জাতীয় সংসদ নির্বাচন (গাজীপুর-২) নির্বাচনী হাওয়ায় রাসেলের বিকল্প নেই
টঙ্গী : গাজীপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচণকে কেন্দ্র করে এ আসনে চলছে উত্তাপ। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় এবারও এগিয়ে আছেন তরুণ ও যুব সমাজের অহংকার অত্র এলাকার মাটি ও মানুষের নেতা তিন বার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল। জনশ্রুতি রয়েছে রাসেলের বিকল্প নেই। একমাত্র তিনিই হতে পারেন তার বিকল্প।
এছাড়াও শিল্প অধ্যুষিত এই আসনের নির্বাচণকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়ায় দেশের জাতীয় রাজনীতিতে। এই আসনে বড় বড় দলগুলোর বিশেষ নজর থাকে। আগামী নির্বাচনে এই আসনে নৌকাকে বিজয়ী করে দলীয় মর্যাদা রক্ষার লড়াই আওয়ামীলীগের সামনে। অন্যদিকে বিএনপি আসনটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া চেষ্টা করে থাকে বরাবরই এবারও করবে।
এই আসনের জনপ্রিয় সৎ ও আদর্শের প্রতিক হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত পরপর তিন বারের এমপি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল। তিনিও তার সততা মেধা প্রজ্ঞা আর সাংগঠনিক দক্ষতায় তিনবার এই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচানে বিজয় চিনিয়ে এনে এলাকার উন্নয়ণ ধারা অব্যাহত রেখেেেছন। ফলে চতুর্থ বারের মতো এবার এলাকার সাধারণ ভোটারগন চায় রাসেলের বিজয়। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, উৎসাহ, উদ্দিপনা আর এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণ এবং ধর্ম, সমাজ ও নারীর ক্ষমতায়ন, সংস্কৃতির প্রসার ও এলাকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক নিমূর্লে জাহিদ আহসান রাসেলের কঠোর মনোভাব ও সাহসী কর্মকান্ডই তার বিজয়কে খুব সহজে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে ধারণা এলাকাবাসীর। তাছাড়া বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের একাধিক প্রার্থীর প্রচার প্রচারণাও আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট বলেই মনে করছেন স্থানীয় বোদ্ধা মহল।
তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। গাজীপুর সদর হাসপাতালকে ৫০ থেকে ৫০০ শয্যায় পরিণত করেছেন। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ৫০ থেকে ২৫০ শয্যায়। গাজীপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নার্সিং কলেজ নির্মাণ। এয়ারপোর্ট থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ২০৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ টি ফ্লাইওভার এবং ৮ লেনের রাস্তর নির্মাণ কাজ চলমান। ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে টঙ্গীতে নৌ-বন্দর নির্মাণ ও তুরাগ নদীর দুই পাড় বাঁধাই এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণ, টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার স্টেডিয়াম নির্মাণ, গাজীপুরে সাড়ে ৫ কোটি টাকায় পাবলিক লাইব্রেরী নির্মাণ, ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নির্মাণ কাজ চলমান, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ ১১০ কোটি টাকার কাজ চলমান এবং টঙ্গী ও জয়দেবপুরে অসংখ্য খেলার মাঠ, ব্রিজ-কালভার্ট এবং এলঅকার প্রতিটি স্কুল-কলেজের ভবন ও অডিটোরিয়াম নির্মাণ করেছেন।
জানা যায়, বিএনপি জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ৭ মে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে আর্ন্তজাতিক জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তার বড় ছেলে মো. জাহিদ আহসান রাসেল আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন। সেই থেকে আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে। আগামী নির্বাচনেও তিনিই এই আসনে নৌকার হাল ধরছেন এটা নিশ্চিত। তার সামনে এখন টানা চতুর্থ জয়ের হাতছানি।
৩৫টি ওয়াড নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন। তার মধ্যে কাউলতিয়া ইউনিয়ন, গাজীপুর সদর, ক্যান্টনমেন্ট ও টঙ্গী এলাকা নিয়ে গঠিত গাজীপুর-২। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার এই আসনে। সাত লাখের অধিক ভোটারের আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
২০১৪ সালে ৭ মে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার এমপিকে হত্যার পর উপনির্বাচনে বিএনপির অধ্যাপক এমএ মান্নানকে হারিয়ে বিজয়ী হন মো. জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জয়ী হন রাসেল।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাথী জাহিদ আহসান রাসেল সেই সময়কার তরুণ নেতা মো. জাহিদ আহসান রাসেল জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অত্র এলাকায় আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করেন নতুন আঙ্গিকে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলঅকার সাধারণ ভোটারগন নিজ নিজ উদ্যেগে আবারো তাদের প্রিয় নেতা রাসেলকে বিজয়ী করতে নির্বাচণী বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী অনেকটাই চূড়ান্ত। তিনি জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।
সাধারণ ভোটারগন জানান, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি হওয়ার পর থেকে গাজীপুরে মাদক ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে। শত শত গরীব মানুষকে বিনা পয়সায় স্কুল-কলেজ, মিল-কারখানায় ও পুলিশে চাকরি দিয়েছেন। তাই গাজীপুর-২ আসনের উন্নয়নে এমপি রাসেলের কোনো বিকল্প নেই।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জাহিদ আহসান রাসেল এমপির চাচা মো. মতিউর রহমান মতি জানান, গাজীপুর ২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী জাহিদ আহসান রাসেল। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে পুনরায় বিজয়ী করবে।
এব্যাপারে জাহিদ আহসান রাসেল এমপির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এপ্রতিনিধিকে জানান, ‘আমার বাবা মানুষকে ভালোবাসতেন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও জনগণের সেবা করাই ছিল তার স্বপ্ন। বাবার মৃত্যুর পর এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থনে পরপর তিন বার এই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছি। বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দেব ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকার। চলতি বছর অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাজহারুল আলম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি হালিমুজ্জামান, মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জসিম ভাট, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হাওলাদার, গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সরাফত হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হান্নান মিয়া। তবে এদের অধিকাংশই নাশকতার বিভিন্ন মামলায় পলাতক রয়েছেন। আসনটিতে মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদ ছাড়া অন্য কোন নেতার দৃশ্যমান প্রচার প্রচারণা দেখা যায়নি এখনও।
এব্যাপারে হাসান উদ্দিন সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছি। সে হিসেবে আমিও একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে দল যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে মনোনয়ন দেবেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে নির্বাচিত করবো। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন। অথচ বিএনপি নেতারা ঘর থেকে বের হলেই মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ও এরশাদের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এম এম নিয়াজ উদ্দিন, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আর্মি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুব আলম। তবে জাতীয় পার্টি মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করলে দলটি আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

জিলাপিতে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ ব্যবহার: মির্জাপুর বাজারের স্বপন মিষ্টান্নে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা
দালালদের নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর মহানগর ভূমি অফিস, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই
গাজীপুরে বিদেশী মদ সহ ২ জন গ্রেফতার
অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার আহ্বান – মাহমুদুর রহমান মান্না।
স্মৃতিতে গাজীপুর ৪ ডিসেম্বর ২০১৩
আসন্ন উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত বিএনপির
জিম্মি থাকা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ মুক্ত
চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 