা চারদিক পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করার মতো শুকনো স্থান নেই। ফলে অনেকেরই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে।
দুর্গত মানুষ ত্রাণের নৌকা দেখলেই পানি ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিমাণ অল্প হওয়ায় সবার হাতে পৌঁছায় না খাদ্যসামগ্রী। ফলে অনেকেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছেন।
এ অবস্থায় সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতি করছেন বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বিপুলসংখ্যক গৃহহীন মানুষ বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন উঁচু জায়গায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে বন্যায় দুই জেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে এক কিশোরসহ দুইজন মারা যায়। বানের পানিতে ভেসে আসে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ। এ ছাড়া জামালপুরে সাপের কামড়ে মারা গেছেন এক যুবক। পাঁচ জেলায় ৩৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। জামালপুরে বানভাসি মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ডাকাত আতঙ্ক।
সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা সাড়ে ৬ লাখ। ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের জন্য ৪ হাজার টন চাল, এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি আইটেম সমৃদ্ধ শুকনো খাবারের সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেটও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে বিতরণের কোনো মিল নেই। যে কারণে দুর্গত মানুষ চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ পাচ্ছেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই জানান, চাহিদা অনুযায়ী তারা ত্রাণ পাচ্ছেন না। ফলে দুর্গত মানুষকে তারা তেমন কিছু দিতে পারছেন না। আশ্রয় কেন্দ্র, বাঁধ বা স্থানীয় স্কুলে আশ্রয় নেয়া মানুষ খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করছেন।
তবে ত্রাণের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ রয়েছে। ত্রাণ না পেয়ে বন্যার্তরা ফিরে যাচ্ছেন- এমন অভিযোগ নাকচ করে ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, বিষয়টি সত্য নয়। পত্রপত্রিকায় যা প্রকাশিত হচ্ছে, তা সঠিক নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি পরিবারে বাবা ত্রাণ নিয়ে তার ছেলেকে পাঠাচ্ছেন। তালিকা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। কারণ একই পরিবারের সবাইকে তো ত্রাণ দেয়া যাবে না।
সরকারি এ বরাদ্দের পুরোটা এখনও বিতরণ করা হয়নি। সিলেট, মৌলভীবাজার, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট- এ ছয় জেলায় আড়াই হাজার টন চাল বরাদ্দ করা হলেও বুধবার পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০ টন। ছয় জেলার নগদ অর্থের ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সবই বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।

টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার
স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল
আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ
বাণিজ্যিকভাবে ব্রেইন চিপ ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে চীন
পপ তারকা টেইলর সুইফটই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গায়িকা
পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু 