News Bangla 24 BD | কালীগঞ্জে শ্বাসরোধে শিশু হত্যা, কেবিনেট ড্রয়ারে লাশ! - News Bangla 24 BD
News Head
 ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে-ইরানের স্পিকার পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড উদ্বোধন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই-সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার স্কুলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার-শিক্ষামন্ত্রী সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান রদবদল আজ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো রেশনিং থাকছে না-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

কালীগঞ্জে শ্বাসরোধে শিশু হত্যা, কেবিনেট ড্রয়ারে লাশ!


কালীগঞ্জ প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে আহনাফ হোসেন আদিল নামের ৩ বছরের এক শিশুকে গলা টিপে শ্বাসরুধে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদেন্তর জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের মোয়াজ্জিনকে আটক করা হয়েছে। নিতহ, আটক ও ময়নাতদন্তের বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক।
নিহত আহনাফ হোসেন আদিল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার দশালিয়া গ্রামের মুফতি জুবায়ের আহম্মেদ শাহিনের একমাত্র ছেলে। আদিলের বাবা কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের মরাশ বাগে জান্নাত আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল এবং একই মাদ্রাসার মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে গত ৫ বছর ধরে কর্মরত আছেন।
আটককৃতরা হলেন, মো. জুনায়েদ আহমেদ (৩০) হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে ও মো. খাইরুল ইসলাম (২২) একই এলাকার জফু মিয়ার ছেলে। জুনায়েদ মরাশ বাগে জান্নাত আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক ছিলন। অন্যদিকে খাইরুল ছিলেন মাদ্রাসার মসজিদের মোয়াজ্জিন।
নিহতের বাবা বলেন, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মোয়াজ্জিন মো. খাইরুল ইসলামের একটি মোবাইল ফোন চুরি যায়। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে চুরি যাওয়ার মোবাইল উদ্ধারের বিষয়ে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। কিন্তু পরে জানা যায় ওই মোবাইল মাদ্রাসারই শিক্ষক মো. জুনায়েদ আহমেদ চুরি করেছে। বিষয়টা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং চর থাপ্পর দেই। এ ঘটনার একদিন পর আমার ছেলে বুধবার বিকেলে মাদ্রাসা মাঠে খেলতে যাওয়ার পর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আশপাশে খোঁজাখুজি করে মসজিদের মাইকে নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়। তারপরও সন্ধান মিলছিল না। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। কিন্তু শিক্ষক মো. জুনায়েদ আহমেদের কক্ষের চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় জোরপূর্বক চাবি আদায় করে কক্ষে প্রবেশ করা হয়। এ সময় তার কক্ষের ওয়াল কেবিনের একটি ড্রয়ার থেকে আদিলের লাশ উদ্ধার করা হয। উপস্থিত সকলের সামনে জুনায়েদ এবং খাইরুল খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। কমিটির সহায়তায় থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার ও ওই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মাদ্রাসা শিক্ষক জুনায়েদ ও মাদ্রাসার মসজিদের মোয়াজ্জিন খাইরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক জানান, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। ওই দুইজন থানায় আটকও আছে। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ